Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সাংবাদিকতায় অপেশাদারিত্ব ও সখিনার ভাগ্যবিড়ম্বনা


১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৬:৩৬  পিএম

নার্গিস তানজিমা

বহুমাত্রিক.কম


সাংবাদিকতায় অপেশাদারিত্ব ও সখিনার ভাগ্যবিড়ম্বনা

গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়ে থাকে। সমাজ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ছিটকে পড়া ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষদের জন্য এই গণমাধ্যমই পাশে দাঁড়ায়। শুরুতে সমাজসচেতন মানুষদের মাধ্যমে ঠাঁই পাওয়া তেমনি একজন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির সখিনা বিবি। তাঁর অসহায়ত্বে কথা সকলের গোচরে আনে এই গণমাধ্যমই। 

সংবাদমাধ্যমে মুদ্রিত সেই খবরে বৈরি ভাবাপন্ন সমাজপতিরা যেমন নড়েচড়ে বসেন, তেমনি সহায়তার হাত বাড়ায় স্থানীয় প্রশাসনও। প্রশাসনের ভাবনাচিন্তায় দুই শিশুসন্তান নিয়ে স্বামী গৃহ থেকে বের করে দেওয়া সখিনার একটি গতিও হয়েছিলো। প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যবস্থাপনায় রাজ্যের হলিদিয়ার একটি সরকারি হোমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও মেলে ওই নারীর। মাথাগোঁজার ঠাঁই না পেয়ে মুর্শিদাবাদের চোয়ার সুভাষ রায়চৌধুরীর গৃহে আশ্রিতা সখিনা যেন হাতে আসমান পেয়েছিলো। 

সখিনার এমন নির্ভাবনার উপলক্ষ্য যখন উপস্থিত তখন নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি এই নারী। গণমাধ্যমকর্মীদের অপেশাদারিত্ব ও ভুল খবরে নতুন এক বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি। কেবলমাত্র অনুমানির্ভর তথ্যে ভর করে প্রকাশিত এক খবরে সখিনার অনিশ্চিত জীবনের অনিশ্চয়তা আরও প্রকট হয়ে উঠলো। 

গতকাল শনিবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিবারের নিকটজনদেরসহ হলদিয়া গান্ধী আশ্রমে পাঠানো হয়েছিলো সখিনাকে। সেদিন ভোরে দুর্বল শরীর নিয়ে ৩০০ কিলোমিটারে পথ পাড়ি দিয়ে বেলা দ্বিপ্রহরে সেই হোমে পৌছেও যান তিনি। আইনজীবী ও সমাজসেবী হিসেবে প্রশাসনের অনুরোধে সেই যাত্রায় আমিও সঙ্গী হই এই নারীর।

হোম কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তায় মুগ্ধ সখিনা ও তার সন্তানেরা তাদের নতুন আশ্রয় প্রাপ্তিতে যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন। হোমের স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ তাদের চমৎকৃত করে। আসন্ন পূজার ছুটিটা আশ্রয়দাতা পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে মনোরম এই নিবাসে ঠাঁই নেওয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানায় সখিনা। কর্মকর্তারা এতে সম্মতি জানিয়ে দেন। সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ফের চোয়ার পথে যাত্রা করেন তিনি। 

দীর্ঘযাত্রায় ক্লান্ত সখিনা আশ্রিতগৃহে ফেরেন। কিন্তু বেলা শুরু না হতেই নতুন বিড়ম্বনায় তিনি। নিরাশ্রয় সখিনার বক্তব্যসহ শীর্ষ দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে ‘হোমের পরিবেশ অপছন্দ, গ্রামেই ফিরলেন সখিনা’।  এমন খবরে যেন বাজ পড়লো তাঁর মাথায়। কখন তিনি এই মন্তব্য করলেন? কাকেই বা জানালেন হোমের পরিবেশ অপছন্দের কথা! বিপাকে পড়া প্রশাসন ও হোমের কর্তাদের ফোন, কেন এমন খবর? তাদের যে সখিনা এমন কিছুই বলেননি!

আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ‘‘গ্রামের সেই সংস্কার মুছতে না পারলেও সখিনার ‘ব্যবস্থা’ করতে তাই হলদিয়ার একটি সরকারি হোমে তাঁকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল জেলা প্রশাসন। শনিবার সেই হোমে গিয়ে অবশ্য পছন্দ হয়নি সখিনা বিবির। ঠিক ছিল, সখিনার সঙ্গেই হোমে থাকবেন কাকলিও। তবে সখিনা বলছেন, ‘‘দু’টো বাচ্চাকে নিয়ে এই পরিবেশে থাকা যায়! তাই পুরুত মশাইয়ের কাছেই আপাতত ফিরে চললাম।’’ 

যোগাযোগ করা হলো পত্রিকাটির বহরমপুর ও হলদিয়ার প্রতিবেদকদের সঙ্গে। কোথায়, কাকে এমন অভিপ্রায়ের কথা জানালেন সখিনা? প্রতিবেদকরা পরস্পরের ওপর দায় চাপিয়ে ক্ষান্ত হন, কেউবা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় করেন। কিন্তু এই অপেশাদরিত্বের কারণে নিরাশ্রয় সখিনার ভাগ্যাকাশে ফের যেন কালোমেঘের ঘনঘটা, অনিশ্চয়তা দেখা দিলো এর সদুত্তর কে দিবে?

লেখক: আইনজীবী ও সমাজকর্মী, বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ। 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।