Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ৭:১২ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

গরু পালনে ব্যাংকঋণ : ভোলায় বেড়েছে মাংস-দুধ উৎপাদন


২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০১:০০  এএম

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন, ভোলা প্রতিনিধি 

বহুমাত্রিক.কম


গরু পালনে ব্যাংকঋণ : ভোলায় বেড়েছে মাংস-দুধ উৎপাদন
ফাইল ছবি

ভোলা : ভোলায় গত ৫ বছরে গরুর মাংস ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মাংস উৎপাদন বেড়েছে ১৫ভাগ ও দুধের বেড়েছে ১২ভাগ। বাংলাদেশকে দুধে স্বয়ংসম্পুর্ণ করার লক্ষ্যে সরকারের মাত্র ৫% সুদে ঋণ প্রদানের ফলে এখানে গাভী পালনের আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারি সহযোগিতায় জেলার ৭ উপজেলায় ছোট-বড় ৬৪৮টি গাভীর খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামার থেকে দৈনিক ১৬ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন করা হয়। 

বছরে দুধ আসে ৫ হাজার ৯১৩ মে:টন। আর জেলায় মোট ২ লাখ ৭ হাজার ১৪২টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে দেশী গাভী রয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৪১টি ও সংকর জাতের গাভী রয়েছে ৪১ হাজার ২৮টি। এছাড়া জেলায় মাংসের জন্য গরু হৃষ্ট পুষ্ট করনের খামার রয়েছে ১৩’শ ৭৫টি টি। এখানে মাংসের জন্য ২ লাখ ৩ হাজার ১৩৮টি গরুসহ জেলায় মোট ৪ লাখ ১০ হাজার ২৮০টি গরু রয়েছে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আলমগীর বলেন, পুরো দেশকে দুধে সয়ং সম্পুর্ন করার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ৫% সুদে ঋন বিতরন ভোলায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে। বিগত সময়ের চাইতে বর্তমানে জেলায় গাভীর সংখ্যা, মাংস, দুধ উৎপাদন ও এই খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে যেখানে গাভীর খামার ছিলো ৩৮৭টি সেখানে ২০১৬-১৭ বছরে খামারের সংখ্যা প্রায় সারে ৬শ’।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৫% হারে গাভী পালনের জন্য ঋন বরাদ্দ এসেছে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর এই ঋন ১৮০ জনের মাঝে বিতরন করা হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার। ফলে অনেকেই গাভী পালনের মাধ্যমে বর্তমানে নিজে যেমন স্বাবলম্বি হচ্ছেন, তেমনি অন্যরও কর্মসংস্থানের মাধ্যম সৃষ্টি করছেন। ফলে বেকারত্ব দূর হয়ে স্বচ্ছলতা ফিরে আসছে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দ্বীপ জেলা ভোলা কৃষি সমৃদ্ধ বলে এখানকার প্রায় সাড়ে তিন লাখ হেক্টর সমতল ভূমি রয়েছে। বারো মাসই এসব জমিতে ধান সহ কোন না কোন ফসল আবাদ হয়ে থাকে। তাই চারণ ভূমির অভাবে অনেক কৃষকরা এখন খামার পদ্ধতিতে গাভী ও ষাড় পালন শুরু করেছেন। এছাড়া সহজ শর্তে সরকারি ঋণ প্রদান করায় বাড়তি উদ্যোম পেয়েছে গাভী পালনকারীরা। এসব খামারের মালিকেরা প্রথমত: ২/৪টি গাভী দিয়ে খামার শুরু করেন। আজ তাদের খামারে ১০/১০০টি পর্যন্ত গাভী রয়েছে। আবার কোন কোন খামারে এরচেয়ে বেশি গাভীও রয়েছে। 

এসব গাভী আবার দেশীয় নয়। বেশিরভাগ খামারে অস্ট্রেলিয়ান অথবা উন্নত জাতের গাভী লালন পালন করা হচ্ছে। একেকটি শংকর জাতের গাভী দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ দেয়। এখানে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত শংকর জাতের বখনা তৈরি করা হয়। ৬০ হাজারের বেশি শংকর বাছুর উৎপাদন করা হয়েছে জেলায়। এছাড়া গ্রামের অধিকাংশ বসত বাড়িতে প্রাচীনকাল থেকেই গাভী পালন করা হয়ে থাকে। গ্রামীন জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিনত হয়েছে গাভী তথা গরু লালন। 

ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের আখতার ডেইরি ফার্ম প্রথমে ৪টি গাভী দিয়ে শুরু করা হয়। বর্তমানে ৫৩টি গাভী রয়েছে। এছাড়া ষাড় ও বখনা মিলিয়ে মোট ১০৮ টি গরু রয়েছে এই ফার্মে। এখানকার একেকটি গরু দৈনিক ৫ থেকে ২০ লিটার করে দুধ দেয়। নিজস্ব পরিবহনে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দুধ পৌঁছে দেওয়া হয়। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ জন লোকের। 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, কৃষি ব্যাংক, সোনালী, রুপালী, কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ মোট ১৩ টি ব্যাংকের মাধ্যমে গাভী পালনের জন্য সরকারিভাবে ঋন দেওয়া হয়। একজনকে সর্বনিম্মে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋন দেওয়া হয়। এই ঋনের সবচে সুবিধা হলো প্রথম ১৪ মাস কোন কিস্তি পরিশোধ করতে হয়না। ফলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাভী পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। 

তারা বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠির প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ কোন কোনভাবে গরু-গাভী পালনের সাথে জড়িত। আর ১০ থেকে ১৫ ভাগ মানুষ সরাসরি এই খাতের সাথে জড়িত। গাভী পালন ও পরিচর্যায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে দেয়া হচ্ছে সব ধরনের সহায়তামুলক সেবা। তাই সামনের দিনগুলোতে এই খাত আরো সমৃদ্ধশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। 

জেলা সদরের ভেদুরিয়া ইউনিয়নে মঞ্জুর আলম বলেন, প্রথমে তিনি ২টি গাভী নিয়ে খামার শুরু করেন প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় করে। এখন তার খামারে ৮টি গাভী ও ৯টি বাছুর আছে। যার বর্তমান মূল্য ১৫ লাখ টাকা। খামারের দুধ সকাল বেলা পাইকারী ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করে শহড়ে নিয়ে বিক্রি করেন। আবার মোঃ হারুন ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৭টি ষাড় নিয়ে খামার গড়ে তোলেন। এখন তার খামারে ১৫টি ষাড় আছে। যার মূল্য ১০ লাখ টাকার উপরে। 

এব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আলমগীর আরো বলেন, এসব খামারে নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা, প্রজনন সেবা ও ভেক্সিন দেওয়া হয়। খামারীদের সচেতন করার জন্য উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগের মাধ্যমে খামারিরা তাদের সব ধরনের সস্যার সমাধান পেয়ে থাকেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।