Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

সৌন্দর্য আর রহস্যঘেরা ‘বগা লেক’


১৯ জুন ২০১৫ শুক্রবার, ০২:৩৭  পিএম

বান্দরবন প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


সৌন্দর্য আর রহস্যঘেরা ‘বগা লেক’
ছবি-সংগৃহীত

বান্দরবন: বগা হ্রদ বা স্থানীয় নামে বগা লেক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বগা লেকের অবস্থান। লেকটির গড়ে উঠা নিয়ে নানা-গল্প ও নানা-বিতর্ক রয়েছে।

নামকরণ সম্পর্কেও রয়েছে নানা-মুনির নানা-কথা। বিতর্ক রয়েছে লেকের উচ্চতা নিয়েও। তবে বিতর্ক ও রহস্য যাই থাকুন না কেন লেকটির সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার বিষয়ে সকলেই একমত। ভ্রমণকারীদের কাছে এই লেকটি ‘বগা লেক’ নামে পরিচিত।

অবশ্য স্থানীয়দের ভাষায় তা ‘ড্রাগন লেক’। লেকটির অবস্থান বান্দরবনের রুমা উপজেলায়। অদ্ভুত সুন্দর এই স্বচ্ছ পানির লেকের পাশের গ্রামটি হচ্ছে স্থানীয় বম সম্প্রদায়ের বগামুখপাড়া।

আর্মি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে সরুপথ ধরে ভ্রমণকারীদের যেতে হবে বগা লেক এলাকাতে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। আশপাশে পানির কোনো উৎসও নেই। তবে বগা লেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তার চেয়ে নীচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে। যা ‘বগা ছড়া’ নামে পরিচিত।

আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই লেকের পানি প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, লেকের তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই প্রসবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় বগা লেকের পানির রং বদলে যায়। প্রচুর মাছে ভরা এই লেক। জলজ লতাপাতা আর খাড়া পাথরের পাড়ের জন্য চমৎকার তাপমাত্রার এই পানিতে সাঁতার কাটার সময় একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রঙিন শাপলা ফুলের লতাও জড়িয়ে আছে লেকের চারপাশে। বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদগণের মতে, বগাকাইন হ্রদ (বগা লেক) মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

Boga_Lakeঅনেকের ধারণা ভূমিধসের কারণে এটি সৃষ্টি হয়েছে। রুমা বাজার থেকে চাঁদের গাড়ি ও হেঁটে প্রাকৃতিক এই লেকে যাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে লেকের পাড়ে চাঁদের গাড়ি পৌঁছলেও বর্ষা মৌসুমে খুবই বিপজ্জনক।

সেক্ষেত্রে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীরা রওনা দিতে পারেন হাঁটা পথে। তবে যে পথেই চলুন না কেন রুমা বাজার থেকে স্থানীয় একজন গাইড সঙ্গে নেয়ার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে এখানে। নিরাপত্তা ও স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করেই নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

বগা লেকে যাবার আগে স্থানীয় রুমা আর্মি ক্যাম্পে ভ্রমণকারীদের তথ্য জমা দিতে হয় বা ‘রিপোর্ট’ করতে হয়। গাইডকে প্রতিদিন তিন শ’ থেকে পাঁচ শ’ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে ভ্রমণকারীদের। বর্ষা মৌসুমে বগা লেক চূড়ায় গাড়ি সহজে উঠে না। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত, প্রায় দু’হাজার বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ের চূড়ায় এই লেক তৈরি হয়। এ লেকের আয়তন ১৫ একর।

এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। এই শৃঙ্গগুলো আবার সর্বোচ্চ ৪৬ মিটার উঁচু বাঁশঝাড়-জঙ্গলে আবৃত। ধারণা করা হয়, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। বগা লেক ভ্রমণকারী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বগা লেক অনেক সুন্দর একটি স্পট।

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্পটটির উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। পর্যটকদের সুবিধার জন্য এখানে আধুনিক কয়েকটি কটেজ নির্মাণ করা, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বগা লেক ভ্রমণকারীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি কটেজ বা মাচাংঘর। এখানে থাকা ও খাবারের জন্য লারাম বম, সিয়াম বমসহ কয়েকটি দোকান আছে।

জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, বান্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলোর সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা ধরনের উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।