Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ বৈশাখ ১৪২৬, শুক্রবার ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ধর্না তুলে নিলেন মমতা ব্যানার্জী


০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ১২:০৬  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


ধর্না তুলে নিলেন মমতা ব্যানার্জী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার জেরা করার প্রতিবাদে তিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী যে ধর্না দিচ্ছিলেন, তা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি তুলে নিয়েছেন। খবর বিবিসি বাংলা’র 

সুপ্রিম কোর্ট আজ (মঙ্গলবার) সকালে নির্দেশ দিয়েছে যে সারদা চিট ফান্ড মামলায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।তবে সেই জেরা হবে নিরপেক্ষ জায়গায় - দিল্লি বা কলকাতা নয়, মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এও বলেছে যে জেরা করলেও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই নির্দেশ পাওয়ার পরে বিকেলে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সিবিআইকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি শিলংয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেতে প্রস্তুত।

এর পরেই সন্ধ্যায় মমতা ব্যানার্জী ঘোষণা করেন, ‘আদালতের রায় আমাদের নৈতিক জয়। তাই সংবিধান বাঁচাও নামের এই ধর্না এখানেই শেষ করছি। কিন্তু আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আমি ধর্নায় বসব।’

অন্যদিকে রোববার রাতে যখন কলকাতার ধর্মতলায় ধর্না শুরু করেন মমতা ব্যানার্জী, সেখানে হাজির হয়ে চাকরির নিয়ম ভঙ্গ করেছেন রাজীব কুমার - এই কথা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

রাজীব কুমার ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের অফিসার এবং তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে নিযুক্ত হয়েছেন। সেই চাকরির নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলে বা জমায়েতে যোগ দিতে পারেন না আই পি এস অফিসারেরা।

বলা হচ্ছে, সেই নিয়মই ভঙ্গ করেছেন তিনি। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বলছেন যে ধর্না মঞ্চে রাজীব কুমার কখনই আসেন নি। ওই জায়গায় সরকারি কাজে গিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই অভিযোগ করেছে যে সারদা চিট ফান্ড মামলায় তদন্ত করার সময়ে রাজীব কুমার বেশ কিছু নথি এবং প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো সিবিআইকে দেওয়া হচ্ছে না।

একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও রাজীব কুমার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন নি। সারদা সংস্থা বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। ২০১৩ সালে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

কাশ্মীরের গুলমার্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সারদা সংস্থার মালিক সুদীপ্ত সেন আর তার এক সহযোগী দেবযানী মুখার্জীকে। ওই মামলার প্রাথমিক তদন্ত ভার ছিল যে বিশেষ দলের ওপরে, তারই প্রধান ছিলেন এখনকার কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের হয় যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে ওই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হোক এবং তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে সারদা সংস্থা যেভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছে, তার পিছনে মদত ছিল প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের।

শীর্ষ আদালত প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও খুঁজে বার করতে নির্দেশ দেয় সিবিআইকে। ওই অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরে করলেও, হঠাৎই গত রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা নাটকীয়ভাবে পুলিশ কমিশনারের সরকারী বাসভবনের সামনে হাজির হয়ে যান জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।

কলকাতা পুলিশ প্রথমে বাধা দেয় তদন্তকারীদের আর তারপরে সিবিআই অফিসারদের টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় তারপরে ঘটতে থাকে একের পর এক নাটকীয় এবং অভাবনীয় ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন অন্য শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে।

সেখান থেকে বেরিয়ে মিজ. ব্যানার্জী ঘোষণা করেন যে, তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ধর্না অবস্থানে বসছেন। মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করছেন যে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির অঙুলি নির্দেশেই তার প্রশাসনের ওপরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নিজের রাজ্যের বাহিনীর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ওই ঘটনা সাংবিধানিক কাঠামোর ওপরে সরাসরি আঘাত।

মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানকে ভারতের সব বিরোধী দলগুলি সমর্থন করেছে। যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেওয়া হয় আর তাদের থানায় আটক করে রাখা হয়, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননারও অভিযোগ করেছিল।

যেহেতু শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই তারা তদন্ত চালাচ্ছিল, তাই তদন্তকারীদের বাধাদান আদালত অবমাননার সমান। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আজ ওই আদালত অবমাননার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল আর কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নোটিস দিয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির আগেই পশ্চিমবঙ্গের তিন শীর্ষ অফিসারকে জবাব দাখিল করতে হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।