Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৩ আষাঢ় ১৪২৭, মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোরে কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলায় ৮ জন অভিযুক্ত


৩০ মে ২০২০ শনিবার, ১২:২৩  এএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


যশোরে কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলায় ৮ জন অভিযুক্ত

যশোর : যশোরে কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মোট ৮জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হলেও দুইজন কিশোর হওয়ায় তাদের শিশু আদালতে বিচারের জন্য এই চার্জশিটে আবেদন করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো, শহরের লোন অফিসপাড়া মাছ বাজার এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে হৃদয় ওরফে ভাগ্নে হৃদয়, শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া হারুন ওরফে রাজ মিস্ত্রি হারুনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মামুন মোল্যা ওরফে ন্যাটা মামুন, খড়কি দক্ষিণ পাড়ার হাজামপাড়ার আব্দুল বিশ্বাসের ছেলে রায়হান ইসলাম রিহান, একই এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে সাকিল, সাকাওয়াত হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলার বসুন্দিয়া-কেফায়েতনগর গ্রামের এলাহী বিশ্বাসের ছেলে শাহাদিয়া। এই মামলায় শিশু অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে, শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আফসান পুস্প ও খালদার রোড নিকারীপাড়ার কাননের বাড়ির ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলামের ছেলে মামুন সরদার ওরফে ভাগ্নে মামুন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শহরের শংকরপুর এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়ার মেয়ে যশোরের একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত বছরের ১ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়েটি শহরের বকচর এলাকার র‌্যাব ক্যাম্পের পাশ দিয়ে বান্ধবীর বাড়ি থেকে নিজের বাসা শংকরপুরের দিকে আসছিল। এসময় আসামিরা তাকে জোর করে তুলে লোন অফিসপাড়া ভাগ্নে হৃদয়ের বাসায় নিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন সকাল ১০টার দিকে আসামি ভাগ্নে হৃদয় ও ভাগ্নে মামুন দড়াটানার ভৈরব হোটেলে খাবার খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খবর পেয়ে মেয়েটির মা হাসপাতালে গিয়ে তার কাছে সকল ঘটনা শোনেন এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে পুস্প, ভাগ্নে হৃদয়, ভাগ্নে মামুন ও ন্যাটা মামুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) আহসান উল্লাহ চৌধুরী এই মামলায় পুস্প, রায়হান ও সাকিলকে আটক করেন। কিন্তু রায়হান ও সাকিল ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

তাদের জবানবন্দিতে মেয়েটিকে প্রথমে পুস্প, রায়হান, সাকিল, শাহাদিয়া, রবিউল এবং দ্বিতীয়দফায় পুস্প, ভাগেন মামুন, ভাগ্নে হৃদয়, ন্যাটা মামুন ধর্ষণ করে বলে জানায়। সর্বশেষ মামলা তদন্তে ওই ৮জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে উঠে আসে। কিন্তু পুস্প এবং ভাগ্নে মামুন কিশোর হওয়ায় তাদের শিশু আদালতে বিচার করার জন্য চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে ন্যাটা মামুনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। আর ভাগ্নে হৃদয় ও পুস্প’র বিরুদ্ধে মারামারির মামলা রয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।