Bahumatrik Logo
২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ

অবহেলায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র


১৪ জুন ২০১৬ মঙ্গলবার, ১২:৪৬  এএম

মোঃ মোস্তফা কামাল, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


অবহেলায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র
ছবি-সংগৃহীত

রাঙ্গামাটি : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। আংশিক চালু এই কেন্দ্রটি এখন কোনমতে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে ।

যে অবস্থায় বর্তমানে কেন্দ্রটি চালু রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে জাতির জনকের স্মৃতি বিজড়িত এই কেন্দ্রটিকে পূর্ণোদমে চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং সিবিএর নেতারা।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির জনক সদ্য স্বাধীনপ্রাপ্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন বেতবুনিয়া ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রের। সে সময় একটি সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত দেশের তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চালু করা হয় দেশের প্রথম এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটির।

১৯৭০ সালে এই কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরবতী সময়ে এই কেন্দ্রটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার এবং কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নানা চেষ্টা হলেও জাতির জনকের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে এই কেন্দ্রটির কাজ অব্যাহত থাকে। তদানীন্তন পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বর্তমানের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া নামক স্থানে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের পাশ্ববতী এলকায় ১২৮ একরের বিশাল জায়গার ওপর স্থাপিত এই কেন্দ্রটিতে ৩৫,৯০০ কিলোমিটার উর্ধ্বমূখী আকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

ইতহাসের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিত্র শক্তি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির জনককে ভারতের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির কাজ সম্পাদনের কথা বললেও সেই সময় জতির জনক এই আহবান বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করেন। তিনি নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সুদুর প্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীন দেশে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেন।

তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ঠ জাতির জনককে স্ব পরিবারের হত্যাকান্ডের পর ক্ষতায় আসীন পরবর্তী সরকার এবং ৯০ এর পরবর্তীতে দু দফায় দেশ পরিচালনায় এসে বিএনপি-জামাত জোট সরকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিকে কার্যত অচল করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন এই কেন্দ্রের সিবিএ নেতারা।

১২ জুন বেতুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই কেন্দ্রটির জীর্ন শীর্ণ অবস্থা। দেশের প্রথম এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি এখন চালু রয়েছে আংশিকভাবে। এখানে কর্মরত কর্মকর্তারা-কর্মাচারীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও কর্তব্যরতদের আন্তরিকার কারণে প্রায় ৪৬ বছর আগের যন্ত্রপাতি দিয়ে এখনো কোনমতে চালু রাখা হয়েছে এই কেন্দ্রটিকে।

অবাক করার বিষয়, এই কেন্দ্রে নেই কোন জেনারেটর। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির অধিকাংশই অচল থাকে । কেন্দ্রের প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রের অনেক যন্ত্রপাতি ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে । এর ফলে কেন্দ্রটির কার্যক্ষমতা ও বর্তমানে অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে ।

এই বিষয়ে বেতবুনিয়া ভূ উপকেন্দ্রের সিবিএর সভাপতি তকবীর হোসেন জানান, এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি শুধূমাত্র দেশের প্রথম ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রই নয় এই কেন্দ্রটির সাথে জড়িত রয়েছে জাতির জনকের স্মৃতি। তাই এই কেন্দ্রটিকে কোন মতেই অচল হতে দেয়া যায় না।

তিনি বলেন, সিবিএর পক্ষ থেকে তিনি একাধিক বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে এই কেন্দ্রটিকে আরো আধূনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন করে পুরোদমে চালু করার আহবান জানিয়েছেন । সিবিএর সভাপতি আশাবাদী জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কেন্দ্রটিকে পুরোপুরি চালু করার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত উল্লাহ জানান ১৯৯৮ সালে এই কেন্দ্রটিকে ডিজিটাল এ পরিণত করা হয় । তবে কেন্দ্রটিকে পরিপূর্ণভাবে চালুর বিষয়ে এখনো অনেক পদক্ষেপ এর প্রয়োজন।

কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্থানে দাড়িয়ে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন সেই স্থানটিকে সিবিএর উদ্যোগে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ফলক উম্মোচনী পাথরটি বসানো হয়েছে মূল কার্যালয়ের সম্মূখভাগে। কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে যে জায়গা থেকে জাতির জনক হেলিকপ্টার করে উড্ডয়ন করেছিলেন সেই জায়গাটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখন এই স্থানটিকে ঈদগাহ মাঠ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।