Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
২ ভাদ্র ১৪২৫, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

সিঙ্গাপুরে যা ছিল ট্রাম্প-কিমের খাবার মেন্যুতে


১৩ জুন ২০১৮ বুধবার, ১২:১০  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


সিঙ্গাপুরে যা ছিল ট্রাম্প-কিমের খাবার মেন্যুতে
ছবি : বিবিসি বাংলা

ঠিকঠাক সেদ্ধ স্টেক আর সাথে টমেটো কেচাপ খেতে পছন্দ করেন, এমন মানুষের জন্য ঐতিহাসিক বৈঠকের পর দুপুরের খাবারের মেন্যু ছিল যথেষ্টই জটিল। মধু আর লেবুর রস দিয়ে কাঁচা আমের `কেরাবু` আর অক্টোপাস, শসার ভেতর পুর দেয়া কোরীয় খাবার `ওইসেয়ন`, এশীয় সবজি দিয়ে কড মাছের পদ `দেয়গু জরিম`।

এমন বহু শব্দের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনদিন পরিচয় হয়নি, ফলে স্বাভাবিকভাবেই টুইটারে তার অনুসারীদের অবস্থা হচ্ছিল মূহুর্মূহু আক্কেলগুড়ুম হবার মত। তবে, বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেন্যু জুড়ে বিস্ময়ের সঙ্গে সঙ্গে কূটনীতিটাও ছিল।

খাবার নিয়ে এমনকি অনেক কোরীয় জনগণও প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ মেন্যুতে এমন অনেক কিছুই দেখা গেছে, যা কোরীয়দের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকেনা।যেমন, শসার মধ্যে গরুর মাংস, ডিম আর গাজর ভরে দিয়ে বানানো `ওইসেয়ন` কোরিয়ায় ত্রয়োদশ থেকে প্রায় উনিশ শতকের আগ পর্যন্ত শাসন করা জোসেয়ন সাম্রাজ্যের সময়কার প্রচলিত খাবার।এই খাবারটি সাধারণত কোরিয় রাজপরিবারের মেন্যুতে থাকে। ফলে খাবারটি অত প্রচলিত নয় এখন।

কেউ কেউ বলছেন, কোরিয়ায় জনপ্রিয় খাবার `ওইসোবাগি`র সঙ্গে হয়তো নাম বিভ্রাটের কারণে এমনটি ঘটেছে।তবে, সিদ্ধ মাংস, মাছ আর সবজি দিয়ে বানানো মেন্যুর অন্য আইটেম `দেয়গু জরিম` কোরিয়াতে বেশ প্রচলিত খাবার।কিন্তু যখন দেখা গেল যে পিয়ংইয়ং ঠাণ্ডা নুডলস মেন্যুতে নেই, তখন বোঝা যায় যে সিঙ্গাপুর মিঃ কিমকে স্বস্তি দিতে চেষ্টার কমতি রাখেনি।

আর জ্ঞানী ও সতর্ক কূটনীতিকের মতো আয়োজকেরা মিঃ ট্রাম্পকেও বঞ্চিত করেনি।এমন ভাবেই মেন্যু ঠিক করা হয়েছিল যে, খেতে খেতে যে কেউ চাইলেই ভাবতে পারে, যে আশির দশকের নিউ ইয়র্কের কোন রেস্তরাঁয় বসে খাচ্ছেন।স্টার্টার হিসেবে খাবারের শুরুতেই পরিবেশন করা হয়, অ্যাভোকাডো সালাদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি ককটেইল।এরপর মেইন কোর্সে ছিল সেদ্ধ আলু আর ব্রকলি দিয়ে বিফ শর্ট রিব কনফিট।আর ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল `হাগেন-দাস`।

যারা ভাবছেন, বিফ শর্ট রিব মিঃ ট্রাম্পের জন্য বানানো হয়েছে কিনা, তারা ভুল ভাবছেন, কারণ এটা পরিবেশন করা হয়েছে রেড ওয়াইন সস সহযোগে।আর মিঃ ট্রাম্প তো কোন ধরনেরই মদ্যপান করেন না।

তবে, মেন্যুতে থাকা ইয়াংঝৌ ফ্রায়েড রাইস হয়ত নিঃশব্দে চীনকে ধন্যবাদ জানানোর একটি চেষ্টা।এ ধরনের ফ্রায়েড রাইস মার্কিন মুলুকের চীনা রেস্তরাঁতে পরিবেশন হয়ে থাকে।এটি দিয়ে হয়ত বোঝানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরণের সমঝোতায় পৌছাতে হয়েছে।

মেন্যুর অন্য পদ কাঁচা আমের `কেরাবু` মূলত মালয় খাবার। সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী চীনা, ভারতীয় আর মালয় ধরণের খাবারের সংমিশ্রণ ছিল মেন্যুতে। বিশেষত দেশটির চীনা খাবারের বৈশিষ্ট্যমত টক মিষ্টির ব্যবহার ছিল কয়েকটি পদে।এই খাবারের মেন্যুর মূল বার্তাটি ছিল হয়তো এই বৈঠকের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকেই স্মরণ করা—যেমন যুক্তরাষ্ট্র আর পশ্চিমা দেশগুলোর খাবার যেমন রয়েছে, তেমনি আছে কোরিয়া, চীন আর সিঙ্গাপুরের নিজস্ব স্বাদের খাবারও।

এখানে জাপান আর রাশিয়া কিছুটা পেছনে পড়ে রইল, কিন্তু কূটনীতির মূল ব্যপারটাই তো যারা মূল খেলোয়াড় তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। বিবিসি বাংলা

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

সংবাদে বিশ্ব -এর সর্বশেষ

Hairtrade