Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

ময়মনসিংহ হবে দেশের প্রথম সর্বাধুনিক বিভাগীয় শহর


৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার, ১২:১৮  পিএম

মো. নজরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ময়মনসিংহ হবে দেশের প্রথম সর্বাধুনিক বিভাগীয় শহর
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

 

ময়মনসসিংহ : ব্রহ্মপূত্র নদের ওপারের চরাঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে সরকারের নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ব্যাপক পরিকল্পণা গ্রহন করেছে।

চার হাজার ৩ শত ৬৬ একর জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া চলছে। অধিগ্রহন এলাকার লোকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং শতভাগ লোককে সন্মানজনক পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন।

৫২টি ব্লকে বিশেষ আবাসিক এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের প্লট দিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। প্রথমেই পুনর্বান প্রক্রিয়া শুরু হবে। নয়া ব্লকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ অন্যান্য সুযোহ-সুবিধা নিশ্চত করা হবে। ৬ হাজার ৩ শত কোটি টাকায় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের টাকা বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে যা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।

জমি অধিগ্রহন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সভা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্থদের শতভাগ পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্য তিনগুন বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপণ জারি করেছেন। তাই ক্ষমিগ্রস্থরা জমির প্রচুর মূল্য পাবেন।

বিভাগীয় নয়া শহর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রথমে ২টি পরে ১১টি এবং সর্বশেষ ৫২টি আবাসিক ব্লকে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা হবে। নয়া ওই শহরে সুদুরপ্রশারী চিন্তা করে ১৫০ ফুট, ১০০ ফুট এবং ৬০ ফুট করে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

সড়ক নির্মাণ করতে মোট এলাকার ৩০ ভাগ বাড়িঘর স্থানান্তর করা লাগবে। এ ছাড়া বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ বিদ্যমান বাড়িঘরের ৩০ ভাগ তাদের নিজ বসতবাড়িতেই পুনর্বাসিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বাকী ৭০ ভাগ যাদের বাড়ি স্থানান্তর জমি ( এওয়াজ-বদল) হবে তাদেও নিজ বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার থেকে সাড়ে ৩ শ’ মিটার দূরত্বেও মধ্যে আবাসিক ব্লকে পুনর্বাসন করা হবে।

পুনর্বাসন ব্লকে প্রত্যেক পরিবারকে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ করে জমি দেয়া হবে। ওই নয়া শহরে বাড়িঘর নির্মাণে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রদত্ত্ব ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুসাওে সৌন্দর্য মন্ডিত বাড়ি করা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার আরো জানান, পরিসংখ্যান বিভাগ কর্তৃক ২০১৭ সালের খানা জরিপ অনুসারে প্রস্তাবিত নতুন শহরে মোট ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা হচ্ছে ৬ হাজার ও ৪৫৫টি আর মোট লোকসংখ্যা হচ্ছে ২৯ হাজার ২৪২ । বর্তমানে বিদ্যমান বাড়িঘরের মোট জমির পরিমাণ ৩৬৭ একর।

তন্মধ্যে পুনর্বাসিত প্রকল্পে বসতমালিকদের বাড়ি করার জন্য জমি ফেরত দেয়া হবে ৩০৭ একর। পুনর্বাসিত এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সুযোগ দেয়া হবে। পরিসংখ্যান বিভাগে খানা জরিপে কেউ যদি বাদ পড়ে থাকেন তাদেরও অন্তভূক্ত করা হবে বলে বিভাগীয় কমিশনার জানান।

বিভাগীয় কমিশনার আরো জনাান, যারা ভূমিহীণ অথবা যারা বাড়ি করার জন্য জমি পাবে না। সেসব ভূমিহীনদের জন্য নয়া শহরের পাশেই দুলালবাড়ি মৌজায় ৮০ একর জমি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সরকার তাদের বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে দেবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন জানান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পণা গ্রহন করেছে। নয়া এই শহরে সকল বিভাগীয় দপ্তর ছাড়াও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, একটি সরকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিয়াম ও বিয়াম স্কুল, বিসিএস প্রশাসন একাডেমী, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ও মেট্রো পুলিশ লাইন, বিভাগীয় সার্কিট হাউস, আইটি পার্ক, আন্তর্জাতিক কনভেনশনস সেন্টার, সরকারী আনন্দ মোহন কলেজের শাখা, শিশু হাসপাতাল, পার্ক, আন্তর্জাতিকমানের বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শিক্ষা ব্লক, স্বাস্থ্য ব্লক, বিশাল লেক, ৫২টি স্পেশাল আবাসিক এলাকা, পর্যটন স্পট, কয়েকটি সুপার মার্কেট, বাজারসহ নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের মহতি লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুদক্ষ প্রকৌশলীগণ নানা পরিকল্পণা প্রণয়ন করছেন।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান জানান, ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ৮টি মৌজার অংশ বিশেষ নিয়ে ৪ হাজার ৩ শত ৬৬ একর জমিতে বিভাগীয় দপ্তরসহ অন্যান্য স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহন করার সরকারের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত জমির মধ্যে চর টাউন এবং চর জেলখানা নামে দুটি বড় মৌজার পুরো এলাকা রয়েছে তবে এই দুটি মৌজায় কোনো জনবসতি নেই। এছাড়াও ৬টি মৌজার আংশিক এলাকা রয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকায় বসতঘর, রান্না ঘর, টয়লেট, গোয়াল ঘর, ছোট ছোট দোকান ঘর, বৈঠক ঘর এবং অন্যান্য স্থাপনাসহ মোট ৮ হাজার ৫শত ২টি স্থাপনার ক্ষতি পূরণ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান জানান।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরকে একটি অত্যাধুনিক পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভেঅকেট আনিসুররহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের এই মহতি উদ্যোগের বাস্তবায়নে কেউ যাতে কোনো প্রকার অপপ্রচার ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থরা যাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায় এবং তাদের পাওনা পেতে যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারে সরকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

সেইসাথে জনগণ যাতে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়, এইলক্ষ্যে সরকারের গৃহীত সুযোগ-সুবিধাসমূহ জমি অধিগ্রহনকৃত এলাকার লোকদের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য প্রশাসন, ক্ষমতাসীন দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক সভায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও চরাঞ্চলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিগণ, নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।