Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের বিরুদ্ধে হামলাসহ বহু অভিযোগ


২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ১২:৪৭  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের বিরুদ্ধে হামলাসহ বহু অভিযোগ

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ নির্বাচনে নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের বিরুদ্ধে ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে ওই সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে। প্রতি দুই বছর পর পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হয়। কিন্তু বিগত সময়গুলোতে সকল কৃষিবিদদের মতামত উপেক্ষা করে মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থন্বেষী কৃষিবিদ তাদের পেশী শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেরাই কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অংশে কর্মরত কৃষিবিদগণের নিকট যা পকেট কমিটি নামে পরিচিত। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশকে তারা তাদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক লাভের ও প্রাপ্তির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

পরিষদের অভিযোগ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনকে এহেন অপকর্মের সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করে সকল কৃষিবিদদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের সুযোগ করে দেন বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ মনোনীত ও সর্বস্তরের শান্তীকামী কৃষিবিদ সমর্থিত ছালেহ মোয়াজ্জেম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এতে দেশের সর্বস্তরের কৃষিবিদদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃস্টি হয় এবং ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদ ভুক্তভোগী ও সাধারণ বঞ্চিত কৃষিবিদদরে মাঝে ব্যাপক নির্বাচনী সাড়া সৃস্টি করে।

পরিষদ নেতারা উল্লেখ করেন, এমতাবস্থায় কায়েমী স্বার্থ হাসিল উদ্দেশ্যে পথভ্রস্ট কতিপয় কৃষিবিদ সমর্থিত নীতিশ-প্রিন্স প্যানেল নানামুখী অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়। এই অপচেষ্টার কৌশল হিসেবে তারা তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত ভোটার অন্তর্ভুক্ত করে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর অফিসকক্ষ, টেলিফোন, কৃষিবিদবৃন্দের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ (মোবাইল নম্বর সহ) ও অন্যান্য উপকরণসমূহ অনৈতিকভাবে নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেছে এবং এ বিষয়ে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের নিকট বারবার অভিযোগ করলেও তারা তা আমলে না নিয়ে তাদেরকে উৎসাহ দেয়। সেইসাথে এই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তাদের সরাসরি সমর্থিত কর্মীদেরকে ভোট গ্রহণকারী অফিসার হিসেবে নিযোগ প্রদান করে যাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলে কট্টর আনুসারী।

তারা বলেন, একই সাথে নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের সরাসরি পৃষ্টপোষকতায় তাদের অনুসারী কিছু দুস্কৃতিকারী কৃষিবিদের নেতৃত্বে শেরেবাংলার কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র ছাত্রী ও স্থানীয় ভাড়াটে মাস্তানদের সমন্বয়ে লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করে নির্বাচন বানচালের ও ভোট কেন্দ্র দখলের নীল নকশা প্রণয়ন করে। 

নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাদস্য সচিবসহ তার প্রতিনিধি দলকে নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের লাঠিয়াল বাহিনী রাত আনুমানিক ০৯টার দিকে হামলা চালায়। এতে কৃষিবিদ মুজিবুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন শারিরীকভাবে লাঞ্চিত হন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর অফিসকক্ষ, টেলিফোন, কৃষিবিদবৃন্দের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ (মোবাইল নম্বর সহ) ও অন্যান্য উপকরণসমূহ অনৈতিকভাবে নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করার প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ২০১৯-২০ স্থগিত ঘোষণা করেন। যা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ও কলঙ্কিত ঘটনা। পরবর্ততীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদ তাদের পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার শেষে নীতীশ-প্রিন্স প্যানেলের সমর্থক হাবিবুর রহমান মোল্লা, সাজ্জাদ হোসেন, মাহবুবুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান সোহেল এর নেতৃত্বে ৪০ জনের ও বেশী বিশাল লাঠিয়াল বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদের সমথ্যকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ও বিএআরসি প্রঙ্গনে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক সহসভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা ২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী কৃষিবিদ সারোয়ার মোর্শেদ আকন্দ জাস্টিস সহ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সহসভাপতি এম আনোয়ারুল হক সহ আরো ৩-৪ জন ছালেহ মোয়াজ্জেম পরিষদের সমর্থক মারাত্মকভাবে আহত হন ও রাক্তায় অবস্থায় পড়ে থাকেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নিরাপত্তা প্রহরীদের সহায়তায় প্রথমে আল রাজী হাসপাতাল সেখান থেকে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয় কিন্তু শারিরিক পরিস্তিতির অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা এখনও চিকিৎসাধীণ অবস্থায় আছেন।

নির্বাচনের আগের রাতে কৃষিবিদের শারীরিক লাঞ্চনার ঘটনাসহ চলমান নির্বাচন বানচালের সাথে জড়িত নির্বাচন কমিশনসহ সকল দোষী ব্যাক্তিদের ও মদতদাতদের অতিদ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের আহবান জানায় ছালেহ-মোয়াজ্জেম পরিষদ।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।