Bahumatrik Logo
২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ

আধুনিক ঢাকার উদ্ভব ও সংবাদপত্রের গোড়ার কথা


০২ মে ২০১৪ শুক্রবার, ১০:০৪  এএম

ড. এমরান জাহান

বহুমাত্রিক.কম


আধুনিক ঢাকার উদ্ভব ও সংবাদপত্রের গোড়ার কথা

ঢাকা: (দ্বিতীয় পর্ব) কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা নগরী গড়ে ওঠায় এখানেই আধুনিক নগরায়ণের ধারা প্রবাহিত হয়। ফলে কলকাতায় ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং আধুনিক জনমতের উন্মেষ ঘটে। জনমতের উদ্ভব ও বিকাশের সূত্র ধরেই সেখানে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ভিত রচিত হয়।

কিন্তু অবিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর ঢাকার অবস্থা ছিল কলকাতার সম্পূর্ণ বিপরীত। ১৭১৭ সালে মুর্শিদাবাদের নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠার পরপরই ঢাকা মোগল রাজধানীর মর্যাদা হারায়। আবার ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের পতন হলে কলকাতা হয়ে ওঠে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ফলে ঢাকা সহ পূর্ব বাংলা একটি অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়।

ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে ঢাকা শহরে কতিপয় কলেজ ও ইংরেজি বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। এ সময় ঢাকার শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এঁদের মধ্য থেকেই ঢাকা শহর থেকে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।

১৮৫৬ সালে ঢাকা শহর থেকে The Dacca News নামে সর্ব প্রথম আধুনিক সংবাদপত্রের উদ্ভব ঘটে। কলকাতার ন্যায় ঢাকার প্রথম সংবাদপত্রটিও ছিল ইংরেজি ভাষায় এবং উদ্যোক্তাগণ ছিলেন বিদেশী। ১৭৮০ থেকে ১৮৫৬ সাল, প্রায় ৭৬ বছর সময় লেগে গেল, কলকাতার পরে গোটা পূর্ব বাংলার প্রধান ও সমগ্র বাংলার প্রাচীন শহর ঢাকা থেকে আধুনিক সংবাদপত্র প্রকাশ করতে।

১৭৮০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র বেঙ্গল গেজেটের ন্যায় ঢাকা নিউজেরও  প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন ইংরেজ সিভিলিয়ন। কাজেই ৭৬ বছর পর ঢাকা থেকে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হলেও এক্ষেত্রে কোনো বাঙালি উদ্যোগ নিতে পারেনি। সে ক্ষেত্রেও অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেন ঢাকায় বসবাসরত ইউরোপীয়রা। তবে একথা বলার সুযোগ নেই যে, ঢাকা নিউজ ঢাকা কিংবা পূর্ব বাংলার জনগণের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করেছিল।

পত্রিকাটি পরিচালিত হয়েছিল নীলকরদের পৃষ্ঠপোষকতায়। মূলত ১৮৬০ সালে ঢাকায় বাঙ্গালাযন্ত্র নামক বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেকে সাময়িকপত্র কবিতাকুসুমাবলী  এবং পরের বছর ১৮৬১ সালে ঢাকা প্রকাশ প্রকাশের সময়কাল থেকে ঢাকার সংবাদপত্রের উদ্ভবের কাল ধরা হয়। যেমনটি বাংলা সংবাদপত্রের উদ্ভবের কাল ধরা হয়  ১৮১৮ সালে দিগদর্শন এবং রাজা রামমোহনের নেতৃত্বে একই সময়ে বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশের পর থেকে। ১৮৬০-৬১ সালে বাবুবাজারে বাঙ্গালাযন্ত্র প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে  ঢাকায় যে সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয় ,এরই একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা সংবাদ-সাময়িকপত্র কবিতাকুসুমাবলী  এবং ঢাকা প্রকাশ ।

আধুনিক সংবাদ-সাময়িকপত্র সম্পর্কে গবেষণা কর্ম তেমন প্রত্যাশিতভাবে সম্পন্ন হয়নি। যতটুকু গবেষণা হয়েছে তা কলকাতা কেন্দ্রিক সংবাদপত্রের মধ্যে অধিক সীমাবদ্ধ রয়েছে।  ব্রিটিশ আমলে ঢাকা সহ পূর্ব বাংলা যেমন ছিল একটি গুরুত্বহীন অবহেলিত অঞ্চল- গবেষণার ক্ষেত্রেও গবেষকদের নিকট পূর্ববাংলা তেমন গুরুত্ব পায়নি। অথচ কলকাতা ও আশেপাশের অঞ্চলের ন্যায় বহুলভাবে প্রকাশিত না হলেও উনিশ শতকের ষাট দশক থেকে এবং বিশ শতকের অর্ধ শতকালব্যাপী (১৯৪৭ পর্যন্ত) প্রচুর পরিমানে সংবাদ সাময়িকপত্র ঢাকাসহ পূর্ববাংলার মফস্বল শহর থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

এই গুরুত্বপূূর্ণ অথচ গবেষণায় অবহেলিত দিক পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। বাংলা একাডেমীর পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি উনিশ শতকে বাংলাদেশের সংবাদ-সাময়িকপত্র শীর্ষক ৯ খণ্ডে গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করেন। কিন্তু তাঁর গবেষণাকর্ম বিস্তৃত ছিল গোটা পূর্ববাংলার সংবাদ-সাময়িকপত্র সংকলনের মধ্যে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ঢাকার ৪০০বছর পূর্তি  উপলক্ষে মহাসমারোহে ঢাকার ইতিহাস রচনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর ও উত্তরকাল শিরোনামে তিন খণ্ডে ইংরেজি ভার্সনসহ যে গ্রন্থমালা সম্প্রতি প্রকাশিত (২০১২)  হয়েছে, সেখানে  আধুনিক ঢাকা বিকাশের সঙ্গে যে নব্য শিক্ষিত শ্রেণীটির উদ্ভব ঘটে, তাদের সঙ্গে আন্ত:সম্পর্ক নির্ণয় করে সংবাদ-সাময়িকপত্রের বিকাশপর্বটি  আলোচনায় স্থান পায়নি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, শুধু কলকাতা কিংবা পূর্ববাংলার সংবাদপত্র সম্পর্কে গবেষণা হলেও ঔপনিবেশিক আমলে ঢাকায় আধুনিক জনমতের উদ্ভব ও সংবাদ সাময়িকপত্র চর্চা নিয়ে আলাদা কোনো গবেষণাকর্ম আজ অবধি আমার জানা মতে সম্পন্ন হয়নি।

উনিশ শতকে ঢাকার জনমত কি ছিল তা চিহ্নিত করা সম্ভব হলে পূর্ববাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক উন্মোচিত হবে। আশা করি এই গবেষণা শূন্যতা (Researche gap) পূরণ করবে আলোচ্য প্রবন্ধটি।

কোনো সমাজ ও দেশের সংবাদপত্রের প্রথম উদ্ভব ও বিকাশের সূচনাপর্বের সঙ্গে জড়িত থাকে সেখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা, মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন, একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সমাবেশ, পৃষ্ঠপোষক ও বিজ্ঞাপন এবং সর্বোপরি একটি পাঠক শ্রেণীর। অর্থাৎ সংবাদপত্র শিল্প বিকাশে একটি পরিকাঠামো অত্যান্ত প্রয়োজন। সংবাদপত্রের উদ্ভব ও বিকাশের বিবরণ দেয়ার পূর্বে প্রাসঙ্গিক উপরোক্ত বিষয়গুলি উপেক্ষিত হলে, সে বিবরণ অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই ঢাকায় কত তারিখে, কার সম্পাদনায় কি কি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল, তা জানার পূর্বে এর একটি প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা অতি আবশ্যক।

পূর্বে বলা হয়েছে বাংলা অঞ্চলে প্রথম সংবাদপত্রের উদ্ভব ঘটে কলকাতায় ১৭৮০ সালে। সংবাদপত্রটি ছিল বেঙ্গল গেজেট। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত বাংলা সাময়িকপত্র (১ম খণ্ড ৪র্থ সংস্করণ,আশ্বিন ১৩৭৯, পৃষ্ঠা ২) গ্রন্থে লিখেছেন যে বেঙ্গল গেজেট ১৭৮৯ সনের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। তথ্যটি ইতিহাস সমর্থিত নয়। তবে ১৭৮০ সালের পূর্বেই সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ১৭৬৬ সালে।১ কোম্পানির প্রাক্তন কর্মচারী জাতিতে জার্মান  উইলিয়াম বোল্টস ছিলেন এর উদ্যোক্তা। কোম্পানি সরকারের বিরোধীতায় সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল ।

এতে ধরে নেয়া যায় যে, আঠার শতকের ষাট-সত্তর দশকেই কলকাতায় সংবাদপত্র প্রকাশের উপরোক্ত পরিকাঠামোর আয়োজন শুরু হয়েছিল।২ অথচ দক্ষিণপূর্ব ভারতরে জৌলুসপূর্ণ বিখ্যাত শহর এবং পূর্ব বাংলার প্রধান শহর ঢাকায় প্রথম সংবাদপত্রের উদ্ভব ঘটে ১৮৫৬ সালে (দ্য ঢাকা নিউজ)। একই দেশের দুটি শহরে আধুনিক জনমতের বাহন সংবাদপত্র উদ্ভবের সময়কালের ব্যবধান প্রায় ৭৬ বছর (১৭৮০-১৮৫৬)। আর বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশের হিসাব ধরলে ১৮১৮-১৮৬০ প্রায় ৪২ বছরের ব্যবধান।

ততদিনে কলকাতার সংবাদপত্র এক বিশাল শিল্পে পরিণত হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, ঢাকায় সংবাদপত্র উদ্ভব ও বিকাশে কেন বিলম্ব ঘটলো ? কিংবা কলকাতার মতো ঢাকা নতুন গড়ে ওঠা কোনো শহর নয়, এখানে সতের শতকের শুরু থেকেই (১৬১০ খ্রি:) শক্তিশালী নগরায়ণের ধারা প্রবাহিত ছিল। আঠার শতকে পৌঁছে ঢাকার কী পরিবর্তন বা অবনিত হলো যে কলকাতার ন্যায় সমভাবে ঢাকায় আধুনিক জনমত এবং সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশ হওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এরূপ গুরুত্বপূর্ণ দিকটি চিহ্নিত করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়ের অনুসন্ধান করতে হবে।

ক) উনিশ শতকে ঢাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং আধুনিক জনমতের উদ্ভব ধারা,

খ) ঢাকায় সভাসমিতির উদ্ভব ও সংবাদপত্র,

গ) ঢাকা মুদ্রণ যন্ত্র  ও প্রকাশনা

উনিশ শতকের ঢাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও আধুনিক জনমতের উদ্ভব ধারা

ঢাকা ১৬১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর নাম দিয়ে দিল্লীর মোগলদের প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পায়। তার আগেও ঢাকা সুলতানি রাজধানী সোনারগাঁওয়ের একটি ইউনিট ছিল বলে আজ ইতিহাস সমর্থিত। মোগল প্রদেশ বলতে সুবা বাংলা, যার পরিধি ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল। এই বিশাল এলাকার রাজধানী বা প্রাশাসনিক কেন্দ্র ছিল ঢাকা। ১৬১০ থেকে ১৭০২ দীর্ঘ প্রায় শত বছর ঢাকা মোগল পৃষ্ঠপোষকতায় শুধু ভারতবর্ষের নয়, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটি আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধশালী শহর ছিল।৩

১৭০২ সালে মোগল দেওয়ান করতলব খান ( পরবর্তীতে মুর্শিদকুলী খাঁ উপাধী) ঢাকার সুবাদার (সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র) আজিম উদ্দীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে মাকসুদাবাদে (পরবর্তীতে মুর্শিদাবাদ) দেওয়ানি স্থানান্তর করেন। সুবাদার আজিম উদ্দীনও পরের বছর ১৭০৩ সালে তাঁর প্রশাসনিক দফতর পাটনায় স্থানান্তর করেন এবং ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকার শেষে মোগল সুবাদার।৪

মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে সুবাদারি লাভ করলে ১৭১৫-১৬ সালে ঢাকা একটি উপ প্রদেশ বা নিয়াবত এ পরিণত হয়। এই উপ প্রদেশের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব ন্যাস্ত হয় মুর্শিদাবাদ থেকে প্রেরিত একজন নায়েব নাজিম এর ওপর। তখন থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ঢাকা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী  বাণিজ্যিক শহর হিসেবে ঢাকার গুরুত্ব আরও কিছুদিন অক্ষুন্ন থাকে।

১৭৫৭  সালে পলাশীর যুদ্ধের পর একই সঙ্গে পতন ঘটে মুর্শিদাবাদের নবাবদের এবং মুর্শিদাবাদ শহরের। সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মূল কেন্দ্র কলকাতার অধীনে। ১৭৬৫ সালে কোম্পানি দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের কর্তৃত্ব এবং ১৭৭২ সালে বাংলার শাসন ব্যবস্থা পরিচালনাভার কুক্ষিগত করার সঙ্গে ঢাকা এবং সঙ্গে মুর্শিদাবাদের সার্বিক পতন ঘটে।

অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কলকাতার উত্থান এবং ঢাকার পতনের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। ১৭৬৮-৬৯ সালে ঢাকার মোগল নৌঘাটি (নওয়ারা) ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবার ঢাকার নিয়াবতকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ছোট ছোট জেলায় বিভক্ত করা হলে ঢাকার নগরায়ণের ধারার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ১৮২৮ সালে ঢাকা নগরীকে শুধু একটি জেলার সদর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সংস্থাপন, বিচার বিভাগ পরিচালনার কাজ ইত্যাদি ঢাকা থেকে কলকাতায় স্থানান্তর হয় এবং খাজনা ও অন্যান্য আয় থেকে ঢাকা বঞ্চিত হয়। তাঁর পূর্বেই ঢাকার বিশ্বখ্যাত বস্ত্রশিল্প মোগল পৃষ্ঠপোষকতা হারায়।

ফলে ঢাকার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ তাঁত শিল্প বিদেশে রফতানী বন্ধ হয়ে যায়।৫ অর্থাৎ লক্ষ করলে দেখা যায় আঠার শতকের শেষার্ধ থেকে ঢাকার নগর জীবনে নেমে আসে দ্রুত অন্ধকার ও নানাবিধ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পতন। ঢাকার অর্থনৈতিক পতনের এইরূপ সময়কাল ও কারণটির নতুন তথ্যদিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলাম সাম্প্রতিক প্রকশিত ৪০০ ‘400 years of capital Dhaka and beyond Voll ii (2011)’ (২০১১) গ্রন্থে (৩১-৩২ পৃষ্ঠায়)। এ দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা চলতে থাকে উনিশ শতকের চল্লিশ দশক পর্যন্ত।

ততদিনে কলকাতা সর্বদিকে পূর্ণতা লাভ করে। ঢাকার সর্বাপেক্ষা দীন অবস্থা কখন ছিল তা তুলনামূলক যাচাইয়ের উত্তম সূচক হলো জনসংখ্যার উপস্থিতি। ১৬১০ সালে মোগল রাজধানী স্থাপনের পরপরই ঢাকার চরম বিকাশ ঘটেছিল। সতের শতকের মধ্যভাগে(১৬৫০-৬০) ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লক্ষ। অনুমান করা যায়,এই ধারা অবশ্যই ১৭১৭ সালে রাজধানী স্থানান্তর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অক্ষুন্ন ছিল। অথচ ৫০ বছরের ব্যবধানে ১৭৫০-৬০ সালে ঢাকার লোকসংখ্যা অর্ধেকের বেশী হ্রাস পেয়ে নেমে আসে ৪ লক্ষ ৫০ হাজারে। ঢাকায় আগত এবং অবস্থানরত ইংরেজ লেখকদের বিবরণীতে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

তারাও ঢাকার ভগ্নদশা ও চিত্র দেখে বিস্মিত হয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানরত ইংরেজ চিকিৎসক ও লেখক জেমস টেলর ১৮০০ সালে মাত্র ২ লক্ষ নাগরিকের উপস্থিতি লক্ষ করেছেন।৬ একটি নগরের ব্যবসা বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের কতটুকু অবনতি ঘটলে জনসংখ্যা এমন দ্রুত হ্রাস পায় তা সহজেই অনুমেয়। ১৮৫৯ সালে রেভিনিউ সার্ভে রিপোর্টে ঢাকার মাত্র ৫১ হাজার ৬৩৬ জন নাগরিকের উপস্থিতি দেখানো হয়। প্রায় দেড়শত বৎসরের মধ্যে (১৬১০-১৮৫৯) ৯ লক্ষ থেকে ৫০ হাজারে লোকসংখ্যা উপনীত হয়েছে।

একই সঙ্গে ঢাকা নগরীর আয়তন ১৫০ বর্গমাইল থেকে এই দেড়শত বছরে নেমে আসে মাত্র চার বর্গমাইলে। এসব করুণ চিত্র ১৮২৪ সালে প্রকাশিত স্যার চার্লস ড’য়লীর Antiquities of Dacca এবং অপর ইংরেজ লেখক জেমস টেলর এর A Sketch of the Topography and Statistics of Dacca (১৮৪০ সালে প্রকাশিত) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। উভয়ই ঢাকাকে স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে ঢাকা নগরীকে বিশাল পুরাতাত্ত্বিক যাদুঘর বলেই মনে উপলব্ধি করেছেন।

জেমস টেলর ছিলেন ঢাকার একজন চিকিৎসক এবং ড’য়লী ছিলেন ঢাকার কালেক্টর (১৮০৮-১১)। ড’য়লীর গ্রন্থে আঁকা ঢাকার মোগল প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ যেন ঢাকার এককালের ঐতিহ্যের পরিচয় দিচ্ছে। এ লেখকদের পূর্বসূরী মোগল আমলে ঢাকায় ভ্রমণরত ইউরোপীয় পরিব্রাজক ও দূতগণ (১৬৪০-১৬৮০) যেখানে ঢাকাকে লন্ডন ও প্যারিসের চেয়েও অধিক আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধশালী নগরী বলে বর্ণনা করেছিলেন।

১৬৪০ সালে পর্তুগীজ ভ্রমণকারী সিবাস্টিয়ান ম্যানরিখ বর্ণনা করেন “এটিই (ঢাকা) হচ্ছে বাংলার প্রধান শহর। আর দেশের সবচেয়ে উচ্চ পদাধিকারী নবাব বা ভাইসরয় বা প্রতিনিধির কার্যস্থল, যাকে সম্রাট নিয়োগ দেন। এই প্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্রাট বেশ কয়েকবার তার নিজস্ব কোন সন্তানের উপরই অর্পণ করেন। এই নগরটি বিরাট ও অতি সুন্দর। অনেক বিচিত্র জাতির মানুষ এই শহরে ব্যবসা বাণিজ্য উপলক্ষ্যে আসে।  ঢাকায় প্রবেশের দরজা অনেক, কিন্তু বের হওয়ার দরজা নেই।”৭

কী ছিল ১৭১৭ থেকে ১৮০০ সাল পযর্ন্ত প্রায় শতবছরের ঢাকার নাগরিক সমাজের ইতিহাস ? ১৭১৭ সালে মুর্শিদাবাদে মোগল প্রাদেশিক রাজধানী স্থানান্তর হওয়ার পর ঢাকায় যে একজন করে নায়েব নাজিম নিযুক্ত হন এর ধারাবাহিকতায় ১৭৫৭ সালে ঢাকার নায়েব নাজিম ছিলেন জিসারত খান (১৭৫৫-১৭৮৯)। তিনি লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইংরেজ অনুগত নায়েব নাজিম পদটি ধরে রাখেন।৮

এঁরা জনমুখে নবাব বলে পরিচিত ছিলেন। কোম্পানি তাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা ধার্য করেন। এর পর থেকে ঢাকার নায়েব নাজিম একটি অলংকারিক পদে পরিণত হয়। এ পদটি ইংরেজরা ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন (শেষ নায়েব নাজিম গাজী উদ্দীন হায়দার ১৮৪৩ সালে  নি:সন্তান অবস্থায় মারা যান) এবং তাদের বাসস্থানটি নিমতলীতে স্থানান্তর করেন (বর্তমান এশিয়াটিক সোসাইটি ভবন)।৯ তাঁরা আধুনিক  শিক্ষা সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা তেমন করেননি, এবং মূল্যবোধের দিক থেকে ছিলেন মধ্যযুগের চিন্তা চেতনাধারী।

এছাড়া এঁরা কোনো অর্থেই স্থানীয় বাঙালি ছিলেন না এবং উপরন্তু উর্দু-ফার্সী সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষক। ফলে কলকাতার ইংরেজ আশ্রিত নব্য জমিদার ও নব্য বুদ্ধিজীবীর পৃষ্ঠপোষকতায় যে আধুনিক শিক্ষা ও জনমতের সৃষ্টি হয়েছিল ঢাকায় ইংরেজ আশ্রিত ক্ষয়িষ্ণু নায়েব-নাজিমদের দ্বারা সেরূপ হয়নি। সেখানে এক রাজা রামমোহনই যথেষ্ট ছিলেন।  এ সময়ের ঢাকার বুদ্ধিজীবী ইতিহাস লেখক মুনশী রহমান আলী তায়েশ (১৮২৩-১৯০৮) (তাওয়ারিখে ঢাকা) এবং হাকিম হাবিবুর রহমান (১৮৮০-১৯৪৭, ঢাকা: পচাস বরস পহেলা) দুইজনই ছিলেন উর্দু ভাষিক। অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী মহলটিও ছিল জাতিতে ভিন্ন, সংস্কৃতি চর্চায় উর্দু-ফার্সি ভাষিক।১০

এখন প্রশ্ন হলো, ঢাকায় কখন একটি আধুনিক মধ্যবিত্ত বুর্জোয়া শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক জনমতের সৃষ্টি হয়?  বলা যায়, ঢাকার মধ্যবিত্ত বুর্জোয়া শ্রেণীর উদ্ভব ঘটতে থাকে উনিশ শতকের চল্লিশের দশক থেকে। এর পূর্বে ১৭৬৫-১৮৩৯ দীর্ঘ ৭৬ বছর কোম্পানি সরকার ঢাকা শহর উন্নতিকল্পে কোনো নীতি বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এম. মোফাখখারুল ইসলাম পূর্বোক্ত গ্রন্থে (পৃ.৩৩) ঢাকার সঙ্গে কলকাতার অবস্থা বর্ণনা করে লিখেন,
Dhaka never regained her glory as a centre of cotton manufacture. Much less did it witness the development of modern industries. Indeed, compared to Kolkatta, Dhaka became an even more Parasite city, in a colonial setting, a nerve centre of colonial exploitation, rather than a generator of economic growth.

উনিশ শতকে ভৌগোলিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরকার আঞ্চলিক প্রশাসন ও বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে নজর দেয়। এ সময়কাল থেকে ঢাকাকে বস্তুত সরকারি নথিপত্রে পূর্ববাংলার রাজধানী রূপে গণ্য করা হয়।১১ দেখা যায় এ সময় থেকে ঢাকায় যে সকল আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকাশ লাভ করে তা পূর্ব বাংলার জনজীবনে বিশেষ অবদান রাখে। ১৮৩৫ সালে ঢাকা শহরের আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে সরকার লোকাল এ্যডুকেশন কমিটি গঠন করেন।

১৮৪০ সালে কোম্পানি সরকার ঢাকার গুরুত্ব অনুধাবন করে পৌর কমিটি গঠন করে। ১৮৫৮ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে টেলিগ্রাফের সংযোগ স্থাপন করা হয়। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রেললাইন চালু করা হয়, যা ঢাকার জন জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।১২ ফলে ব্যবসায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষিত মানুষের সমাগম ঘটে ঢাকা শহরে। উনিশ শতকের আশি দশকে ঢাকা কলকাতার পরেই বাংলা প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।

প্রশাসনিক উন্নতির সঙ্গে শিক্ষার কেন্দ্র প্রসারের একটি সম্পর্ক রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর স্থাপনের পর আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এই আধুনিক শিক্ষা প্রসারের ফলে ঢাকায় একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয় এবং তাদের মাধ্য থেকেই আধুনিক সংবাদপত্র ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার উদ্ভব ঘটে।

উনিশ শতকের চল্লিশ দশকের দিকে ঢাকায় যে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন ঘটতে শুরু করে, সে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ হিন্দ-মুসলিম সম্প্রদায়গত ভাবে দেখলে সমভাবে তা গ্রহণ করতে পারেনি। আধুনিক শিক্ষা অধিক গ্রহণ করেছিল হিন্দু সম্প্রদায়। যদিও পূর্ববাংলা ও ঢাকা ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। আর তা ঘটেছিল ঐতিহাসিক কারণেই। একই কথা কলকাতার জনজীবনেও প্রযোজ্য। কোম্পানি শাসনের শুরুতেই ঢাকা এবং এর আশে পাশের অঞ্চলে হিন্দু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বা পরিবারের সদস্য ইংরেজদের সঙ্গে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণ, বৈদ্য এবং কায়স্থ সম্প্রদায় ছিল মোগল আমলেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পেশাজীবী এবং বিখ্যাত ব্যবসায়ী ও ভূ-স্বামী। নবাবী আমলে রাজবল্লভ, কৃষ্ণ রায় ঢাকার বড় কর্মকর্তা ও ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন।১৩ সে সময়ে প্রশাসনিক দক্ষতা লাভের জন্য হিন্দুরা আরবি, ফার্সি জ্ঞান গ্রহণ করত। ভাষার দক্ষতা একদিকে যেমন প্রশাসনিক উচ্চ পদ লাভে সহায়তা করে, সঙ্গে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদাও বৃদ্ধি করে। ঢাকার সন্নিকটে প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুর পূর্ব থেকেই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।১৪

ইংরেজ শাসনের শুরুতে এসে তা অব্যাহত থাকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৮৫৪ সালেই বিক্রমপুরে একটি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে।১৪ ব্রিটিশ রাজত্বকালে পরিবর্তিত ভূমি ব্যবস্থা,শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে এরা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটায়। বলা বাহুল্য ঢাকায় আধুনিক জনমতের উদ্ভবের ক্ষেত্রে এদের ব্যাপক অংশীদারিত্ব ছিল। এ বিষয়টি যথাস্থানে আলোচনা করা হবে।

পূর্বেই বলা হয়েছে ১৮৩৫ সালের পূর্বে কোম্পানি সরকার শিক্ষানীতিতে ব্যাপক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ১৮৩৫ সালে ১৫ জুলাই ঢাকা গভর্নমেন্ট স্কুল নামে ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা: ইতিহাস ও নগর জীবন এর লেখক শরীফ উদ্দীন আহমেদ লিখেন,“ঢাকা গভর্ণমেন্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে এর অভাবনীয় শ্রী বৃদ্ধি যে ঢাকা শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনই ঘটায়, তাই নয়, এর পশ্চাৎ ভূমিতেও এক নবযুগের সূচনা করে।”১৫

১৮৪১ সালে ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষানীতির পরিবর্তনের ঢেউ ঢাকার জীবনেও প্রভাবিত হয়। এই নীতির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা গভর্নমেন্ট স্কুলের সঙ্গে একটি কলেজ শাখা চালু করা হয়। এর নাম দেয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ। এটি ঢাকার প্রথম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজই পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ নামে নামকরণ করা হয়। ঢাকার একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে ঢাকা কলেজের অবদান ব্যাপক। আর স্কুল শাখাটি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে।

পূর্ব বাংলার মানুষ আর শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক না হয়ে খানিকটা ঢাকামুখী হতে শুরু করে। সাধারণ ও গরীব ছাত্রদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৮৪৬ সালে ঢাকা কলেজের প্রাক্তন ইংরেজ অধ্যক্ষ জে. আয়ারল্যন্ড একটি ইউনিয়ন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটির আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন ঢাকার ধনাঢ্য বক্তি জে.জে.এন. পোগজ। পরবর্তীতে স্কুলটি পোগজ স্কুল নামে নামকরণ করা হয়।

ঢাকার আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে জে.জে.এন.পোগজ বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন আরমেনীয় নাগরিক এবং নীলকর। ঢাকার অপর ধনাঢ্য জমিদার ও ব্যবসায়ী খাজা আব্দুল গণি ১৮৬৩ সালে গরীব মুসলমান ছাত্রদের ইংরেজি শিক্ষার জন্যে নিজ উদ্যোগে ফ্রি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেন। উপরোক্ত দুইজন শিক্ষানুরাগীই ছিলেন ঢাকার বহিরাগত বাসিন্দা। কিন্তু খাজা গণির স্কুলে মুসলমান ছাত্র পাওয়া যেতো না। ১৮৭৩ সালে স্কুলে মোট ১৯০ জন ছাত্রের সবাই ছিল হিন্দু।

এই অবস্থা থেকেই অনুমান করা যায় ঢাকা তথা পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থানটি। আর ঢাকার সকল স্কুল-কলেজেই যত স্থানীয় শিক্ষক ছিলেন সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের। ১৮৫৬ সালে দ্য ঢাকা নিউজ নামে ঢাকায় যে প্রথম সংবাদপত্রের উদ্ভব হয় এর উদ্যোক্তা ছিলেন খাজা আব্দুল গণি এবং এন.পোগোজ। এসব কর্মকা-ই ঢাকায় আধুনিক মধ্যবিত্তশ্রেণী ও জনমত উদ্ভবের সূচনা করে।

Dr.Emranড. এমরান জাহান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক

প্রথম পর্ব: সংবাদপত্রের গোড়ার কথা

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।