Bahumatrik Logo
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ

ভারতীয় লবণের আগ্রাসন: খুলনার ৩৬ লবণ মিলের ২৮টিই বন্ধ


১৪ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার, ০১:৪১  এএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ভারতীয় লবণের আগ্রাসন: খুলনার ৩৬ লবণ মিলের ২৮টিই বন্ধ

খুলনা : আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নিম্নমানের লবণ চোরাইপথে প্রবেশের কারণে দেশিয় লবণ মিলগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগস্ত হচ্ছে । শিল্পনগরী খুলনায় এক সময় লবন মিল ছিল ৩২টি এরমধ্যে ২৪টি মিল বন্ধ হয়ে বর্তমানে সে সংখ্যা কমে এসে দাড়িয়েছে ৮টিতে। খুলনা লবণ মিল মালিকদের অভিযোগ ব্যাংক ঋণ চাহিদা মত না পাওয়ার আর ভারত থেকে চোরাইপথে লবণ আসায় এই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক ।

খুলনার রূপসা ও ভৈরব নদের তীরে বৃটিশ আমল থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খুলনার বড় বাজার। বুহত্তম এই মোকামটি ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী বাজার হিসাবে পরিচিত। কক্সবাজার অঞ্চল থেকে ক্রুড লবণ নদী পথে আসার সুবাদে এই নদীর তীরে পাকিস্তান আমল থেকে লবণ মিল প্রতিষ্টা পায়। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পযর্ন্ত যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬টি লবণ মিলে উন্নীত হয়েছিল ।

দেশের প্রথম বৃহত্তর আয়োডিন যুক্ত লবণ খুলনার সুন্দরবন সল্ট চালু করেছিল । যারা দেশের বাজার ছাড়াও বিদেশে লবণ রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সেই সুন্দরবন সল্ট বন্ধ হয়ে গেছে ৬/৭ বছর হলো।

সুন্দরবন সল্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আজিজজুর রহমান বলেন নতুন করে আয়োডিন যুক্ত প্রযুক্তি স্থাপনের সময় তাদের ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থ সঠিক সময় সরবরাহ না করায় আর চোরাইপথে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় লবণের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিল।

খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি অনিল পোদ্দার জানান, ৭৬ কেজির এক বস্তা ক্রুড লবণ কক্সবাজার থেকে পরিবহন খরচ দিয়ে খুলনায় আনার পর দাম হয় ৯০০ থেকে এগারো শত টাকা । আর সেখানে ৮২ কেজি ভারতীয় লবণের দাম মাত্র ৪৫০ টাকা ।

বস্তা প্রতি দামের এত পার্থক্যের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় লবণ এদেশে প্রবেশ করছে। ফলে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি আয়োডিনবিহীন লবণ দেশে প্রবেশ করছে। খুলনা লবনণ মিল মালিক সমিতির পক্ষ হতে দ্রুত এই চোরাইপথে লবণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে তারা চোরাইপথে লবণ আসার প্রতিবাদ জানিয়ে পত্র দিয়েছেন, খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ, বিসিক, বিজিবি, জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর কতাদের কাছে।

খুলনা লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিউদ্দিন বাবলা জানান, কক্সবাজার এলাকার কিছু দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে লবণ চাষিদের কাছ থেকে আগেই লবণ কিনে নেয়। তারপর তারই নিজেদের ইচ্ছা মত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। আর দেশে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় চোরাইপথে লবণ আসছে।

তিনি দাবি করেন, কৃষকদের কথা বিবেচনা না করে যদি চাল আমদানি করার সুযোগ থাকে তাহলে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ কেন নয়? তিনি বলেন, লবণ আমদানি করার সুযোগ থাকলে দেশে ক্রেতার আনেক কম দামে লবণ পাবে । একই সাথে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে বস্তা দেয়া হয় ৭৬ কেজির যা শোধন করলে ৬৬ কেজির বেশী পাওয়া যায় না। আর ভারতীয় লবণের বস্থায় লবণ থাকে ৮২ কেজি যা শোধন করলে ৭৫ কেজির বেশী পাওয়া যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দিলে দেশে ৭/৮ টাকায় আয়োডিন যুক্ত উন্নত মানের লবণ পাওয়া যাবে।

এব্যাপারে বাংরাদেশ ক্ষুদ্র কটির শিল্প কর্পোরেশন ( বিসিক) এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ মেরশেদ আলী দেশে ভারতীয় লবণ প্রবেশের কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তাদের প্রায়ই আয়োডিন বিহীন লবণ উদ্ধার অভিযান চলে। খুলনার দৌলতপুর, চুক নগর, তেরখাদা বিভিন্ন্ বাজার থেকে চোরাইপথে আসা লবণ তারা আটক করা হয় নিয়মিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন লবণ মিল আয়োডিন ছাড়া লবণ বাজারে বিক্রি করে না।

সৈয়দ মোরশেদ আলী আরো জানান, খুলনা অঞ্চলে এক সময় ৩৬টি লবণ মিল ছিল, যা বন্ধ হতে হতে বর্তমানে মাত্র ৮টিতে চলে এসেছে। আর এই ৮টি মধ্যে ৪টি কোন রকমে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।

তিনি লবণ মিল মালিক সমিতির দাবি প্রসঙ্গে বলেন, জেলা আইনশৃংখলা রক্ষা কমিটির বৈঠকে ভারত হতে চোরাচালানি হয়ে আসা লবণ নিয়ে তিনি কথা বলবেন। তিনি বলেন, খুলনার খুব নামকরা প্রতিষ্ঠান, খুলনা সল্ট, সুন্দরবন সল্ট, রাজাপুর সল্ট সহ অনেক বড় বড় লবণ মিলসহ প্রায় ৩০টির মতন লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

অর্থনীতি -এর সর্বশেষ