Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১০ কার্তিক ১৪২৭, রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

রেলওয়ের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভাড়া ও বিদ্যুৎ সংযোগে অর্থ লুটছে চক্র


১৯ জুলাই ২০২০ রবিবার, ০৮:৪১  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


রেলওয়ের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভাড়া ও বিদ্যুৎ সংযোগে অর্থ লুটছে চক্র

মৌলভীবাজার: সিলেট-আখাউড়া সেকশনের কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের উত্তর ও দক্ষিণ কলোনিতে পরিত্যক্ত প্রায় শতাধিক কোয়ার্টার অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। কোয়ার্টারসমুহে অবৈধ বিদুৎ ও পানির সংযোগ দেয়া হয়েছে। রান্নার কাজে এসব বাসায় ব্যবহার করা হয় বৈদ্যুতিক হিটার বা চুলা। কোয়ার্টার ভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিলের নামে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব।

সরেজমিন জানা যায়, শতাধিক বাসায় অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ এবং বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহারে অতিরিক্ত লোড পড়ে স্টেশন এলাকায় স্থাপিত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের ওপর। অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ট্রান্সফরমারটি বিকল হলে তিনদিন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা স্টেশন এলাকা। অবৈধভাবে দখল করা রেলওয়ে কোয়ার্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বলে বিদ্যুতের হিটার চুলা। কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত অসাধু কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ ও কোয়ার্টার থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুলাউড়া রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, লাইনম্যান রিয়াজুর রহমান খোকন, জহির মিয়া ও খলিলুর রহমানের যোগসাজষে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এদের সমন্বয় করেন কুলাউড়া জংশন স্টেশনে কর্মরত রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) জুয়েল হোসেন।

রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই চক্র প্রতি মাসে লাখ টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল উত্তোলন করে। এ টাকার একটি বড় অংশ আইডাব্লিউ জুয়েল হোসাইনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পকেটে যায়। তাছাড়া রেলের খালি কোয়ার্টারগুলোও ভাড়া দেয় এ চক্র। শতাধিক পরিত্যক্ত কোয়ার্টার প্রতিটির মাসিক কমপক্ষে দুই হাজার টাকা হারে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এসব অবৈধ বাসায় চলে রাত-বিরাতে মদ, জুয়া, পতিতা বৃত্তিসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। রেস্ট হাউসের অস্থায়ী স্টাফ টিটুর মাধ্যমে ভাড়া বাবদ মাসে এসব বাসা থেকে দু’লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়। মাস শেষে আয়কৃত টাকা থেকে একটি ভাগ চলে যায় কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাছে। ফলে এসব বিষয় তারা জেনেও না জানার ভান করেন।

কুলাউড়া পরিত্যক্ত রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ কলোনীর বাসিন্দা রনি মিয়া, জাহানারা বেগম, রহিমা বেগম, সীমা বেগম, বদরুল হোসেন বৈধভাবে আছেন দাবি করে বলেন, প্রতিমাসে জহির মিয়া ও রিয়াজুর রহমান খোকনের কাছে মাসিক ৫শ’ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল দেই। আগে আব্দুর রহিম এই বিল উত্তোলন করতেন।

সূত্র আরও জানায়, পরিত্যক্ত প্রায় শতাধিক কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে বৈদ্যুতিক হিটার জ্বালানো হয়। ফলে শতাধিক বাসা থেকে মাসে লক্ষাধিক টাকা অবৈধ বিল উত্তোলন করেন এই বিভাগের ইলেকট্রিক লাইনম্যান রিয়াজুল। অথচ প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে কুলাউড়া স্টেশনে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার টাকা বিল ভর্তুকি দেয়া হয়। করোনাভাইরাসে লকডাউনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আগে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন একটি প্রতিনিধি দল কুলাউড়া স্টেশন পরিদর্শনে এলে রেলওয়ের অবৈধ বৈদ্যুুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু সেই বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় দিতে গ্রাহকদের কাছে ফের অর্থ দাবি করেন ইলেকট্রিক লাইনম্যান রিয়াজুল।

এতে পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের হামলার শিকারও হন রিয়াজুল। বিষয়টি জেনেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কুলাউড়া স্টেশনের পানির ট্যাঙ্ক থেকে রেলস্টেশনের বিভিন্ন দোকানে ও পরিত্যক্ত বাসায় টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়েছে অবৈধ পানি সংযোগ লাইন। অথচ স্টেশনের বাথরুমে পানির সংযোগ না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) জুয়েল হোসেন কুলাউড়া জংশন স্টেশনে নিজের আধিপথ্যের জন্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যোগসাজশে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় নির্বিঘেœ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ বিষয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। একটি প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অভিযোগ তুলে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী কুলাউড়া (আইডাব্লিউ) মো. জুয়েল হোসাইন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকায় ২৫০টির মতো কোয়ার্টার এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি বরাদ্দ দেয়া আছে। বাকি একশ’টি কে বা কারা ব্যবহার করছে আমি জানি না। তিনি জানান, আমি বাসা বাড়ি মেরামতের দায়িত্বে আছি। ভাড়া দেয়ার বিষয়টি আমার কাজ নয়। যদি অবৈধভাবে কেউ কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্যুতের বিষয় দেখা আমার ব্যাপার না, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন আছে তারা দেখে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান (০১৭১১-৫০৫৩৮৩) এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন। পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই জানান, রেলের জায়গায় যেসব অবৈধ বস্তি ও কোয়ার্টার রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চলছে। তাছাড়া অবৈধভাবে যারা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে এবং নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ