Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ২:৩১ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ


১৪ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার, ০১:২৭  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেকহেড গ্রামার স্কুল  খুলে দেয়ার নির্দেশ

ঢাকা : জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া রাজধানীর বেসরকারি লেকহেড গ্রামার স্কুলের ধানমণ্ডি ও গুলশান শাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

সম্প্রতি ধানমণ্ডি ও গুলশানের দুটি শাখাসহ লেকহেড গ্রামার স্কুলের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করলে গত ৯ নভেম্বর এ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সোমবার হাইকোর্টে এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও রাশনা ইমাম।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

শুনানিতে আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ তদন্ত প্রতিবেদন পাঠ করে বলেন, সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনই প্রমাণ করে এ প্রতিষ্ঠানের কেউ ধর্মীয় উগ্রবাদ বা জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত নয়।

আদালতে উপস্থিত ওই স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষিকাদের দেখিয়ে তিনি বলেন, তারা সবাই বোরকাপরা। এ বোরকাপরা বা হিজাবপরা কি অপরাধ? হঠাৎ করেই এত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ করে দিলেন, তাদের অধিকার খর্ব করলেন। দেশের আইনে বিনা নোটিশে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোনো বিধান নেই।

এ সময় আদালত তাকে উদ্দেশ করে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে- কোনো অনুমোদন নেই। কমিটি নেই। জবাবে তিনি বলেন, অনুমোদন বা কমিটি যদি না থাকত, তা হলে তো শোকজ নোটিশ করতে পারত; কিন্তু তা করেনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদের অনুপ্রেরণা দেয়া এবং জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। এটি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর শিক্ষা সচিবকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য চিঠি দেয়া হয়। এর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৩ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করে ৩১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। হঠাৎ করে যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এ অভিযোগ সত্য নয়।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো বই পাওয়া যায়নি। জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত বা জড়িত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়স্বজনই এ স্কুলে পড়ালেখা করে। সেখানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার আখতার ইমাম আদালতে বলেন, নিয়মানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে নোটিশ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি যদি রেজিস্ট্রেশনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করে থাকে তা হলে আইনানুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেবে। আর এত বড় অভিযোগ লেকহেডের বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে কিন্তু সে বিষয়ে আগে কোনো সত্যতা জানতে চাওয়া হয়নি। শোকজ নোটিশ না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বেআইনি।

তিনি বলেন, মুসলিমপ্রধান এ দেশে ধর্মীয় বই রাখা, হিজাবপরা কি অপরাধ?

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

আইন -এর সর্বশেষ

Hairtrade