Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৮:২১ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

দুই কিডনি কেটে ফেলাকে দুর্ঘটনা বলে দুঃখ প্রকাশ


০৫ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৬:৩৫  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


দুই কিডনি কেটে ফেলাকে দুর্ঘটনা বলে দুঃখ প্রকাশ
ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা : দুর্ঘটনা বলে দুঃখ প্রকাশ করে দায় সারলেন দুটো কিডনি কেটে ফেলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, অসাবধানতাবশত রফিক শিকদারের মায়ের বাম দিকের কিডনি অপসারণের সময় ডান পাশের কিডনিও কেটে ফেলেছেন চিকিৎসক। অভিযুক্ত চিকিৎসক অধ্যাপক দুলালকে বিচারের আওতায় আনা হবে কিনা সে বিষয়ে আরো তদন্ত প্রয়োজন বলে জানায় তদন্ত কমিটি। তবে, এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রওশন আরার বাম কিডনি অপসারণের কথা থাকলেও ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দুটি কিডনিই কেটে ফেলেন। এতে দীর্ঘ দেড় মাসের বেশি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৫৫ বছরের রওশন আরা।

৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার দুপুরে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুনর রশিদ জানান, জন্মগতভাবে দুটি কিডনির গোড়া এক জায়গায় জড়িয়ে থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাম পাশের কিডনিতে আড়াই লিটারের বেশী পুঁজ হয়ে যাওয়া এবং হঠাৎ করে তীব্র রক্ত ক্ষরণ হওয়ায় অসাবধানতাবশত দুটি কিডনিই অপসারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

ডা. হারুনর রশিদ বলেন, ‘দুই কিডনি নিচের দিকে জোড়া লাগানো ছিল যেটা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ‘হরশু কিডনি’। রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্যে জীবন বাঁচানো ফরজ হয়ে যাওয়ায় এক পাশে কিডনি অপসারণ করার সময় আরেকটি কিডনি অপশাসন হয়ে যেতে পারে। আমরা দুঃখিত মর্মাহত এবং পরিবারের শান্তি কামনা করি।’

তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের কারণ, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ না দেয়াসহ সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এমন ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটে নাই দাবি করে কমিটির সদস্যরা চিকিৎসকদের আরো সতর্ক হবার আহ্বান জানান।

 

অভিযুক্ত চিকিৎসক এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সময় সংবাদকে বলেন, ‘তার সহকর্মী অস্ত্রোপচার শুরু করলেও জটিলতা দেখা দেয়ায় মাঝপথে যোগ দেন তিনি। ওই সময় রোগীকে বাঁচানোই মূল লক্ষ্য থাকায় কিডনির ধরণ সম্পর্কে যাচাই করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। অভিযুক্ত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘আমি বা আমার সহকারী অধ্যাপক কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজটি করিনি। এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে নিতে হবে।’

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক অজ্ঞতা, গাফিলতি নাকি জীবন বাঁচানোর স্বার্থে দুটি কিডনিই কেটে ফেলেছেন সে বিষয় নিশ্চিত হতে আরো তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এদিকে, ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, কিডনি চুরি করে অন্য কারো দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।