Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ চৈত্র ১৪২৫, শুক্রবার ২২ মার্চ ২০১৯, ২:২৬ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কমলগঞ্জে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক 


০৪ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৪:৫৯  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কমলগঞ্জে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক 

মৌলভীবাজার : কৃষি অধ্যূষিত মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলায় সারা বছরই টমেটো চাষাবাদ চলছে। অমৌসুমে টমেটোর গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন ও টমেটো চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

বন বেগুন গাছের সাথে টমেটোর চারার গ্রাফটিং পদ্ধতি দীর্ঘদিন যাবত অবলম্বন করে কৃষকরা বাড়িতে বসেই আয়ের এই পথ বেঁচে নিয়েছেন। ফলে সারা বছর চারা পেয়ে সেড পদ্ধতিতে গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সময়েও কৃষকরা টমেটো চাষাবাদে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। উৎপাদিত এসব টমেটো দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ছত্রাক আর পোকামাকড় দমনে টমেটো চাষাবাদে কীটনাশকের ব্যবহার অসহনীয় মাত্রায় রূপ নিয়েছে। ফলে মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমলগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলীনগর, আদমপুর, মাধবপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার তিলকপুর, জামিরকোনা, হোমেরজান, পাত্রখোলা, কাটাবিল, নাজাতকোনা, ধলাই পার, নরেন্দ্রপুর, ছয়ছিড়িসহ বিভিন্ন গ্রামে গ্রীষ্মকালীন সময়ে ১০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষাবাদ হয়েছে। এসব এলাকা ছাড়াও পুরো উপজেলা মিলিয়ে শীতকালীন সবজি হিসাবে এ পর্যন্ত দেড়শ’ হেক্টরেরও বেশি জমিতে টমেটো চাষাবাদ হয়েছে। তবে মৌসুম পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর অতিক্রম করবে। অনেকেই ধান চাষের চেয়ে টমেটো চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

টমেটো চাষাবাদকারী কৃষকরা বর্তমানে জমিতে পরিচর্চার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে পূর্বের তোলনায় টমেটো চাষাবাদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। মৌসুম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে টমেটো চাষাবাদে প্রায় তিনশ হেক্টর জমি অতিক্রম করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা উৎপাদনেও সাফল্য লাভের শীর্ষে রয়েছেন কয়েকজন কৃষক। জেলার সর্বোচ্চ টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে কমলগঞ্জে। বর্ষা মৌসুমেও টমেটোর উৎপাদনে সাফল্য রয়েছেন অনেকেই। তিলকপুরের নৃপেন্দ্র কুমার সিংহ, ব্রজেন্দ্র কুমার সিংহ, রেজা উদ্দিন, আব্দুল হাসিম টমেটোর গ্রাফটিং চারা উৎপাদন ও বিক্রয় করে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন।

সদ্য বিদায়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, বলা যায় কমলগঞ্জে টমেটো চাষাবাদ একটি বিরল দৃষ্টান্ত। সরেজমিনে টমেটো চাষাবাদের চিত্র না দেখলে তা সহজে বুঝা যাবে না। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষনিক তদারকি ও পরামর্শ মোতাবেক এই এলাকায় টমেটোর চাষাবাদ হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এসব কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া পরিমিত উপায়ে কৃষকদের কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এরপরও অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করছেন সেটি মোটেই ঠিক নয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, কীটনাশকের পরিবর্তে ফেরোমোন ফাঁদ ও পরিমাণ মতো কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

সরেজমিন পাত্রখোলা বালুচর এলাকা ও আদমপুর ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকায় প্রায় ১৮ একর জমিতে গাছে গাছে পাকা ও আধা পাকা টমেটো ঝুলছে। একই অবস্থা আদমপুর ও আলীনগর ইউনিয়নের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেতে। উপজেলার উত্তর তিলকপুর গ্রামের আবু সোফিয়ান, চেরাগ মিয়া, শাহিন মিয়া, তাহির মিয়া, এলাইছ মিয়া, মোবারক মিয়া, ফরিদ মিয়া, মেন্দি মিয়া, বিলাল মিয়া, ধলাইপারের মানিক মিয়া, কান্দিগাঁও এর খায়র্জুজামান, ঘোড়ামারার গাজি মিয়া, পাত্রখোলার জাহাঙ্গির, জয়নাল হাজারী, বিরবল প্রসাদ, সবুজ মিয়া, মৃনাল, সহ প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক কৃষক টমোটো চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

কৃষকরা বলেন, টমেটো চাষাবাদে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার ছাড়া ছত্রাক ও পোকামাকড়ের হাত থেকে ক্ষেত রক্ষা করা মোটেই সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এভাবে চাষাবাদ করেই অভাবের সংসার ঘুচাতে সক্ষম হয়েছি। কৃষক মোবাশ্বির আলী বলেন, টমেটোতে যে পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

কমলগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাধাকান্ত সিংহ জানান, গ্রীষ্মকালে সেড দিয়ে টমেটো চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।