Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

রোগ প্রতিরোধী গমের জাত উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন গবেষকরা


০৭ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৪:১২  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


রোগ প্রতিরোধী গমের জাত উদ্ভাবনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন গবেষকরা
ছবি-বহুমাত্রিক.কম

ঢাকা : জনবহুল এদেশে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্রমাগত পরিবর্তনে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় এধরণের বৈরী অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন ও প্রকৃত রোগ-বালাই চিহ্নিত করতে পারাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের প্রধানতম খাদ্য শষ্য গমের ব্লাষ্ট রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন বিষয়ক গবেষণায় সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে কৃষি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে এসব বিষয়।

দেশের কৃষি গবেষণার অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। 

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে বিএআরসি মিলনায়তনে Novel genomic and post-genomics approaches for understanding wheat blast pathogen and development of blast resistant wheat শীর্ষক এই সেমিনারে মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: তোফাজ্জল ইসলাম।

যিনি সম্প্রতি গমের ক্ষতিকারক ব্লাষ্ট রোগ শনাক্তকারী গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে ব্লাষ্ট প্রতিরোধী গমের জাত উদ্ভাবনেও কাজ শুরু করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত গবেষণায় প্রাথমিক সাফল্যে আগ্রহী হয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও এরই মধ্যে গবেষক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গবেষকদের উৎসাহিত করে আহ্বান জানিয়েছেন একে এগিয়ে নেয়ার।

এর ধারাবাহিকতায় এই সেমিনারের আয়োজন করে বিএআরসি, যেখানে সংশ্লিষ্ট গবেষক ছাড়াও এনিয়ে মতামত তুলে ধরেছেন জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদরা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম বিশ্বের কৃষি প্রধান অপরাপর দেশের গমে ব্লাষ্ট রোগের বিস্তার ও এটি মোকাবেলায় নেয়া পদক্ষেপসমূহ এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ব্লাষ্ট রোগ শনাক্ত করতে পারায় আত্মবিশ্বাসী এই গবেষক মনে করেন, ক্ষতিকারক রোগ প্রতিরোধী গমের জাত উদ্ভাবনের যে স্বপ্ন তাও বাস্তবায়ন সম্ভব। 

রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে সমকালীন বিশ্বে স্বীকৃত Clustered regularly interspaced short palindromic repeats (CRISPR/Cas9) প্রযুক্তির প্রয়োগের কথাও জানান তিনি। যেখানে বর্তমান বিশ্বের প্রথম সারির জিন বিজ্ঞানী ও জৈব প্রযুক্তির গবেষকদের সহযোগিতা নেয়া হবে-জানান এই গবেষক। 

বিশিষ্ট জিন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবেদ চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. সোফিয়েন কামাউন, তরুণ গবেষক ড. মাহমুদুল হাসান সার্বিকভাবে এই গবেষণাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।  

এ জাত উদ্ভাবন করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও সামগ্রিকভাবে কৃষি ব্যবস্থায় এক বড় রকমের সাফল্য সূচিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  গবেষণার সাফল্য তৃণমূলে কৃষকদের কাছে পৌছে দিতে সম্প্রসারণ বিভাগের যথাযথ ভূমিকার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ-কর্মশালা আয়োজনের ওপরও জোর দেন তিনি।

সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বাহাদুর মিয়া প্রমূখ উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।