Bahumatrik Logo
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

‘হিডেন ডায়মন্ড বাংলাদেশের চর’


১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ রবিবার, ০১:৩৫  পিএম

আশরাফুল ইসলাম ও শূচি অপরাজিতা ইসলাম

বহুমাত্রিক.কম


‘হিডেন ডায়মন্ড বাংলাদেশের চর’

ঢাকা: নদী বিধৌত বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল অপার সম্ভাবনার আধার। সেখানকার সম্ভাবনা ও সংকট বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এই চরাঞ্চল হতে পারে খাদ্যের আধার, তেমনি পুষ্টি ঘাটতি পূরণেও হতে পারে রীতিমতো আশীর্বাদ।

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিরাট অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের বেকার জনগোষ্ঠির একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারে এই চরাঞ্চল। এসব বিষয় বিবেচনায় চরাঞ্চলকে ‘হিডেন ডায়মন্ড’ও বলা যেতে পারে।Chor

নিজ বাসায় বহুমাত্রিক.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীন ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আব্দুল করিম।

বহুমাত্রিক.কম-এর পক্ষে বিশেষ এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও বিশেষ প্রতিবেদক শূচি অপরাজিতা ইসলাম। 

Chorঅধ্যাপক করিম গত চার বছর ধরে দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা ও জীবনমানের উন্নয়নে নিবিড় ভাবে কাজ করছেন। পরিচালনা করছেন উন্নয়ন সহযোগিদের, বিশেষ করে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন-বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প। সেসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানাতে চেয়েছেন সেইসব জনপদের সংকট-সম্ভাবনার নানাদিক।

‘চরাঞ্চলের সংগ্রামী মানুষদের বিপুল প্রাণশক্তি দূর্যোগে-সংকটে তাদের সবচেয়ে বড় সহায়ক’ উল্লেখ করে ড. করিম বলেন, ‘‘গত চার বছর দেশের বিভিন্ন চরে কাজ করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি সেখানকার মানুষদের প্রাণশক্তি। বন্যা-দূর্যোগ নিয়ে তারা একেবারেই উদ্বিগ্ন নয়, কারণ তারা জানেন কিভাবে তা থেকে উত্তরিত হওয়া যাবে।’’Chor

‘‘চরের অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের জীবনগাঁথা আমি জানি। নূরু মিয়া নামে এমনি এক চরবাসী আছেন, যিনি চরের চিরায়ত ভাঙ্গাগড়ার শিকার হয়ে ৫০ বছরের জীবনে আটবার তার আবাসস্থল পরিবর্তন করেছেন। ভবিষ্যতের ভাবনা তার কাছে বড় নয় বর্তমানটাই আসল। অমরা বা রাষ্ট্র তার জন্য কি করেছি? সে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?’’-যোগ করেন আব্দুল করিম।

‘বন্যা চরের বাসিন্দাদের জন্য শুধু দূর্ভোগই বাড়ায় না’ উল্লেখ করে অধ্যাপক করিম বলেন, ‘‘বন্যা চরের মানুষদের জন্য সৌভাগ্যের সঞ্চয়ও বয়ে নিয়ে আসে। হিমালয় থেকে বিপুল জলরাশি পথে পথে পলি বয়ে এনে উর্বরা করে তুলে চরের জনপদগুলোকে। যার ফলে পানি নেমে যাওয়ার পর চরের মানুষেরা বিস্তীর্ণ চরকে ভরে তুলে পরিপুষ্ট ফসলের সমাহারে।’’

Chorচরের বর্তমান খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি দাবি করে এই কৃষি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘রবি বা শীত মৌসুমে প্রধান খাদ্য শস্য ধানের উৎপাদনেই এখনো ঝুঁকে চরের কৃষকরা। এবিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে, কেননা চরের মাটিতে বালুর অনুপাত বেশী হওয়ায় এর পানি ধারণ ক্ষমতা কম হয়। ফলে বোর ধানের একটি ফলন তুলতে কম করে হলেও ৪০/৫০ বার সেচ দিতে হয় সেখানে। অথচ সেচ দেওয়াটাই তাদের পক্ষে সবচে’ চ্যালেঞ্জের।’’

Chorসাম্প্রতিক গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, স্বল্পসেচে বা সেচবিহীন ভাবেই যেসব ফসল ফলানো সম্ভব চরে, সেদিকে নজর দিতে হবে। অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য গম ছাড়াও চরের ভূমি ভুট্টা, মসুর, চিনা, কাউন, সরিষা, সয়াবিন, বাঙ্গি, তরমুজ, কলা প্রভৃতি ফসল চাষে খুবই উপযোগী। সর্বোপরি, চরে ক্রপ ডাইভারসিটি (ফসল বৈচিত্র্যতা) বাড়ানো খুবই জরুরি।

চরের কৃষকরা গবেষকদের চেয়েও স্মার্ট দাবি করে অধ্যাপক করিম বলেন, ‘‘একটি ফসল উঠে যাওয়ার পর অন্য একটি ফসল লাগানোর মধ্যবর্তী সময়েও চরের কৃষকরা ‘ঠাকরি কলাই’ জাতীয় স্বল্পমেয়াদের ফসল লাগিয়ে ব্যস্ত রাখেন নিজেদের।’’

চরের কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নত ও অধিক উৎপাদনে নিয়ে আসতে কৃষি গবেষণার ভাবনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক এম. আব্দুল করিম।Chor

তিনি মনে করেন, ২শ’ বা ৩শ’ কিলোমিটার দূরে আধুনিক সুবিধা সম্মলিত গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে চরাঞ্চলের জন্য ফসলের জাত উন্নয়ন করে খুব একটা সাফল্য আসবে না। কেননা সেখানকার মাটির গুণাগুণ, জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা এক নয়। গবেষণার ফলাফল চুড়ান্ত করার পুর্বেই কমপক্ষে ২-৩ বছর তা চরে ভেরিফাই করে সুপারিশ মালা তৈরী করতে হবে।

একইসঙ্গে ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক ও বালাই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও চরের মাটিতেই গবেষনার ফলাফল চুড়ান্ত করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহে চরাঞ্চলের কৃষি এবং জনজীবনের উন্নয়নে বেশি করে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

Chorচরের কৃষি উৎপাদনে বড় অন্তরায় সেচ ব্যবস্থার দৈন্যতা। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র চরের কৃষকদের সময়মতো সেচ ও বীজ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই চরাঞ্চল। সুখের কথা হলো চর এলাকার পানির স্তর অগভীর হওয়ায় ৭০-৮০ ফিট গভীরেই পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়। একটি বোরিং করে পাম্প বসিয়ে প্লাস্টিক বা পলিথিনের পানি ডেলিভারি পাইপ দিয়ে ৫০০-১০০ ফুট দুরেও পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

এমন দাবি করে অধ্যাপক আব্দুল করিম বলেন, ‘‘চরের কৃষকদের আর্থিক অসামর্থ্যরে কথা বিবেচনা করে তাদের ডিজেল ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের জোরাল বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আর সময় মতো বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। তাহলে চরের কৃষি ব্যবস্থা ইর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।’’Chor

কৃষি বিশেষজ্ঞ হিসেবে অধ্যাপক করিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। পূর্বাপর অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সেসবের কার্যকর বাস্তবায়ন বদলে দিতে পারে বিস্তীর্ণ চর জনপদের চেহারা। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এই চরাঞ্চল হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

Chorগবেষণার অর্জিত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা মেলে ধরে অধ্যাপক আব্দুল করিম জানান চরাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যক্তিগত বেশ কিছু সুপারিশও। তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন, ‘হিডেন ডায়মন্ড’ চরের জন্য সরকারের কার্যকর নানামূখি পদক্ষেপ বা ভর্তুকির রিটার্ন অচিরেই দিতে সক্ষম সেখানকার সংগ্রামী মানুষেরা।

চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের চলমান সিএলপি’র মতো বিশেষ প্রকল্প বেশি বেশি নিতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক করিম।

তিনি মনে করেন, সমন্বিত চর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে শুধু শুকনা মৌসুমে নয়, ভরা বর্ষাতেও কর্মসংস্থান আর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকবে চরের মানুষ। বর্ষার তিন মাস শুধু হাঁস প্রতিপালন করে চরের মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে পারে।Chor

ব্যক্তিগত ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ১০ লক্ষ হেক্টর আয়তনের চরাঞ্চলে বর্ষায় যদি এক কোটি হাঁস পালন করা যায় এবং তা যদি তিন মাস পর জবাই করে ফ্রিজিং করা যায়, তাহলে দেশে প্রাণিজ আমিষের সংকট অনেকটাই দূর হবে।’’

তিনি মনে করেন, হাঁস প্রতিপালনের এই কর্মযজ্ঞটি করা গেলে এই সময়ে জীবিকা না থাকায় রাজধানীতে ভিড় করা বিপুলসংখ্যক চরের মানুষ নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে। শহরেও মানুষের বাড়তি চাপ কমবে। তাছাড়া হাঁসের সঙ্গে মাছের চাষও হতে পারে। যার উজ্জ্বল সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।Chor

অধ্যাপক করিমের সুপারিশ, চরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সঙ্গে বিপণন ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। অন্যথায় প্রচুর উৎপাদন করেও কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে উৎসাহ হারাবে।

কৃষি শিল্প উদ্যোক্তাদের এক্ষেত্র্যে এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের যে অসংখ্য চর রয়েছে, তার প্রতিটিতেই উন্নতমানের কলার প্রচুর উৎপাদন হয়। শুধু বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী না হওয়ার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই উদ্যোক্তাদের সেদিকে সুদৃষ্টি দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। তাছাড়া চরের কলা বিদেশে রপ্তানি করারও ব্যাবস্থা নেয়া যেতে পারে।

Chorচরাঞ্চলে যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা অনেকাংশেই অনপুস্থিত। বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে যেমন ওইসব জনপদের মানুষদের লড়তে হয়, একই সঙ্গে সেখানে কাজ করা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের (যেমন-কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য) মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরও কষ্ট শিকার করতে হয়। তাই তাদের অতিরিক্ত ভাতা প্রদানের বিষয়টিও যৌক্তিক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন আব্দুল করিম।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো চর ও হাওরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বিশেষ ভাতা দিলে সেখানে পরিসেবা কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। অন্যথায় বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও তা কার্যকর ফল বয়ে আনবে না বলে মত এই কৃষি বিশেষজ্ঞের।

Chorঅধ্যাপক এম. আব্দুল করিম সম্পর্কে

এম. আব্দুল করিমের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১৫ জুলাই ঢাকার অদূরে সাভারের গোপালবাড়ি গ্রামে। হাজী ওয়াহেদ আলী ও আজিরন নেসা দম্পতির সন্তান করিম জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটি হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা কলেজে।

উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুল করিম ভর্তি হন এশিয়ার কৃষি গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার অন্যতম পীঠস্থান ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও কৃষিতত্ত্বে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন করিম। এরপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই ১৯৯৩ সালে ট্রপিক্যাল এগ্রিকালচারে (গ্রীষ্মমন্ডলীয় কৃষি) পিএইচডি অর্জন করেন করিম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) কৃষিতত্ত্ব বিভাগে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন ড. এম. আব্দুল করিম। এখানে তিনি তৈলবীজ, তন্তু জাতীয় ফসল ও প্রধান খাদ্য শস্যসমূহের উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে কাজ করেন।

জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অধ্যয়নকালে বিরূপ পরিবেশে খাদ্যশস্যের ফলন বৃদ্ধির কৌশল নিয়েও গবেষণার সুযোগ পান তিনি। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৈরি প্রকৃতিতে কৃষি উৎপাদনে গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগান ড. করিম। উন্নয়ন সহযোগিদের পরিচালিত এনজিও ‘আরডিআরএস’-এ এগ্রিকালচার কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯৫ সালে ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্রাজুয়েট স্টাডিস ইন এগ্রিকালচার (ইপসা)-তে কৃষিতত্ত্ব বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে শিক্ষকতায় আসেন ড. করিম।

‘ইপসা’ পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে উন্নীত হন তিনি।

অধ্যাপক করিম বিশ্ববিদ্যলায়ের কোষাধ্যক্ষ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), বিভাগীয় প্রধান সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীনের দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষণা ও পাঠদানের পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া ও পল্লী উন্নয়নে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অধ্যাপক করিম দেশের বিস্তৃত চরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠির ভাগ্য পরিবর্তনে নিরন্তর কাজ করে চলছেন।Chor

কৃষি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্যের জন্য বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও অতিথি অধ্যাপক-অতিথি গবেষক হিসেবে নিজের কৃষি ভাবনা তুলে ধরা সুযোগ পেয়েছেন। দেশে ও বিদেশের অসংখ্য বিজ্ঞান সমায়িকী ও মূলধারার সংবাদপত্রে অধ্যাপক করিম’র অসংখ্য নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন সংগঠনেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ড. করিম। শৈশবে বাবার সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত এই কৃষিবিদ নিজ গ্রামের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছেন অন্যসব কিছুর মতোই।

নিজগ্রামে গোপালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অবহেলিত ও অনগ্রসর ওই অঞ্চলকে আলোকিত করেছেন অধ্যাপক করিম। এই স্কুল প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিগত জীবনে আত্মতৃপ্তি খোঁজে পান এই কৃষিবিদ।

অনগ্রসর ওই জনপদে, বিশেষ করে মাধ্যমিকে পদার্পণ করেই যেসব কিশোরী মেয়েরা বিয়ের পিঁড়িতে বসতো, তারা অনেকেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা বড় চাকুরে হচ্ছেন শুধুমাত্র এই স্কুলের কারণে।

এছাড়াও অধ্যাপক করিম একাধারে সাভার ইন্টারমিডিয়েট বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, গোপালবাড়ি মনজুয়ারা এতিমখানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মাতৃছায়া ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান উপদেষ্টা ও শিমুলিয়া এসপি হাই স্কুল অ্যালমনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি।

Prof.Karim_Mrs.Karimঅধ্যাপক এম. আব্দুল করিম ও হাসিনুল বাশার দম্পতির তিন সন্তান। বড় ছেলে ওয়াহিদ করিম চিকিৎসক, মেয়ে তাজবিয়া করিম আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক। কনিষ্টপুত্র হাসান করিম স্কুলে পড়ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।