Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

ঝালকাঠিতে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় নতুন ভোটাররা


০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৬:৩৮  পিএম

মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


ঝালকাঠিতে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় নতুন ভোটাররা

ঝালকাঠি : জীবনে প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে নবীন ভোটারদের রয়েছে দারুণ কৌতূহল। নতুন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের জীবনে প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে রয়েছে দারুণ কৌতূহল; সঙ্গে নানা জল্পনাকল্পনা।

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর উন্নয়ন হবে ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

ঝালকাঠি জেলায় মোট সংসদীয় আসন ২টি, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) এবং ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি)। জেলার মোট আয়তন ৭৫৮.০৬ বর্গ কিলোমিটার। ৪টি উপজেলা ও ৪টি থানা হল, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া। পৌরসভা: ২টি, ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি। ৩২ টি ইউনিয়নে মোট গ্রাম ৪৭১টি এবং মৌজা: ৪১২টি। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী মহকুমা থেকে ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলায় পরিণত হয়। ঝালকাঠি জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮’শ ৫৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৭’শ ৩৫ জন। এরমধ্যে নতুন ভোটার ৬২ হাজার ৩৫৯জন। জেলায় মোট ২৩৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।

জেলার রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে সংসদীয় ১২৫ নং ঝালকাঠি-১ আসন। আসনটিতে ১২টি ইউনিয়নে ৯০ টি ভোট কেন্দ্রে রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৫ জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৯ হাজার ২৬৯ জন এবং নারী ভোটার ৮৮ হাজার ৯৮৬ জন।

ঝালকাঠি জেলা সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসনে ২০ টি ইউনিয়ন। ১৪৭টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬০২ জন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৯ জন।

তরুণ ভোটার মাইনুল জানান, আমি সাধারনত একজন তরুন ভোটার। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে চাচ্ছি। ঝালকাঠিতে বিগত দিনে যে উন্নয়ন হয়েছে, ভোটদানের মাধ্যমে আমরা সেই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে চাই। তাকেই ভোট দিবো যিনি আগামী দিনগুলোতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে।

জিয়াউল কবীর সুজন জানান, আমরা চাই সুষ্ঠভাবে নির্বাচন হোক। আমরা যেন সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারি। সবাই যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এমন সরকার চাই যে সরকার দেশের উন্নয়ন করবে। যাতে মধ্য আয়ের দেশ থেকে উন্নত আয়ের দেশে রূপান্তর হতে পারি।

আল মাসুদ মধু জানান, নতুন ভোটার হলেও বিগত ১০ বছরে দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়নের মাত্রাকে অতিক্রম করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে যথাস্থানেই আমার মূল্যবান ভোট প্রদান করবো।

আতিকুল ইসলাম হৃদয় জানান, বিগত দিনে ঝালকাঠি জেলায় যত সন্ত্রাস, রাহাজানি ও মাদকের বিস্তার ছিলো বর্তমানে তা কমে গেছে। এজন্য যাদের অবদান রয়েছে চিন্তাভাবনা করে তাদেরই ভোট দিবো। যাতে আমরা বিগত ১০ বছরের ন্যায় শান্তিপূর্ণ জেলায় বসবাস করতে পারি।

মনির হোসেন জানান, আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে চাই এবং ভোট দিয়ে ভালোভাবে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চাই। উন্নয়নের ধারা যেভাবে অব্যাহত আছে এরচেয়ে আরো উন্নয়ন দরকার। সে লক্ষ্যেই আমরা আমাদের ভোট সঠিকভাবে প্রয়োগ করবো।

তরুন নারী ভোটার সালমা আক্তার জানান, নতুন ভোটার হিসেবে আমার আকাঙ্খা এবং প্রত্যাশা দুটোই অনেক বেশি। অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং সুশৃঙ্খল একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। পাশাপাশি জেলার আরো উন্নতি দেখতে চাচ্ছি। আমরা নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। জেলার বিভিন্ন কর্মকান্ডে নারীদের অংশগ্রহণ অনেকটাই কম। নানান সেক্টরে নারীদের অগ্রসরতা দেখতে চাচ্ছি। এজন্য জেলা সদরে এমন একজন নেতাকে চাচ্ছি যিনি আসলে সৎ, ন্যায় পরায়ন, নীতিবান, আদর্শবান এবং কর্তব্য পরায়ন হবেন। যিনি আমাদের (নারীদের) প্রতিটি সেক্টরে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ দেবেন। ঝালকাঠিতে অনেক সম্পদ ও সম্ভাবনা রয়েছে। যেগুলো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটিয়ে তুলবে। যার মধ্যে অন্যতম রয়েছে কির্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি, আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগানসহ অনেক সম্ভাবনাময় স্থান। উন্নয়নের পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং সুশৃঙ্খল একটি নির্বাচনের শতভাগ প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরেক তরুন নারী ভোটার রিমা খানম জানান, আমি নতুন ভোটার হিসেবে ভোট প্রদানের জন্য আমার মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। এমন একটা নির্বাচন হোক যে নির্বাচনে আমার মধ্যে যে আনন্দটা সে আনন্দটা নিয়েই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসতে পারি।

তরুণ ভোটার নবীন জানান, আমাদের তরুন ভোটারদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ একটি ভোট উৎসবের। সুষ্ঠ, সুন্দর ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের বেকারত্বের সমস্যা যিনি দূর করবেন, শিক্ষা ক্ষেত্র এবং তৃণমূল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন যিনি করবেন আমরা তাকেই ভোট দিবো। সুষ্ঠ-সুন্দরভাবে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা করেন তিনি। এছাড়াও নির্বাচিত সরকার যেন দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য কাজ করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নবীন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।