Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মাদকের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত সমাজ


২৭ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার, ০৫:৩০  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


মাদকের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত সমাজ

মৌলভীবাজার :শহরাঞ্চল থেকে এখন পাড়াগাঁয়েও মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা হয়ে উঠছে। ফলে গ্রামগঞ্জের যত্রতত্র হাটবাজারেও মাদক কেনাবেচা ও সেবনে আক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে গোটা সমাজ।

মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, ভানুগাছ, আদমপুর এলাকায় মাদকের বিস্তার লাভ করছে। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে গত তিন মাসে ২১টি মামলা দায়ের, জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ মদ, গাজা ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার শমসেরনগর-চাতলাপুর সড়কে ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। সড়কের কানিহাটি, চাতলাপুর ও চুয়াল্লিশ পাট্টা এলাকায় ভারতীয় ফেন্সিডিল, অফিসার্স চয়েস, করেক্স, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের বোতলজাত হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ মাদক দেশে আসছে। এছাড়াও কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরের ইটারঘাট, নসিরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান দিয়ে গোপনে মাদক, নিষিদ্ধ ভারতীয় নাসির উদ্দীন পাতার লক্ষ লক্ষ টাকার বিড়ি দেশে প্রবেশ করছে। একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত।

ভারত থেকে আসা মাদক, ইয়াবা চাতলা বর্ডারের শরীফপুর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে কুলাউড়া সড়কে, পতনঊষার-রাজনগর সড়কে, শমসেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক এবং ভানুগাছ, আদমপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। পুলিশ, বিজিবি বিভিন্ন সময়ে অভিযান করে মদ, বিড়িসহ গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করছে। তবে কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশ সদস্যদের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশ সবসময়েই সোচ্চার। তারই ধারাবাহিকতায় গত তিন মাসে থানায় ২১টি মামলা, ৩৬ জন আসামী গ্রেফতার, ১৮২ পিচ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার, এক কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ১০৮ কেজি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষক জমসেদ আলী, সমাজ কর্মী তোয়াবুর রহমান, চিকিৎসক পিন্টু দেবনাথসহ সচেতন ব্যক্তিরা জানান, এসব এলাকায় মাদক ভয়াল হয়ে উঠছে। অভাব-অনটন, সাংসারিক টানা পোড়েন, বেকারত্ব, হতাশা, হীনমন্যতা থেকে মাদক সেবন ও ব্যবসায় যুব সমাজ সম্পৃক্ত হয়ে উঠছেন। নেশাগ্রস্ত হয়ে এরা মানসিক অবসাদ, স্বাস্থ্যগত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিকভাবে দারুন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কমলগঞ্জের চা বাগান গুলোতেও দেশীয় চোলাই মদ তৈরি করা হচ্ছে। সুদীর্ঘকাল থেকে চা শ্রমিকরা চোলাই ও চোয়ানী মদ উৎপাদনের পর বিক্রি করে আসছে। চা বাগানের বিশাল একটি অংশ মদ পান করে মাতাল হয়ে উঠেন। চা বাগানের লছমি, শেফালী, রেবতিসহ কয়েকজন নারী শ্রমিকরা জানান, তাদের আয়ের এক তৃতীয়াংশ টাকা মদপান করে পুরুষরা বিনাশ করে ফেলে। তারপর ঘরে গিয়ে হানাহানি, বিশৃঙ্খলা, মারধোর ও জিনিসপত্র ভাঙচোর করে। তারা আরও বলেন, চা বাগানেও এখন মাদক বিরোধী সচেতনতা ও অভিযান শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকলে চা বাগানে পুরোদমে মাদক উৎপাদন, বিক্রয় ও সেবন বন্ধ করা সম্ভব।

শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, যুগযুগ ধরে চলে আসা চা বাগানে মাদক উৎপাদন, বিক্রয় ও সেবন বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরে নিয়ে বৈঠক ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং উৎপাদনও বন্ধ হচ্ছে।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের জিরো টলারেন্স। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি অব্যাহত রয়েছে। যেকোন মূল্যে সম্পূর্ণরূপে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।