Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ১৬ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

সরকারের ঊর্ধ্বতন কেউ ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি


২০ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার, ০৭:৩৯  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


সরকারের ঊর্ধ্বতন কেউ ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি

ঢাকা : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলার পর তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আজ ২৩তম দিনের মতো যুক্তিতর্কে এ তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শুন্য করতে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।

যুক্তিতর্কে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা আমির হোসেন আমু, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং পুলিশের ডিআইজি মো. নওশের আলীর জবানবন্দি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ নম্বর স্বাক্ষী ও মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্্হার আখন্দের জবানবন্দি থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর এ মামলার কার্যক্রম টানা চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে স্বাক্ষী আমির হোসেন আমুর জবানবন্দি উল্লেখ করে জানায়, এ সাক্ষী ২১ আগস্ট হামলায় আক্রান্তদের একজন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষ করার পর-পর সাংবাদিকরা তাঁর ছবি তুলতে অনুরোধ জানায়। ছবি তুলতে সম্মতি দিয়ে নেত্রী দাঁড়ান। ঠিক তখনি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এ সাক্ষী তখন অস্থায়ী মঞ্চে শুয়ে পড়েন। তখন তিনি দেখতে পান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ নেতৃবৃন্দ নেত্রীকে মানবঢাল বেষ্টিত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। মুহূর্তেই তিনি সমাবেশ স্থলে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তখন আইন-শৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে এ সাক্ষীও দেশ-বিদেশ চিকিৎসা নেন। আমু তার জবাবনন্দিতে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যার ধারাবাহিকতারই অংশ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা।

ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের জবানবন্দি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ য্ুিক্ততর্কে বলে, এ সাক্ষী সেদিনের ঘটনায় আহত হন। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব মাত্র তিনশ’ গজের মতো, পুলিশ সদর দপ্তরের দূরত্ব সাতশ’ গজের মতো। তা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি। বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে দল দিয়ে ২১ আগস্ট সমাবেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করা হয়েছে।

সাক্ষীর নওশের আলীর জবানবন্দি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ য্ুিক্ততর্কে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল কবিরকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিনের নির্দেশে পরিবর্তন করা হয়।

প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পি.পি মো. আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঞা, আবুল কালাম আজাদ, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কাজী ইলিয়াসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষেআইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (পিডব্লিও) ১৬২ থেকে ২০৪ নং সাক্ষ্যের আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামীপক্ষেও ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে।

২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade