Bahumatrik Logo
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

যানজট নিরসনে মন্ত্রণালয়-বিভাগসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করছ:সেতুমন্ত্রী


১৮ জুন ২০১৬ শনিবার, ১২:৩১  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


যানজট নিরসনে মন্ত্রণালয়-বিভাগসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করছ:সেতুমন্ত্রী

ঢাকা: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং আওতাধীন অধিদফতর-কর্তৃপক্ষ-সংস্থা-প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের দায়িত্ব এককভাবে কোন মন্ত্রণালয়-বিভাগ বা এর অধীনস্থ অধিদফতর-কর্তৃপক্ষ-সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের উপর ন্যস্ত নয়।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং এর অধীনস্থ অধিদফতর-কর্তৃপক্ষ-সংস্থা ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনকল্পে বর্তমান সরকারের গত মেয়াদ থেকে এ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচির মধ্যে ঢাকা মহানগরীর পশ্চিমাংশের সাথে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের যাতায়াত সহজ করার জন্য শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু (৩য় বুড়িগঙ্গা সেতু) নির্মাণ। টঙ্গী রেলওয়ে জংশন ও টঙ্গী শিল্প এলাকার লেভেল ক্রসিং-এ সৃষ্ট যানজট নিরসনের লক্ষ্যে টঙ্গী-কালিগঞ্জ-ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়কের ১ম কিলোমিটারে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহত্তর সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সুলতানা কামাল সেতু (২য় শীতলক্ষ্যা সেতু) নির্মাণ, বনানী লেভেন ক্রসিং-এর ট্রেন চলাচলের সময় সৃষ্ট যানজট নিরসনে ৮০৪ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার (মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার) নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্বায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নবীনগর, বাইপাইল ও জিরানী ইন্টারসেকশন ১০ লেনে উন্নীতকরনের কাজ চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মাহসড়কের সাভার-নবীনগর মহাসড়কাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের ঢাকার উত্তরাংশে প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে বিরুলিয়া-আশুলিয়া মহাসড়ক ও বিরুলিয়া সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ি-কাঁচপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড হতে চাষাড়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ করা হবে। মূল ঢাকা মহানগরী বাইপাস করে মটরযান চলাচলের সুবিধার্থে গাবতলী-সোয়ারীঘাট বাঁধ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে হাতিরঝিল-রামপুরা-বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা-মহাসড়ক নির্মাণ। ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০ বছরের অধিক পুরাতন বাস-মিনিবাস ও ২৫ বছরের অধিক পুরানো পণ্যবাহী যানবাহন ঢাকা মহানগরীতে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পুরাতন জরাজীর্ণ ট্যাক্সিক্যাব-এর পরিবর্তে ঢাকা মহানগরীতে আধুনিক ও মানসম্মত ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিআরটিএ’র উদ্যোগে গাড়ী চালক, সড়ক ব্যবহারকারী ও পথচারীদের সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন ও সচেতনতামূলক বিষয়ে নিয়মিতভাবে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে জাল-ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী গাড়িচালক, যান্ত্রি
ত্রুুটিপূর্ণ-ফিটনেসবিহীন গাড়ি, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বিআরটিসি’র বাস বহরে ৩৮০টি একতলা নন-এসি, ২৩৮টি একতলা এসি, ২৯০টি দ্বিতল এবং ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস মোট ৯৫৮টি বাস সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহজ করার লক্ষ্যে যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়ক ৮-লেনে উন্নীতকরণ। ঢাকা মহানগরীর উত্তরাংশের যানবাহনের মূল ঢাকা নগরীতে প্রবেশ না করে উত্তর পশ্চিমাংশে যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে শিরনিরটেক-গাবতলী মহাসড়ক নির্মাণ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের যানবাহনের ঢাকা প্রবেশ ও নির্গমন সহায়ক করার লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঁচপুর সেতুর পাশেই ৪-লেন বিশিষ্ট ২য় কাঁচপুর সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৮ লেনবিশিষ্ট টঙ্গী সেতুসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সড়ক নির্মাণ করা হবে। সড়কটি নির্মিত হলে ঘণ্টায় উভয় দিকে ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায় ২০১৮ সালে সড়কটি নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) নির্মাণ করা হচ্ছে। এ মেট্রোরেলে ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম দ্রুতগতি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা। নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালের আগেই ২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালু করার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহনে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈদেশিক সহায়তায় বিআরটিসি’র বাস বহরে আরো ৩শ’টি দ্বিতল বাস, ২শ’টি একতলা এসি ও ১শ’টি একতলা নন-এসি বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাসস

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

পথের কথা -এর সর্বশেষ