Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

খালিশপুর জুটমিলের আবাসন ব্যবস্থায় নয়ছয়


১৩ জুন ২০১৬ সোমবার, ০৮:০৩  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


খালিশপুর জুটমিলের আবাসন ব্যবস্থায় নয়ছয়
ছবি-বহুমাত্রিক.কম

খুলনা : খুলনার খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকদের আবাসন সংকট প্রকট। তবে আবাসিক কোয়ার্টার বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে অন্যদের নিকট হস্তান্তর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার খালিশপুর জুট মিল আবাসিক এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, এই জুটমিলে প্রায় ৪হাজার শ্রমিক রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সে আবাসনের সংখ্যা খুবই সামান্য। শ্রমিকদের আবাসন সঙ্কট যেখানে প্রকট সেখানে নিয়মনীতি না মেনে আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পছন্দের শ্রমিকদেরকে।

মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৬ বছর পর চালু হলেও শ্রমিকদের আবাসন সংকট ও নিরাপত্তা দূর হয়নি। খালিশপুর জুট মিলে প্রায় ৪হাজার অস্থায়ী শ্রমিক সামান্য মুজুরিতে বেতন নিয়ে মিলটিকে সচল রাখার দীর্ঘ সংগ্রাম করছে এবং মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এদিকে নিউ কলোনিতে পরিত্যক্ত ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া বাসভবনগুলো দীর্ঘ সময় পর শ্রমিকেরা নিজ খরচে মেরামত করে বসবাসের জন্য সংস্কার শুরু করেছে। সংস্কার করে ২ শতাধিক শ্রমিক পরিবার বসবাস শুরু করেছেন।

নিউ কলোনিতে রয়েছে ইউ প্যাটার্ন ৪তলা একটি ভবন যার কক্ষ সংখ্যা ৬৮, ৩তলা ২টি যার কক্ষ সংখ্যা ৭২টি, টিনসেড একাধিক ঘর যার রুম সংখ্যা ১৬০টি আরো ১টি ৪তলায় ১টা রুম এবং ১তলা ভবন সহ সর্বমোট ৩৪৪টি শ্রমিক পরিবার বসবাস করতে পারবে খালিশপুর জুট মিলের নিউ কলোনিতে।

অপরদিকে ঝুকিপূর্ণ এই ভবন গুলোতে এখনো চলছে দখলের মহাৎসব। সরকার মিলটি শর্ত সাপেক্ষে বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপলস জুটমিলটি নতুন নামে খালিশপুর জুটমিল নামে চালু করে। তবে শ্রমিকদের আবাসনের কোন ব্যবস্থা হয়নি। ইতোমধ্যে শ্রমিকরা তাদের নিজ খরচে কিছু আবাসন বাসা সংস্কার করা শুরু করে।

এদিকে একটি চক্র শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা করার নামে ব্যবসা ফেদেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে পছন্দের শ্রমিকদের বাসা বরাদ্দ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এমতাবস্থায় খালিশপুর জুট মিলের স্প্রিং বিভাগের শ্রমিক মোঃ রফিক বলেন আমি পিপলস জুট মিলে চাকরির সার্ভিস দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বাসা পাইনি । আরেক শ্রমিক মোঃ ইনছান সরদার জানান, বার বার চেষ্টা করেও বসবাসের জন্য মিলের কোন বাসা বরাদ্দ পাননি। কিন্তু অল্প কিছুদিন চাকরি করেই এরইমধ্যে অনেকেই ৩/৪ টা সার্ভিস দিয়েছে এমন শ্রমিক বসবাসের বাসা পেয়েছে। একই পরিবারের শ্রমিক বাবা ও ছেলে এবং পরিবারের ৩ভাই শ্রমিক তারাও বসবাসের জন্য বাসা পেয়েছেন।

কিছু শ্রমিক দাবি করছেন, যাদের বাসস্থান প্রয়োজন নাই তাদেরকে বাসস্থানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর তারাই এখন সেই বাসস্থানের জায়গা অর্থের বিনিময়ে অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনই একটি বাসা বরাদ্দ হয় তাত বিভাগের শ্রমিক মোঃ ইউসুফের।

তিনি বরাদ্দ পেয়ে নতুন ৪তলার ২৪নং রুমটি তিনি ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন ফিনিশিং বিভাগের শ্রমিক মোঃ বাচ্চু মিয়ার কাছে। ৩তলা টালির সেডের বাসাগুলি একটি মহল বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৩৫ হাজারে এবং ইট সিমেন্টের ভবন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়।

একটা মহল জুট মিলের ভিতরে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়ে পানির লাইন, বিদ্যুতের লাইন টানছেন এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে পানি ও বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত মাসিক অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে মিলের প্রকল্প প্রধানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিজেএমসির আঞ্চলিক লিয়াঁজো অফিসার মোঃ মহব্বত আলী মিয়া জানান, মিলের আবাসন ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষের। খালিশপুর জুটমিলের বাসা বরাদ্দের অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।