Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, রবিবার ২৬ মে ২০১৯, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মৌলভীবাজার-চাতলা সড়কের বেহাল দশা:ভারতের সাথে বাঁধাগ্রস্ত বাণিজ্য


২০ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার, ১২:২৭  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


মৌলভীবাজার-চাতলা সড়কের বেহাল দশা:ভারতের সাথে বাঁধাগ্রস্ত বাণিজ্য

মৌলভীবাজার : সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার-শমশেরনগর-চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন সড়কের স্থানে স্থানে গর্তে ভেঙ্গে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় যাত্রী সাধারণ থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় যানবাহন বিকল ও ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বেহাল সড়কের কারণে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরের সাথে আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রমও বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে সড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, জেলার সীমান্তবর্তী চাতলাপুর চেকপোস্ট থেকে শমশেরনগর হয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কি.মি. সড়কে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি বর্তমানে যান চলাচলে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর ধরে সড়কের স্থানে স্থানে পিচঢালা উঠে তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি পরিমাণ অজস্র গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চাতলা স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় পণ্য ও মালামাল আমদানি রপ্তানী ছাড়াও এই সড়কে প্রতিদিন কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী, কর্মজীবি ও সাধারণ মানুষ জেলা সদরে অফিস-আদালতে ও চিকিৎসাজনিত কারণে আসা যাওয়া করছেন।

জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের করুন পরিণতির কারণে কয়েক লক্ষাধিক মানুষের অবর্ননীয় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। গর্তে পড়ে যানবাহন সমুহ বিকল ও যাত্রীদের শারীরিক নানা সমস্যারও সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও সড়কটি সংস্কার না করায় গর্তের কারনে যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ এবং সড়ক ও মনু সেতুর কারনে ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রমও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তোলেছেন।

সড়কে চলাচলকারী কলেজ ছাত্র সুমন আহমদ, ছাত্রী নার্গিস আক্তার, শিক্ষক জমশেদ আলী, মোটরসাইকেল আরোহী জয়নাল আবেদীন, ব্যবসায়ী রিপন, পল্লী চিকিৎসক পিন্টু দেবনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কের সিএনজি অটোরিক্সা বা যেকোন গাড়িতে চলাচল করলে শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা লাগে। সুস্থ লোকই অসুস্থ হয়ে উঠবে। আর রোগীদের যাতায়াতের জন্য ভয়াবহ অবস্থা। বেহাল এই সড়ক দিয়ে যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সিএনজি-অটোরিক্সা চালক শিমুল আহমদ ও রতন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিনষ্ট, আধাঘন্টা সময়ের স্থলে এক ঘন্টা সময় ব্যয় ছাড়াও ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানীকারক ব্যবসায়ী রমাপদ সেন, কাজী বদরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান বলেন, সড়কের করুন অবস্থা ও চাতলাপুরে মনু সেতু ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। অচিরেই সড়ক ও সেতুর মেরামত কাজ না হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সড়ক ও জনপথের মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, এই সড়কে আগেই প্রজেক্ট নেয়া ছিল। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজ বেড়ে গেছে। নিজেদের পক্ষ থেকে যেটুকু সম্ভব গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আঙ্গিকে কাজের জন্য উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের সমম্বয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তিনি আরও বলেন, আশাকরা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা যাবে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।