Bahumatrik Logo
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় উদযাপিত জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী


২৫ মে ২০১৬ বুধবার, ০৯:১৮  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় উদযাপিত জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী

ঢাকা : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী বুধবার সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালবাসায় উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা, কর্মচারীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। পরে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষে কবির সমাধিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।

এ বছর জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় চট্টগ্রামে। প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতারোধে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম এমএ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালেও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।

আজ ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে যান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল এবং শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

সমাধি প্রাঙ্গণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, নজরুল বিশেষজ্ঞ এমিরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আর্থ এন্ড এনভায়রণমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বক্তব্য রাখেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। নজরুল পরিবারের সদস্য নজরুলের নাতি নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সভাপতির বক্তৃতায় উপাচার্য জাতীয় কবিকে মানবতা, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সকলকে নজরুলের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই যেন নজরুল চর্চা থেমে না থাকে। জাতীয় ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা রোধে’ নজরুলের গান, কবিতা ও প্রবন্ধ আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস। নজরুলের রচনা চেতনাকে শানিত করে, তাই আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে নজরুলের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তাদেরকে নজরুলের রচনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ করা।

উপাচার্য তুরস্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, কামাল আতাতুর্কের তুরস্ক, নজরুলের প্রগতিশীল তুরস্ক আজ মৌলবাদে আক্রান্ত। তুরস্ক আমাদের মানবতাবিরোধী বিচারের সমালোচনা করে, প্রতিবাদ করে, অথচ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্মের নামে যে অধর্ম হয়েছে তার কোন ব্যাখ্যা দেয়নি তুরস্ক।
সবক্ষেত্রে নজরুলের দর্শন, সত্যনিষ্ঠতা ও দেশপ্রেম প্রচার ও চর্চা করার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তায় উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলের স্মৃতিধন্য। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নজরুল মনস্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তাহলেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা সম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হওয়া যাবে।

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে আসা কবির জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস রফিকুল ইসলাম ও জাতীয় কবির পৌত্রী খিলখিল কাজী।
বিরূপ আবহাওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় সংস্কৃতি সচিব বেগম আকতারী মমতাজ রাষ্ট্রপতির পাঠানো বাণী পাঠ করে শোনান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বক্তৃতা করেন।

নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জন্মবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর নজরুল ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে নজরুল একাডেমী গতকাল থেকে ৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন, নজরুল পৃষ্ঠপোষক মুজফ্ফর আহ্মদ স্মরণ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন, ৪৮তম নজরুল একাডেমী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, নজরুল একাডেমীর মুখপত্র ‘নজরুল একাডেমী পত্রিকা, ও ‘নজরুল একাডেমী নবীন শিল্পী প্রকল্প’র ২য় অবদান- শিক্ষার্থী শিল্পী রেবেকা সুলতানা রেবার কণ্ঠে নজরুল সঙ্গীত ভিত্তিক ‘তোমার আঁখির মত আকাশের দু’টি তারা’ সিডির মোড়ক উন্মোচন।

নজরুল স্মরণে একাডেমীর মূল অনুষ্ঠান গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় জাতীয় কবির জন্মদিন ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মুক্তিযোদ্ধা শব্দসৈনিক ও কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী মোঃ আব্দুল জব্বার। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি, শিক্ষাবীদ, লোকবিজ্ঞানী ও নজরুল একাডেমীর সভাপতি ড. আশরাফ সিদ্দিকী।

সাংস্কৃতিক পর্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান নজরুল একাডেমী শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন এবং নজরুল দর্শন অবলম্বনে নৃত্যানুষ্ঠান ‘মানবতার কবি নজরুল’ পরিবেশিত হয়। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আমন্ত্রিত শিল্পী ও নজরুল একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন সৈয়দা নাজনীন ফেরদৌস।

জাতীয় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পরিচালকের নেতৃত্বে একাডেমীর কর্মকর্তা, কর্মচারি, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী শিশুরা আজ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।