Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোর জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষায় সরাসরি টাকা নেয়া হচ্ছে 


২২ জুলাই ২০২০ বুধবার, ১১:৪২  পিএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, যশোর

বহুমাত্রিক.কম


যশোর জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষায় সরাসরি টাকা নেয়া হচ্ছে 

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্যাথলজি, এক্সরে, আলট্রাসোনা ও ইসিজি পরীক্ষার সরাসরি টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে গ্রাহকদের। এ সময় টাকা জমার রশিদ দেয়া হচ্ছে না। সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিলে পরীক্ষা নিরীক্ষায় অহেতুক বিড়ম্বরার সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এছাড়া অপারেশন থিয়েটার ও সার্জারী ওয়াল্ডে অপারেশনের সময় সরকারি ঔষুধপত্র থাকলেও রোগীদের হাতে স্লিপ ধরিয়ে বাইরে থেকে কেনা হচ্ছে। পরে সরকারি ঔষুধপত্র দিয়ে রোগীদের অপারেশন করে রোগীর স্বজনদের কেনা মালামাল ও ঔষুধপত্র বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য টাকা আদৈও হাসপাতালে জমা হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি, এক্সরে, আলট্রাসোনা, ইসিজি পরীক্ষার জন্য সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের কাছে জমা দিয়ে পরীক্ষা করানো হতো। কিন্তু হাসপাতালের অসাধু কর্মকর্তারা ক্যাশ কাউন্টারের স্লিপ নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরীক্ষা দেরি এবং অহেতুক জামেলা করতো। এরপর তারা সরাসরি টাকা জমা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান এবং কর্মকর্তারা সরাসরি তাদের কাছে টাকা দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়। সেই থেকে প্রতিদিন রোগীদের সরাসরি টাকা দিতে বাধ্য করছে। তবে টাকা জমার কোন রশিদ দিচ্ছে না। ফলে ভুক্তভুগিরা এ টাকা হাসপাতালের সরকারি একাউন্টে জমা হচ্ছে না বলে দাবি করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চাঁচড়ার আক্কাজ আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৪৯) প্যাথলজি পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে আসেন। তার কাছ থেকে সরাসরি টাকা নিয়ে তার পরীক্ষা করানো হয়েছে। কিন্তু তাকে কোন টাকা জমার রশিদ দেয়া হয়নি। গাইনি পরীক্ষা করিয়েছেন নড়াইলের আফরা এলাকার দাউদের স্ত্রী রওশন আরা ও যশোর সদর উপজেলার আরববপুর এলাকার মেহেদির স্ত্রী নিপা।

তাদের কাছ থেকেও টাকা নেয়া হয়েছে সরাসরি। এক্সরে পরীক্ষা করিয়েছেন আব্দুল খালেক, ফাতেমা বেগম। তাদের কাছ থেকেও সরাসরি টাকা নেয়া হয়েছে। আল্ট্রাসোনা করানো হয়েছে চাঁচড়ার টিটোর স্ত্রী সালমা বেগম ও বড়েন্দা এলাকার সহিদুল ইসলামের স্ত্রী শারমিনকে। তাদেরও টাকা নেয়া হয়েছে সরাসরি।

এভাবে প্রতিদিন প্রায় ২শ জনের পরীক্ষায় সরাসরি টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের কোন রশিদ দেয়া হচ্ছে না। সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার চালু হওয়ার পর কোন টাকা সরাসরি নেয়া যাবে না বলে সরকারি ভাবে নোটিশ দেয়া হয়। তারপরও হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক হাসান আব্দুল্লাহ জানান, সরাসরি টাকা নেয়ার ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায় জানেন।

এদিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অপারেশনের জন্য রোগীর স্বজনদের হাতে প্রয়োজনীয় মালামাল ও ঔষুধপত্রের স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করছেন। আর সেগুলো নিয়ে আসলে পরে তা বিক্রি করে দিয়ে টাকা আত্মসাত করছেন। সরকারি সব ঔষুধপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল থাকলেও দিনের পর দিন এভাবে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতানো হচ্ছে সরকারি এ হাসপাতালে। একই কাজ হচ্ছে সার্জারী ওয়ার্ড পুরুষ বিভাগে। সেখানেও সরকারি ঔষুধ নেই দাবি করে বাইরে থেকে ঔষুধ ও মালামাল আনা হচ্ছে। পরে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

আব্দুল করিম নামে এক ব্যক্তি জানান, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চেয়ার টেবিল পর্যন্ত টাকা নিচ্ছে। সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করানো হচ্ছে। তারপর টাকা ছাড়া কোন কিছুই করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায় জানান, সরাসরি টাকা নেয়া হচ্ছে বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ