Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

সুই সুতোর ফোঁড়ে স্বপ্ন দেখেন নওগাঁর মিতু


০৪ জুন ২০১৭ রবিবার, ১২:৩৪  পিএম

আব্দুর রশীদ তারেক, নওগাঁ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


সুই সুতোর ফোঁড়ে স্বপ্ন দেখেন নওগাঁর মিতু
ছবি: বহুমাত্রিক.কম

নওগাঁ : নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজের অর্নাস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিতু। সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি স্ব-উদ্যোগে হাতের কাজ করে বাড়তি আয় করেছেন তিনি। শুধু নিজের জন্য নয়। এলাকার ১০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরও কাজের ব্যবস্থা করেছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার মধ্য দূর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান ও শাহিদা বেগমের ছোট মেয়ে। বাবা আব্দুল মান্নান শারীরীক প্রতিবন্ধী। একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবি মা শাহিদা বেগম গৃহিনী। বড় মেয়ে বিয়ে হয়েছে। এক ছেলে সেনা সদস্য।

মা শাহিদা বেগমের কাছ থেকে সুই সুতোর কাজের হাতেখড়ি। প্রথমে অল্প স্বল্প কাজ করা হতো। বুটিকসের দোকান থেকে চাহিদা মতো কাপড় এনে কাজ শেষে যথা সময়ের মধ্যে দিতে হতো। তার কাজের মান ও ডিজাইন ভাল হওয়ায় এখন চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে কাজের চাপও। গত দুবছর থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি সুই সুতোর কাজ করেছেন মিতু।

কাজের চাহিদা বুদ্ধি পাওয়ায় এখন প্রতি সপ্তাহে তার নির্দিষ্ট বুটিকসের দোকান থেকে ১৫/২০টি থ্রি-পিচ ও শাড়ি সেট নিয়ে আসেন। আর এগুলোর উপর নিজের পছন্দ মতো গ্রফিক্্র করে সেলাই করতে দেয়া হয় প্রশিক্ষণ নেয়া নারীদের। আর এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত গ্রামের হতদরিদ্র গৃহবধূরা। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ঘরে বসে সুই আর সুতোয় কাপড়ের উপর ফুটিয়ে তুলা হয় চিত্র। পাঞ্জাবী, ফতুয়া, কটি, ওয়ালম্যান,কুশন কভার, শাড়ির নকশি পাড়, থ্রি-পিস, ওড়না, বেডসিটসহ নানা রকম কাপড়ের নকশা করে সেলাই করা হয়। এছাড়া পুঁতি পাথরের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। থ্রি-পিস সেলাই ১৫০ টাকা, ছবি আঁকা ৫০ টাকা, পাঞ্জাবী সেলাই ৪৫০ টাকা, ছবি আঁকা ১০০ টাকা, শাড়ি সেলাই ৫০০-৬০০ টাকা, ছবি আঁকা ১০০-১৫০ টাকা, কুশন কভার সম্পন্ন সেলাই ৩০০-৩৫০ টাকা।

গৃহবধূ বিথীকা বলেন, স্বামী একজন ভ্যান চালক। স্বামীর আয় থেকে সংসার চালাতে গিয়ে মাস শেষে টানাপোড়ন দেখা দিত। গত তিন মাস থেকে সুই সুতো দিয়ে হাতের কাজ করেছেন। মাসে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয়। এই টাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়র খরচসহ সংসারের বাড়তি টাহিদা মেটান।

প্রশিক্ষণ নেয়া শোভা রাণী ও মমতাসহ কয়েকজন গৃহবধূ বলেন, সেলাই শেখার আগে তাদের কোন রোজগার ছিলনা। মিতুর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে এ কাজ করা হয়। মানে ও গুনে বেশ ভাল হওয়াই আগের তুলনায় হাতের কাজের এসব কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মিতু বলেন, অনেক বড় একটা বুটিকস খোলা। যেখানে অনেক নারীরা কাজ করবেন। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্য নারীদের কর্মসংস্থার সৃষ্টি হবে। তবে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্পকে বিকশিত করা সম্ভব।

বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, মেয়ের হাতের অনেক কাজ জানা আছে। বেকারত্ব দূর করার জন্য নিজেই কিছু করার চেষ্টা করছে। এলাকার নারীদেরও সহযোগীতা করছে। অনেক নারীদের এখন এ কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade