Bahumatrik Logo
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও থেমে নেই নিয়োগ বাণিজ্য


১৭ জুন ২০১৫ বুধবার, ১১:২১  পিএম

বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, যশোর প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও থেমে নেই নিয়োগ বাণিজ্য

যশোর: প্রাথমিক স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগে হাইকোর্টে নিষেধাঞ্জা রয়েছে। কিন্তু তার পরও যশোর সদরে ৪১টি স্কুলে ওই পদে নিয়োগের নামে দেদারসে চলছে অর্থ আদায়।

এক পদে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে ২ থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত টাকা নিচ্ছেন স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গানো হচ্ছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রাথমিক স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালার বিষয়ে নাটোর সদর উপজেলার লতা বাড়ীয়া গ্রামের এম এ জেড মশিউর মোল্যা নামে জনৈক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে আদালত রুল জারি করেন।

ওই রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ স্থগিত করা হয়। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করে যশোর সদর উপজেলার ৪১ টি প্রাথমিক স্কুলে ওই পদে নিয়োগের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

স্কুলগুলো হচ্ছে, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ফুলবাড়ি দিঘীর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শহীদ ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মিরালাউখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কিসমত হৈবতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়,নিচিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুতুবপুর সরকারি পাথমিক বিদ্যালয়, শুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলতদিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিসমত এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলের মাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বিএনডি(বাগডাঙাগা)সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মঠবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্যান্টমেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্ডলগাতি সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিরিচিয়া গোয়ালদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাড়াপোল রুপদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিরাজ সিঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালপুর খড়িডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যবেওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বলরামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরবপুর সুবরাতই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁচড়া কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচবাড়ীয়া বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সুত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যোগসাজস করে এ অর্থ আদায় করছে। কোন কোন স্কুলে একই পদে ৩/৪ জন প্রার্থীকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

সুত্রের দাবি, চাকরির ক্ষেত্রে জন প্রতি সর্বনি¤œ ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা নেয়া হচ্ছে। চাকরির প্রলোভনে পড়ে অসংখ্য বেকার যুবক তাদের সমস্ত সহায় সম্পতি বিক্রি করে টাকা দিচ্ছে।

এ ব্যপারে যশোর সদর উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  রাহাতজান আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দপ্তরী নৈশ প্রহরী নিয়োগের টাকা আদায়ের বিষয়টি তার জানা নেই।’

ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওলিয়ার রহমান অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,‘যারা অর্থ আদায়ের অভিযোগ করছে তারা জানে কারা অর্থ নিচ্ছে।’

যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘নিয়োগ দেয়ার দায়িত্ব এমপির। এখানে তার কোন হাত নেই। তারপরও যদি তার নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অর্থ আদায় করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, ‘দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ওই পদে নিয়োগের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তিনি জানেন না। যদি কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধারনের অভিযোগ থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ