Bahumatrik Logo
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

মেয়রের কাছে বিচার দিয়ে জমি হারালেন এক শিক্ষক


১৪ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৬:৪৮  পিএম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


মেয়রের কাছে বিচার দিয়ে জমি হারালেন এক শিক্ষক
কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জাহিদুল ইসলাম

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জাহিদুল ইসলাম জিরের কাছে বিচার দিয়ে জমি হারানোর অভিযোগ করেছেন আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। তার অবিযোগ, বিচার না করে উল্টো ৩০ শতক জমি মেয়রের ভাইয়ের নামে রেজিষ্ট্রি করে দিতে বাধ্য করেছেন।

এ নিয়ে আদালতে মামলা করে এলাকা ছাড়া হয়েছেন শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান। তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়ায় তিনি আত্মগোপন করেছেন।

কোটচাঁদপুর আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান জানান, তিনি টাকা নিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি না করে দেওয়ায় বিক্রেতার বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের কাছে নালিশ দেন। বিচার পাওয়ার বদলে মেয়রের আপন বড় ভাই শরিফুল ইসলাম নালিসি ৩০ শতক জমি নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জমি ফেরত পেতে গত ৬ জুন ঝিনাইদহ সহকারী জজ আদালতে হক সেবার মামলা করেন। মেয়রের ভাইয়ের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা। সে মোতাবেক উক্ত শিক্ষক ৪ লখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে এ মামলা করেন।

শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান আরও জানান, ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর কোটচাঁদপুর ৬৩ নং মৌজার সাবেক ৬৮৬, হাল ২২৯ নং দাগের ৭৬ শতক জমি তিনি ও হুন্ডি আজিজ ক্রয় করেন। এতে দু’জনই সমান অংশীদার হন।

পরবর্তীতে আব্দুল আজিজ ২০০৩ সালে তার নামের ৩৮ শতক জমি ৭৬ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে আ.ন.ম মাকসুদুর রহমানের নিকট বিক্রি করে। সে সময় কোটচাঁদপুর শহরের প্রতিষ্ঠিত ৩ ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম, হাজী রমজান আলী ও আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে আব্দুল আজিজ টাকা গ্রহণ করেন। টাকা নেওয়ার পর আব্দুল আজিজ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্ব করতে থাকে। এ নিয়ে শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান কোটচাঁদপুরের মেয়র জাহিদুল ইসলামের স্মরণাপন্ন হন।

সুযোগ বুঝে মেয়র হুন্ডি এজেন্ট হিসাবে খ্যাত আব্দুল আজিজকে ম্যানেজ করে তার বড় ভাই শরিফুল ইসলামের নামে এই ৩০ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করিয়ে নেন। উপায়ান্ত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক আ.ন.ম মাকসুদুর রহমান গত ৬ জুন ঝিনাইদহ সহকারী জজ আদালতে দলিলে জমির মূল্যসহ আনুসাঙ্গিক খরচ বাবদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে হকসেবা মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে মেয়র জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) এর সাথে কথা হলে প্রথমে তিনি পৌর কার্যালয়ে এসে বিষয়টি শোনার জন্য বলেন। পরক্ষণেই তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। কে কার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাও তার জানা নেই বলেছেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ