Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

নওগাঁয় আদিবাসী কিশোরীর ধর্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি


২১ এপ্রিল ২০১৬ বৃহস্পতিবার, ১২:১৯  এএম

নওগাঁ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


নওগাঁয় আদিবাসী কিশোরীর ধর্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি
ছবি-বহুমাত্রিক.কম

নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুরে এক আদিবাসি ১৪ বছরের কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে আসামীদের গ্রেপ্তারের ও ওসি’র অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ মহাবেদপুর শাখার উদ্যেগে বুধবার উপজেলার নওহাটা মোড় বাজার বাস ষ্ট্যান্ডে ঘন্টাব্যাপি অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী নেতা দিলিপ পাহান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুভাষ হেমব্রম, নওগাঁ জেলার উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন মুকুল, নওগাঁ জেলা আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুধীর পাহান, সাধারন সম্পাদক নিরজ্ঞন পাহান, বাসদ নেতা কালিপদ সরকার, শাইন চৌধুরী, সুনিল পাহান, ভারত পাহান ও ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী মা শংকরি পাহান।

বক্তরা এ সময় মহাদেবপুর থানার ওসি’র অপসারণের দাবি করে আরো বলেন, আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আরো বড়ো আকারে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের ওই আদিবাসি কিশোরী রোববার বিকালে পাশ্ববর্তী গ্রাম একই উপজেলার রসুলপুরে এক আত্মীযের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই দিন রাত ১২টার দিকে ওই আত্মীয়ের বাড়ীর একটি ঘরে একা পেয়ে রসুলপুর গ্রামের অসিম মন্ডল ও গৌতম মহন্ত নামের দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ওই কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর অসুস্থ্য অবস্থায় সোমবারে বাড়িতে এসে তাদের পরিবার সহ স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানায়। এ ঘটনায় সন্ধায় ওই কিশোরীকে সাথে নিয়ে তার মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ না নিয়েই তাদেরকে থানায় বসে রেখে রাতেই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষ্ট মন্ডলের ছেলে অসিম মন্ডল (২২) ও সুনিল মহন্তের ছেলে গৌতম মহন্ত (২২) নামের দুই যুবককে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।

ওই যুবকদের থানায় আনার পর দফায় দফায় বৈঠক শেষে পরেদিন মঙ্গলবার দুপুরে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ এসময় ওই কিশোরী ও তার মাকে সহ তাদের সাথে যাওয়া গ্রামের এক ছেলেকে হুমকি ও মারপিট করে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ বলেও কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ।

এ ঘটনায় উপজেলায় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে উধ্বর্তন মহলের নির্দেশে ওই কিশোরী ও তার অভিভাবকদের বাড়ী থেকে তুলে থানায় নিয়ে এসে অবশেষে অভিযোগ রেকর্ড করে পুলিশ।

ওই কিশোরীর মা জানান, দুই যুবকের পক্ষে প্রভাবশালী লোক সোমবার রাত থেকেই ওসি সাবের রেজা চৌধুরীর সাথে দফায় দফায় বৈঠক শেষে মোটার অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে তার অসুস্থ্য মেয়ের সামনেই চড়থাপ্পর মেরে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। পরে বিভিন্ন অফিসে ঘটনাটি জানানো হয়।

এরপর মঙ্গলবার হঠাৎ রাত ১২ টার দিকে থানা পুলিশ তাদের বাড়ী থেকে কিশোরী মেয়ে ও তার নানীকে তুলে থানায় নিয়ে এসে মামলা দায়ের করতে বলেন। এ ঘটনায় তার মেয়ে বাদী হয়ে তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ।

এ ব্যাপারে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলার উপদেষ্টা জয়লান আবেদিন মুকুল জানান, ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে পুলিশ ওই কিশোরীর মাকে মারপিট করে মামলা না নিয়ে থানায় থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

এ ছাড়াও পুলিশ আসামীদের আটক করে থানায় নিয়ে এসে ছেড়ে দেয়াসহ এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সুবাশ হেমব্রম জানান, অভিযোগ গ্রহণ না করে ওই কিশোরীর মাকে মারপিটের ঘটনায় ওসি সাবের রেজা চৌধুরীর অপসারণের দাবি জানান।

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাবের রেজা চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, মামলার আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি জানা মাত্র জরুরিভাবে থানা পুলিশকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্শেদ দেয়া হয়েছে। অপর প্রশ্নে তিনি আরো জানান, বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।