Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

উন্নয়নবঞ্চিত মাধবপুর লেক: ফেরত যেতে বসেছে বরাদ্ধের অর্থ


১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৯:১৬  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


উন্নয়নবঞ্চিত মাধবপুর লেক: ফেরত যেতে বসেছে বরাদ্ধের অর্থ

মৌলভীবাজার: চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম মাধবপুর লেক। ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ ও শাপলা শালুকের সৌন্দর্য্য দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণীয় হচ্ছে মাধবপুর লেক। চা বাগান ঘেরা এই লেক দেখতে ফিবছর প্রচুর পর্যটকের উপস্থিতি হলেও এটি উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত।

এই লেককে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ২০১৭ সনে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিলে পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অগ্রিম বরাদ্ধ প্রদান করে। তবে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) চা শিল্পের জন্য মাধবপুর লেক পর্যটন শিল্প প্রসার বহির্ভূত রাখতে চাওয়ায় বরাদ্ধকৃত টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে পর্যটন এলাকা মাধবপুর লেক।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর লেকে আসা পর্যটক বহনকারীদের যানবাহন প্রবেশকালে সরকারি মালিকানাধীন এনটিসির মাধবপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ টোকেনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে। তবে চা বাগানের চর্তুপাশে উঁচু টিলার মধ্যবর্তী প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার আঁকাবাকা অপরুপ সুন্দর লেকে পর্যটকদের সেবা দানে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। একটি ছোট ছাউনী ও একটি ছোট টয়লেট ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেই। সঠিকভাবে লেকটি পরিচর্চা ও আগত পর্যটকদের তদারকেরও কোন ব্যবস্থা নেই।

এই লেককে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৭ সনে মাধবপুর লেককে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তের পর ২টি টয়লেট নির্মাণ, একটি গভীর নলকূপ স্থাপন, ২টি ট্যুরিস্ট মাশরুম সেড, লেকে উঁচু সিড়ি ও ঘাট নির্মাণসহ পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ৩৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯শত টাকা বরাদ্ধ প্রদান করে।

তবে এনটিসি’র মাধবপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক চৌধুরী মুরাদ আহমদ বোর্ডের অনুমোদন ব্যতিরেখে অনাপত্তিপত্র প্রদান না করায় বরাদ্ধকৃত টাকা কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে এখনও ঝুলে আছে। পর্যটন উন্নয়নের এই কাজ না হলে টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, চা বাগান ব্যবস্থাপক ও এনটিসির ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে।

মাধবপুর চা বাগান লেকে পর্যটন ব্যবস্থা চালু বিষয়ে এনটিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল লিখিত পত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই লেকের পানি চা চাষাবাদে ব্যবহৃত হয়, প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষণ প্রয়োজন। ব্যাপক মানুষের আনাগোনায় চা বাগানে বিভিন্ন রোগ ও ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় চা পাতা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি কোম্পানীর পরিচালনা পর্যদে চেয়ারম্যান, গবেষণা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় মাধবপুর লেককে পর্যটন শিল্পে প্রসারের বহির্ভূত রাখা জরুরী মর্মে বাংলাদেশ চা বোর্ড মনে করে এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানীও একই মত পোষণ করে।

বক্তব্য জানতে চাইলে এনটিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি বোর্ডের সভায় উত্থাপন করা হবে, বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দিবে সেটাই কার্যকর হবে। তবে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু জানান, দৃষ্টিনন্দন লেকের উন্নয়ন হলে এলাকাও উন্নত হবে। এনটিসিও সরকারি প্রতিষ্ঠান আর পর্যটন কর্পোরেশনও সরকারি প্রতিষ্ঠান।

আর সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চা বাগান করা হয়েছে। এখানে মাধবপুর লেকের পর্যটন উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কিভাবে এনটিসি আপত্তি জানাবে। তারা মনে করেন জেলা প্রশাসক চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে মাধবপুর লেকের উন্নয়নের কাজ করতে পারেন।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এনটিসি’র অধীনস্থ মাধবপুর চা বাগান লিজকৃত ভূমিতে অবস্থিত। লেকের উন্নয়ন কাজের জন্য বাগান ব্যবস্থাপক ও এনটিসি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে অনাপত্তি প্রদানের আবেদন করা হয়। তবে বাগান কর্তৃপক্ষ চা বাগানের ক্ষতির আশঙ্কায় অনাপত্তিপত্র প্রদানে সম্ভব নয় মর্মে অবহিত করে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৭ এর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক মাধবপুর লেক এর উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে লেক ও তৎসংলগ্ন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-৮ এর ২০১০ সনের ২৫ জানুয়ারীর গেজেট মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চা বাগানের লিজ দলিল হতে কর্তনের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা প্রধানের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।