Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নবনির্মিত খুলনা রেলস্টেশনেও নেই আধুনিকতার ছোঁয়া


২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০১:২৭  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


নবনির্মিত খুলনা রেলস্টেশনেও নেই আধুনিকতার ছোঁয়া

খুলনা : শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালের বিগত তত্বাবধায়ক সরকার আমলে। সে সময়ে খুলনায় আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করে। এরপর কেটে যায় নানা চরাই উৎরাই করে ৭ বছর। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের শুরুতে ২০১৪ সালে একনেকে খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন নির্মান প্রকল্প পাস হয়। কয়েক দফা নির্মান ব্যয় বেড়ে শেষমেষ জোড়াতালি দিয়ে স্টেশনের নির্মান কাজ শেষ করা হয়েছে।

যদিও স্টেশনের নানান ত্রুটি বহাল রেখেই স্টেশনটি দিয়ে রেল চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও জোড়াতালির মধ্য দিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ কওে রেল চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা নবনির্মিত রেলস্টেশনে গিযে দেখা যায়, প্লাটফরম থেকে প্রায় দুই ফুট উচুঁ রেল-বগীর (কোচ) দরোজা। রেলের কোচ যখন প্লাটফরমের গা ঘেঁষে দাঁড়ায় তখন প্লাট-ফরম থেকে বগীতে উঠতে যাত্রীর বেশ কষ্টই হচ্ছে। তাছাড়া অসাবধানতাবশতঃ কোন যাত্রী যদি বগীর হাতল ধরে উঠতে গিয়ে ফসকে পড়ে যায়, তাহলে তিনি গুরুতর আহত হবেন। এমনকি জীবনহানির শঙ্কাও রয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, প্লাটফরমের মধ্যবর্তী তিনটি করে লাইন স্থাপন করা হয়েছে। লাইনের দুটি দিয়ে কোচসহ লোকোমেটিভ (ইঞ্জিন) প্রবেশ করবে। পরে অপর মধ্যবর্তী লাইন দিয়ে লোকোমোটিভটি লোকোসেডে বেরিয়ে যাবে। লাইন তিনটির মাঝ বরাবর যে নিষ্কাশন নালা তৈরী করা হয়েছে, সেটি মাত্র ৫ ইঞ্চি গভীরতার। নালার দেয়াল বেশ পাতলা হওয়ায় এটি ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপরন্তু বৃষ্টির পরিমাণ যদি বেশী হয়, পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হবে, রেল-লাইনের উপর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। রেললাইনে ব্যবহৃত পাথরের পরিমাণ কম এবং নি¤œমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। পাথরের সাথে ইটের টুকরা ও ছাদভাঙ্গা বর্জ্য ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যবহৃত কাঠের স্লিপারও নিন্মমানের।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ-জামান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন। রেলযাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য স্টেশন নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে স্টেশনটি যাত্রীদের জন্যে নতুন ও স্থায়ী দুর্ভোগ হিসেবে দেখা দেবে। তিনি রেলস্টেশনের ত্রুটিগুলো দূর করে তবেই স্টেশনটি চালুর দাবি জানান।

এ বিষয়ে খুলনা রেলস্টেশনের উর্ধতন সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক-কোচ তদারককারী) মোঃ আশরাফুজ্জামান জানান, যেভাবে ঠিকাদার প্লাটফরম ও লাইন নির্মাণ করেছে, তাতে যাত্রীদের উঠানামায় সমস্যা হবে। তাঁর মতে, রেলের বগী ও প্লাটফরম সামান্য উচুঁ-নীচু থাকলেও যাত্রীদের উঠানামায় অসুবিধা হয়। খুলনার আধুনিক রেলস্টেশনে সেই সুবিধা থাকছে না।

তবে খুলনা রেল স্টেশনের উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) মোঃ হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে জানান, খুলনা রি-মডেলিং রেলস্টেশনের নির্মাণ কাজ সম্পূর্নভাবে শেষ হয়েছে। শনিবার নতুন স্টেশনে একটি ইঞ্জিন দিয়ে দুটি বগীর পরীক্ষামূলক চলাচলের মহড়া দেয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমানে প্লাটফরম থেকে রেলের ইঞ্জিন ও কোচের মধ্যেকার দূরত্ব (উঁচু) ২২ ইঞ্চি। কিছুদিন লাইন দিয়ে রেল চলাচল শুরু করলে এটি ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বসে যাবে। তখন বগী ও প্লাটফরমের দূরত্ব হবে ১৮ ইঞ্চি। এতে যাত্রীদের উঠানামায় কোন সমস্যা হবে না।

জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য খুলনা-২ আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিজান এ প্রসঙ্গে বলেন, আধুনিক রেলস্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষের পথে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অচিরেই এটি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। খুলনাবাসীর প্রাণের দাবি আধুনিক রেলস্টেশনটি যেনতেনভাবে নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা যাবে না। যে সকল ত্রুটি রয়েছে সেগুলো দূর করে তবেই এটি যাত্রী চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তিনি রেলস্টেশনের ত্রুটি দিয়ে রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন বলে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, এই আধুনিক রেল স্টেশনের শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালে বিগত তত্বাবধায়ক সরকার আমলে। এরপর কেটে যায় ৭ বছর। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের শুরুতে ২০১৪ সালে প্রকল্পটি একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিসদের নির্বাহী কমিটি)-এ খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। কয়েক দফা নির্মাণ ব্যয় বেড়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হলো। তবে খুলনাবাসী রেলস্টেশন পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলো না।

বৃটিশ আমলে নির্মিত খুলনার পুরাতন রেল স্টেশন দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগের কারণে খুলনাবাসী আধুনিক রেলস্টেশনের দাবিতে সোচ্চার ছিল। এই দাবিতে মিছিল-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি এমনকি হরতালও পালিত হয়েছে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘রিমডেলিং অব খুলনা রেল স্টেশন অ্যান্ড ইয়ার্ড’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করে। একাধিকবার সংশোধনের পর ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে স্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু ধীরগতির কারণে কয়েক দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এই কাজ শেষ হয়েছে। স্টেশন নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। চলতি বছরের গত মার্চ মাসের ৩ তারিখে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্টেশনের উদ্বোধন করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Netaji Subhash Chandra Bose
BRTA
Bay Leaf Premium Tea

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ