Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ পৌষ ১৪২৬, সোমবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

জিএনওবিবি সম্মেলন:জীব প্রযুক্তির প্রসারে গুরুত্বারোপ কৃষিমন্ত্রীর


১২ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ১২:১৩  এএম

বিশেষ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


জিএনওবিবি সম্মেলন:জীব প্রযুক্তির প্রসারে গুরুত্বারোপ কৃষিমন্ত্রীর

ঢাকা: জীব প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলতে গবেষকদের আরও নিবেদিত হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। একই সঙ্গে নিশ্চিত প্রাসঙ্গিকতা সত্ত্বেও জীব প্রযুক্তি ও এই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত খাদ্যের অতিরঞ্জিত বিরোধিতাকারী সমালোচকদেরও সমালোচনা করেন মন্ত্রী। 

তিনি আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে তিন দিনব্যাপি ‘স্বাস্থ্য ও কৃষি ক্ষেত্রে জীব প্রযুক্তি’ (আইসিবিএইচএ)’ শীর্ষক ৪র্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ইনোভেশনস ইন প্ল্যান্ট এন্ড ফুড সায়েন্সেস’র (আইপিএফএস) সহযোগিতায় গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশী বায়োটেকনোলজিস্টের (জিএনওবিবি) উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জীব প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি একজন কৃষিবিদ। । বর্তমান সময়ে জীব প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও প্রাসঙ্গিকতা আমি সম্যক অবগত। স্মরণ করতে পারি, আশির দশকে যখন পিএইচড করতে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম তখন সেখানকার সাময়িকপত্রে জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ডিএনএ-আরএনএ’র স্ট্রাকচার নিয়ে বিশদ বর্ণনা ছিল। গবেষক হিসেবে আমাকে তা আকৃষ্ট করেছিল। জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা সেখানে বিশদভাবে বিধৃত ছিল। বর্তমানে জীবপ্রযুক্তির যে বহুমূখি প্রয়োগ তার ভবিষ্যতবাণী ছিল ওই নিবন্ধে। প্রায় চার দশক পর এই আয়োজনে এসে তাই দৃশ্যমান হলো আমার কাছে।’’ 

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই অঞ্চলের পূর্বাপর দৃশ্যপট বর্ণনা করেন কৃষিবিদ এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাদের দুরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করেছিলেন। কৃষিতে তাঁর গৃহীত নীতির ফলে আমরা এখন খাদ্যে কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণ নই-উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছি। কেবল ধান উৎপাদনে নয়। আলু-সবজি, মাছসহ সকল উৎপাদনে আমরা ক্রমাগত সাফল্য অর্জন করছি।  খাদ্য নিরাপত্তা এখন কেবল আঞ্চলিক ইস্যু নয়, এটি বৈশ্বিক ইস্যু। আমরা ঔপনিবেশিক সময় থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও দুর্ভিক্ষে লাখো মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছি। খাদ্য সংকটের কারণেও এখনো বিশ্বে বহু মানুষের বাস্তুচ্যুতি-অভিবাসন আমরা দেখছি। খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বে বহু যুদ্ধও সংঘটিত হচ্ছে।’’

ডঃ রাজ্জাক বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে আমাদের সরকারের এখনকার অগ্রাধিকারে পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য। একই সঙ্গে আমাদের অগ্রাধিকার বাণিজ্যিক ও যান্ত্রিক কৃষি। এর জন্য আমরা প্রাসঙ্গিক সব পন্থা ও নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাই। আমাদের প্রচেষ্টা দেশের টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে অনেক পন্থা আছে, তবে জীবপ্রযুক্তি তার মধ্যে অন্যতম।’

‘আমাদের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমাগত শিল্পায়ন-নগরায়ন কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও বিশ্ব উষ্ণায়ন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জৈবপ্রযুক্তি কিভাবে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে তা জোরাল ভাবে ভাবতে হবে আমাদের। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জীবপ্রযুক্তির প্রসারে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি ন্যাশনাল বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ। আমরা জীবপ্রযুক্তির সমূহ সম্ভাবনার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। সরকারের জাতীয় কৃষি নীতিতে এর প্রতিফলন ঘটেছে’-যোগ করেন কৃষিমন্ত্রী। 

জীবপ্রযুক্তির গবেষণা ও সম্প্রসারণে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় এই সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের। গবেষকদের যথাযথ প্রকল্প নিতে গবেষণা, তহবিল প্রদানে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারপারসন থাকাই প্রমাণ করে সরকার জীবপ্রযুক্তির বিষয়ে কতটা আন্তরিক। গবেষকদের জন্য এ এক বিরাট সুযোগ। তবে একই সঙ্গে জীবপ্রযুক্তিকে ঘিরে জৈব নিরাপত্তা এখন আমাদের ভাবনার বিষয়। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সমালোচনাও আমাদের শুনতে হয়। কেন আমরা বিটি বেগুন অবমুক্ত করলাম?’’

সমালোচকদের প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক আরও ‘‘কিছু ক্ষেত্রে যথার্থতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমালোচকরা অতিরঞ্জিত তৎপরতা দেখান। এখানে দেখতে হবে অর্গানিক উৎপাদন হচ্ছে কিনা। হাইব্রিডে কিংবা জাত উন্নয়নেও তাদের আপত্তি। আপনি ভাবতে পারেন, দুই দশক আগে আমাদের কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ, আর বর্তমানের? ভাবতে হবে ভারত-চীনের মতো জনবহুল দেশের কথা। তারা যদি আধুনিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় না যেতো তবে কী অবস্থা হতো? বাস্তবতার নিরিখে এখন আমাদের অবশ্যই সেই বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা বায়োসেফটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছি। আন্তর্জাতিক অনেক প্রটোকলেও আমরা অনুস্বাক্ষর করেছি। সরকার খুবই সচেতন জৈবনিরাপত্তার বিষয়ে। তবে আমরা জীবপ্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবেই অনুধাবন করতে পারি। গবেষকরা অবশ্যই এ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে একে মোকাবেলায় সচেষ্ট হবেন।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন,ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবীর চৌধুরী, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াইস কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

জিএনওবিবি’র সভাপতি অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মনজুরুল করিম ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি ড. এ বি এম মো. খাদেমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য জীব প্রযুক্তিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষাবিদ, জীব প্রযুক্তিবিদ ও শিল্পপতিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উল্লেখ্য,বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকবৃন্দ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন। আয়োজনে গণমাধ্যম সহযোগি ছিল বহুমাত্রিক.কম।  

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।