Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ শ্রাবণ ১৪২৬, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

আবৃত্তি শিল্পী মোবারক হোসেনের প্রয়াণ ও আমাদের দীর্ঘশ্বাস


০৯ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০১:১৬  এএম

মাসুদুল হক

বহুমাত্রিক.কম


আবৃত্তি শিল্পী মোবারক হোসেনের প্রয়াণ ও আমাদের দীর্ঘশ্বাস

অকালেই চলে গেলেন বরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী মোবারক হোসেন (৪২)। গত সোমবার গাজীপুর শহরের ফণির টেক এলাকার নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন (ইন্নালিল্লাহি .. রাজিউন )। মৃত্যুকালে তিনি মা, ছোট দুই ভাই ও এক বোন রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গাজীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

তিনি জেলা শিল্পকলার আজীবন সদস্য ও চলচ্চিত্র সংসদের মুখ্য সম্পাদক ছিলেন। গতকাল বিকেলে জয়দেবপুর রাজবাড়ি মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা,আইনজীবী,সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক লোক অংশ নেন। পরে তাকে গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়ায় দাফন করা হয়।

আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি বেশি থাকলেও একাধারে তিনি পান্ডুলিপি লেখক, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, নাট্য নির্মাতা,পরিচালক ও অভিনেতা ছিলেন। তিনি ঢাকা পদাতিকের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ‘অন্য অ্যাডভারটার্জিং’র স্বত্তাধিকারী হিসাবে বেশ কিছু টিভি বিজ্ঞাপন নির্মান করেন। এর মধ্যে ‘গাজী পাম্প’র বিজ্ঞাপনটি এত বছর পরও বেশ দর্শকপ্রিয়। তিনি ‘পুলিশ সপ্তাহ’ ও সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ওপর একাধিক তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে দর্শনীর বিনিময়ে ‘একক আবৃত্তি সন্ধ্যা’ করেন। আবৃত্তি সন্ধ্যাটি সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সম্প্রতি তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমির জন্য ভাওয়াল পরগনার লোক কাহিনী অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চিত্র ‘বদুর গান’ নির্মাণ করেন। এটি নির্মানে তিনি যথেষ্ঠ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘বদুর গান’ প্রদর্শিত হয়। মোবারক হোসেন তাঁর বাল্যবন্ধু ও সহযোদ্ধা ওস্তাদ বিল্লাল হোসেন নির্দেশিত ‘ভাওয়াল সন্যাসী’ যাত্রাপালাতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন। জেলা শিল্পকলা ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বাইরেও তিনি প্রচন্ড সামাজিক-রাজনৈতিক-নাগরিক সচেতন ও স্পর্শকাতর ব্যক্তি ছিলেন। ভেজালের গ্রাস থেকে মুক্তির প্রচেষ্টা হিসাবে তিনি সালনায় জৈবসারনির্ভর কৃষি খামার গড়ে তুলেন। প্রচন্ড কায়িক শ্রম ও অর্থ ঢেলে তিনি খামারটি দাঁড় করিয়েছেন। সম্প্রতি খামারে ড্রাগন ফুল ফোঁটায় তাঁর সে কী উচ্ছ্বাস। বন্ধু-সুহৃদদের মুঠোফোনবন্দি ফুল দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুলের ছবি পোস্ট করেছেন। হায় নিয়তি। ফল দেখার আগেই বড্ড অসময়ে মোবারক হোসেন নিজেই ঝরে গেলেন।

কেন অসময়ে অকৃতদার, অর্ন্তমুখি, জেদি এই শিল্পীর মস্তিষ্কপ্রদাহে মৃত্যুবরণ! মোবারকের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে এ নিয়ে ছিল হাহাকার। উত্তরও আছে অতিঘনিষ্ঠদের কাছে। মোবারকের ঘনিষ্ঠ জনৈক পুলিশ সুপার অতিসম্প্রতি স্পর্শকাতর এক ঘটনায় নিজ বিভাগে শাস্তির মুখে পড়েছেন। বন্ধুঅন্তঃপ্রাণ মোবারক এটিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। গত তিন-চার দিন মোবারকের মধ্যে অস্থিরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই বন্ধুও হয়ত জানেন না ব্যক্তি মোবারক তাকে কতটা উপলব্ধি করতেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।