Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৪:০০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

খুলনায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনে অনিশ্চয়তা


০৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৩:৫০  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


খুলনায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনে অনিশ্চয়তা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

খুলনা: খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে বলে মনে হচ্ছে না। পঁিচশ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা টেক্সটাইল মিলটি বার বার চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি কার্যত বেশিদুর এগোয়নি।

২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার খুলনাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে টেক্সটাইল মিলের জমিতে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপেিনর উদ্যোগ নেয়। পরে ক্ষমতার পালাবদলে সে উদ্যোগ থেমে যায় ২০০১ সালে। এরপর আবারও চলে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কাজ। বার বার শিল্প প্লট স্থাপনের জন্য দরপত্র আহবান করেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি বছরেই দু দফা দরপত্র আহবান করেও ক্রেতা মেলেনি।

সূত্র জানায়, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় বন্ধ থাকা খুলনা টেক্সটাইল মিলসের জমিতে একটি টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ দীর্ঘ দিনের। মামলাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বছরের পর বছর এ উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। দেড় যুগের বেশি সময় পর ২০১৭ সালের শেষের দিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষে নভেম্বরে টেক্সটাইল পল্লীর ২৪টি প্লট বরাদ্দের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সাতটি দরপত্র বিক্রি হয়। কিন্তু সেগুলোর একটিও জমা দেয়া হয়নি।

এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে সেই ২৪টি প্লটই ‘যেখানে যে অবস্থায় আছে’ ভিত্তিতে বিক্রির জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র কেনার শেষ দিন ছিল ২২ অক্টোবর। কিন্তু এবার কোন সিডিউল বিক্রি হয়নি। তাই খুলনা টেক্সটাইল মিলের জমিতে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের প্রক্রিয়া আবারও ঝুলে গেল।

এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ্জামান বলেন কোন স্থানে শিল্প কলকারখানা স্থাপন করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন যোগাযোগ, বিদ্যুতের সহজপ্রাপ্যতা। কিন্তু খুলনার প্রস্তাবিত টেক্সটাইল পল্লীতে এদুটিরই সঙ্কট রয়েছে। নগরীর যে স্থানে প্রকল্পটির অবস্থান সেখানে যাতায়াতের প্রশস্ত কোন রাস্তা নেই। বিদ্যুত সংযোগ পাওয়াটাও অনিশ্চিত। এজন্য বার বার শিল্প প্লট বিক্রির টেন্ডার আহবান করেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ কর্পোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক কাজী ফিরোজ হোসেন এ বিষয়ে বলেন লে অফ ঘোষিত খুলনা টেক্সটাইল মিলের স্থানে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য শিল্প প্লট বিক্রির জন্য দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহবান করা হয়। গত ২২ অক্টোবর দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। কিন্তু প্লট কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি খুজে পাওযা যায়নি। এমনকি কোন সিডিউলও বিক্রি হয়নি।


সূত্রমতে , ১৯৯৯ সালে বন্ধ থাকা খুলনা টেক্সটাইল মিলসের জমিতে একটি টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০০১ সালে তত্কালীন সরকার প্রকল্পটি স্থগিত করে। তবে ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে আবারো টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু মামলার কারণে তাও স্থগিত হয়ে যায়। স্বাধীনতার আগে মঞ্জুরিকৃত ২ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার একটি ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মামলা করে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। এতে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মিলের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের সোলেনামা মূলে বিরোধ নিষ্পত্তির পর প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ব্যাংকের সমুদয় ঋণের অর্থ এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

এর পরই মিলের প্রায় ২৬ একর জমির মধ্যে ১৮ দশমিক শূন্য ২ একরকে ৩৬টি শিল্প প্লটে ভাগ করে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত ৪ দশমিক ৬১ একর জমি রাস্তা, মসজিদ, বিদ্যালয়, কবরস্থান, পার্ক ও ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য রাখা হয়। মিলের অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ঠিক এমন সময় ২০১০ সালে মাহমুদ আলী মৃধা নামে ঢাকার এক ব্যবসায়ী মিলের কোটি টাকার শেয়ার দাবি করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন (নম্বর ৯৮৮০/ ২০১০)। ওই রিটের বিপরীতে ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খুলনা টেক্সটাইল মিলের শেয়ার হস্তান্তর করা থেকে সরকারকে বিরত থাকার অর্ন্তবর্তী আদেশ দেন।

পরে বিটিএমসির পক্ষ থেকে আপিল করা হলে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু শুনানি শেষে রিট পিটিশনটি রায়ের জন্য নির্ধারিত থাকা অবস্থাতেই বিচারিক বেঞ্চ ভেঙে যায়। এতে মামলাটি অনিষ্পন্ন থাকে। এর দীর্ঘদিন পর মামলাটি হাইকোর্টে বিচারপতি রেফাত আহমেদের বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেখানে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নতুন করে শুনানি শুরু হয়। বাদীপক্ষের একাধিকবার সময় প্রার্থনার পর শুনানির একপর্যায়ে আবারো বেঞ্চ ভেঙে যাওয়ায় বিচারকাজ বিলম্বিত হয়। গত বছরের আগস্টে উচ্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় বিটিএমসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ১৯৩১ সালে খুলনা নগরীর ছোট বয়রা এলাকায় ২৫ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কটন মিলের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬০ সালে নামটি পরিবতৃন করে এর নামকরণ হয় খুলনা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন সরকার মিলটির লে-অফ ঘোষণা করে। এরপর কয়েকবার মিলটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।