Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি মুক্তিযুদ্ধপ্রেমীদের দর্শণীয় স্থান


০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৬:২২  পিএম

শেখ হেদাযেতুল্লাহ, খুলনা

বহুমাত্রিক.কম


বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি মুক্তিযুদ্ধপ্রেমীদের দর্শণীয় স্থান

খুলনা : বাংলার মানচিত্রে খুলনা শহর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে খুবই গুরুত্বের। শহরটি রুপসা ও ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। আর এই রূপসা নদীর পূর্বপাশে ঘুমিয়ে আছেন জাতির অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ সন্তান মো. রুহুল আমিন।

প্রতিবছর বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা নৌ জা তিতুমীর এই সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তাছাড়া সশস্ত্রবাহিনী দিবসেও এই দুই বীরের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়। রূপসা উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রেসক্লাব দিনটিকে স্মরণ করতে আয়োজন করে নানা কর্মসূচি।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে খুলনার রূপসা নদীতে একটি যুদ্ধজাহাজে থাকাকালে শত্রুপক্ষের বিমান হামলায় শহীদ হন।

এই বীর ১৯৩৫ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাচড়া গ্রামে (বর্তমান শহীদ রুহুল আমিন নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আজহার পাটোয়ারী ও মাতা জুলেখা খাতুন। অপরদিকে দিকে বীরবিক্রম মহিবুল্লাহও একই দিনে শহীদ হন।

এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে তারা জানান জানান, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় অরক্ষিত থাকা মহান দুই ব্যক্তির কবরস্থানকে কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে জায়গাটির সুরক্ষা দিতে পশ্চিমে নদীর পারে বাঁধ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে মাজারটির পূর্বপাশে রাস্তায় লোহার বেড়া দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণে মাছের ডিলারদের দোকান দ্বারা বেষ্টিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সমাধি স্থলটি বেশ দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়েছে। চারিদিকে দেয়া হয়েছে উন্নতমানের স্টীলের পাইপ দিয়ে বেস্টনী। সচরাচর যাতে সেখানে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য গেট দেয়া হয়েছে। তবে ভিতরে যদি কেউ যেতে চান শ্রদ্ধা জানাতে চায় তাহলে এক দারোয়ানের মোবাইল ফোনের নম্বর দেয়া রয়েছে। ফোন করলেই কযেকমিনিটের মধ্যেই তিনি সেখানে উপস্থিত হন। এবং গেটের তালা খুলে সমাধিস্থলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

রোববার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেশ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। মাজারটির চারিপাশে সবুজ ঘাস জন্মেছে। মাজারটি জুড়ে ফুলের গাছ রোপন করা হয়েছে। যাতে ফুল ফুটেছে। কবরের মাটির অংশেও রোপন করা হয়েছে ফুলের চারা। সেই চারাতেও ফুল ফুটে আরও সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

এগুলো ছাড়াও মাজারটির উত্তর পশ্চিমে জন্মিয়েছে দুটি কুল গাছ। গাছ দুটিতে কুল ধরেছে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধের সাক্ষী হিসেবে একটি খেজুর গাছও রয়েছে। মাজারটির সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আব্দুল ওয়াহাবকে। তিনিই দেখভাল করবেন। তবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং তদারকি কওে বা নৌ জা তিতুমীর।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকবছর আগেও মাজারটি দক্ষিণ পাশে ছিল পানির খাল। এখানে মানুষজন মলমূত্র ত্যাগ করতো। আর সন্ধ্যার পর বসতো গাঁজার আখড়া। পাশের রাস্তা ছিল জরাজীর্ণ। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। আশপাশের এলাকা বেশ পরিপাটি।

এদিকে রুপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে মাজারটির পাশদিয়ে রুসপা সেতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেড় থেকে ২ কিলোমিটার বাইপাস রাস্তা। মাছ ব্যবসায়ীদের চলাচলের এই রাস্তাটির সব সময় থাকে ব্যস্ত। তাছাড়া বালি ও মাটিবাহি ট্রাক চলে দাপিয়ে। তাতে দর্শনার্থীদের ধুলার কারনৈ দাড়িয়ে থাকা দুষ্কও হয়ে পড়ে।

মা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শহীদ রুহুল আমীনের কবরটি অবহেলার পাত্র ছিল। কেউ এখানে আসেনি। তবে এই সরকার তাকে মূল্যায়ন করছে। তার মাজারটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নৌবাহীনীর কর্মকর্তা হওয়ায় তার পাশাপাশি শহীদ মহিবুল্লাহ বীর বিক্রমের কবর সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। তাদের উদ্যোগের ফলে এখন প্রতিদিন দূরদুরান্ত থেকে মাজার দুটি দেখার জন্য মানুষ আসেন।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্থানিদের হাত থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে রূপসার খুলনা শিপইয়ার্ডের সামনে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেন তিনি। এরপর রুপসা নদীর পূর্বপাশে বাঘমারা গ্রামে নদীর পাশে তাকে দাফন করা হয়। দেড় একর জমির ওপর রুহুল আমিন ও বীরবিক্রম মহিবুল্লাহের সমাধিসৌধ অবস্থিত।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।