Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতিকে সম্বৃদ্ধির শিখরে নিতে চান কৃষিবিদ ফারুক


১৬ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৪:১৬  এএম

অপূর্ব ধ্রুবচারী

বহুমাত্রিক.কম


শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতিকে সম্বৃদ্ধির শিখরে নিতে চান কৃষিবিদ ফারুক

 

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। জন্ম শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে। বাবা প্রয়াত আবদুল মালেক স্থানীয় কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া ফারুক শৈশবেই রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। শিক্ষাজীবনে রাজনীতির এই চর্চা আরও প্রবল হয়। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিন। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. ফারুকের ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নকৃত নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতির কার্যকারিতা’ শীর্ষক আরও একটি পিএইচডি গবেষণা চলমান রয়েছে। 

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে আসীন হন এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় গণতান্ত্রিক বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে ফররুখ আহমদ ফারুক। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের নির্যাতন ও একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি। ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ফারুক আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

নিজ জেলা শেরপুরের শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতির সঙ্গে রয়েছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। সেখানকার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন নিজেকে। অবহেলিত ওই এলাকার জনগণের কল্যাণে নানা পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতি সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেলে এই অঞ্চলের উন্নয়নে নিবেদন করতে চান নিজেকে।

সম্প্রতি বহুমাত্রিক.কম-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতির উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অবহেলিত এই জনপদকে সম্বৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরের প্রত্যয় জানান। কথপোকথনের চুম্বকাংশ থাকছে এখানে-

বহুমাত্রিক.কম : আপনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতি (শেরপুর-৩) সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলে সংসদ সদস্য পদে লড়তে চান। ঠিক কী কারণে এই পদে নিজেকে যোগ্য মনে করেন আপনি?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : দেখুন আমি শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতিরই সন্তান। স্কুল-কলেজে অধ্যয়নের সময়গুলোতে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশেছি। এখানকার মানুষের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে আমার বাবা প্রয়াত আবদুল মালেক শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি সেই ছোটবেলা থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি দেখে দেখে অভ্যস্ত। বলতে পারেন সেই কৈশোর থেকেই এভাবে এক সময় আওয়ামী রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছি।

তখন থেকেই আমি একটা জিনিস দেখে আসছি, তা হচ্ছে-এই অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত। মানুষজন কোনো পলিটিক্যাল ফেভার পায়নি। বিপদে আপদে কোনো রাজনৈতিক নেতা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি কখনো। এলাকার স্কুল-কলেজের পড়ালেখায় কোনো উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশের সর্বনিন্ম শিক্ষার হার আমার ঝিনাইগাতি উপজেলায়। এখানের মানুষ খুব অসহায়, চরম দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে। যার ফলে এখানে কোনো শিল্পায়ন হয়নি। প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ-যেমন গাড়ো পাহাড়ে পাথর, চিনামাটি ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও এখানে কোনো শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। এখন পর্যন্ত এখানে কোনো শিল্পায়নের প্রচেষ্টাও দৃশ্যমান হয়নি। এসব দেখে আমার মন সবসময় কাঁদতো। আমার মনে হত, এখানকার জনপ্রতিনিধিরা যদি বিষয়গুলোর দিকে ফিরে তাকাতো-নজর দিতো, তাহলে মানুষদের দুরবস্থা কাটতো, তারা ঘুরে দাঁড়াতো। জীবনমানের উন্নয়ন হত। মানুষের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেত। এখানকার ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষায় ধাবিত হতে পারতো।

বহুমাত্রিক.কম : শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতি মূলত কৃষি উৎপাদনশীল এলাকা। তা সত্ত্বেও বছরের অধিকাংশ সময় দেখা যায় সেখানকার অধিবাসীরা কঠিন দারিদ্রতা ঘুচাতে ট্রেন-বাসযোগে রাজধানীতে আসেন জীবিকার টানে? সংকটটি আসলে কোথায়?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : কৃষি একটি সামগ্রিক জিনিস। কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য যেসব উপকরণের প্রয়োজন, সেগুলো কৃষকরা সহজভাবে পায়না। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। ভাল ইনভেস্ট করে উন্নত সার-তেল-বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে অক্ষম কৃষকরা । তাই তাদের কাঙ্খিত সাফল্যও আসে না। এজন্য সরকারকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এই অঞ্চলে কৃষি ও শিল্পখাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে এখানে প্রচুর কর্মক্ষেত্র যেমন তৈরী হবে, তেমনি মানুষের ঢাকামূখি হওয়ার প্রযোজনীয়তাও থাকবে না। এলাকাতে উল্টো জনবল সংকট থাকবে।

বহুমাত্রিক.কম : বর্তমান সরকারের সময়ে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সরকার তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে নিয়ে আসছে। এ সরকারের আমলেই তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব সাধন সম্ভব হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনার এলাকার উন্নয়নের কী পরিকল্পনা রয়েছে-

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আমি মনে করি, এখানে শিক্ষিত যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মত কাজে যুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক সাবলম্বীর করার লক্ষ্য আমার রয়েছে। আমি জানি, অনেক স্কুলে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ থাকলেও তা ব্যবহারের দক্ষ মানুষ নেই। আমি যদি ভাল ব্যবস্থাপনা দিতে পারি তাহলে যুব সমাজও বেকার থাকবে না।

বহুমাত্রিক.কম : তৃণমূলের একজন রানৈজিক নেতা হিসাবে জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? জনগণ কেন আওয়ামীলীগকে কেন আবার ক্ষতায় আনবে-বলে মনে করেন?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আওয়ামীলীগ দেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে-আইটি, শিক্ষার উত্তোরোত্তর প্রসার লাভ করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকেও বাংলাদেশ উন্নতি করেছে। দুর্নীতির পরিমাণ কমেছে, যার দরূণ মানুষ তুলনামূলকভাবে ভাল আছে। মানুষ এখন শিক্ষিত ও সচেতন হয়েছে। যদি শিক্ষিত সচেতন মানুষের সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়তে থাকে তবে আওয়ামীলীগারের সংখ্যাও বাড়বে। একজন শিক্ষিত মানুষকে সহজেই বিএনপি মোটিভেটেড করতে পারবে না, কারণ তারা নিজেররা ভাল-মন্দ বোঝেন।

বহুমাত্রিক.কম : সমকালীন রাজনীতিতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক, জাতীয় অগ্রগতিতে অন্যতম অন্তরায় ধর্মীয় জঙ্গিবাদ। একজন তরুণ রাজনীতিক হিসাবে আপনি কী মনে করেন-কিভাবে একে মোকাবেলা করা যাবে-

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আমি মনেকরি মানুষ যখন শিক্ষিত-সচেতন হবে তখন জঙ্গিবাদ সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। একজন শিক্ষিত মানুষ কখনো একে সায় দিতে পারেন না।

বহুমাত্রিক.কম : আপনি নির্বাচিত হলে আপনার এলাকা নিয়ে কী উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : অবশ্যই এবিষয়ে আমার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। যদি দল আমাকে দায়িত্ব দেয়, সহযোগিতা করে তবে এই এলাকাকে সারাদেশের মধ্যে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব। এই মডেল সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। যেহেতু এখানে সব মানুষের জমি আছে, তাই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এলাকার কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করতে যাতে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌছে দিতে পারে, সেই কাজ শুরু করব। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বিদেশেও পাঠাানো যাবে।

এ এলাকায় মূল্যবান চিনামাটি আছে, যা দিয়ে এখানে সিরামিক কারখানা হতে পারে। এরফলে এখানে বিপুল কর্মসংস্থান হবে। এখানে আইটি এক্সপোর্ট ইন্ডাস্ট্রি করা যাবে। ফলে এলাকার জীবনমান উন্নত হবে। যার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে সুদ-ঘুষ, দুর্নীতির মুলোৎপাটান করতে সক্ষম হব বলে মনে করি।

দৃঢ়ভাবে বলতে পারি-আমি নিজে কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না। আমি লক্ষ্য করি, যারা এদেশের মাথা, যারা সংসদ সদস্য, বড় বড় পর্যায়ে আছেন তারা কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, কেউ যদি দুর্নীতিতে বিশ্বাস না করেন, চৌকষ না হন তবে তার অধস্তনরা কখনো দুর্নীতি করতে পারবে না।

বহুমাত্রিক.কম : দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার যে অবস্থান, আপনার অনুগামীদের এবিষয়ে কতটা কাউন্সিলিং দিতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আমি মনেকরি, যাদের আমি বলেছি তারা প্রায় সবাই এই নীতি মেনে চলেন। কেউ যদি দুর্নীতি না করে তাহলে তার নিকটজনরা সাহস পাবে না। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা সবার, আমি মানুষদের কাজ দেব, তাদের অর্থনীতিকে সম্বৃদ্ধ করবো। তাহলে তাদের দুর্নীতির প্রশ্নই আসেনা।

বহুমাত্রিক.কম : যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা বিরোধী দলকে নির্যাতন চালায়। অনেককে গুম-খুন করে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। আপনার অঙ্গীকারের জায়গাটি কী ?

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আমি সব সময় অন্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সে আমার যেই হোক। আত্মীয় হোক বা অন্য দলের হোক। আমি অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলব, তাতে পদ থাকুক আর নাই থাকুক। মানুষ হিসাবে প্রথম দায়িত্ব, প্রথমে আমি, মানুষের সংজ্ঞায় পড়বো। তারপর আমার রাজনীতি। গুম-খুন-হত্যা এসবকে আমি সাপোর্ট করি না। যারা এসবে জড়িত তাদের আইনে কাছে সোপর্দ করবো।

বহুমাত্রিক. কম : আপনি আওয়ামীললীগকে কেন দল হিসাবে বেছে নিয়েছেন? আওয়ামীলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস কতখানি ধারণ করেন-

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : আমি মনে করি, গণমানুষের উন্নয়নের জন্য আওয়ামীলীগের কর্মকাণ্ড অন্যান্য দলের চেয়ে বেশি। বলতে পারি-এখানে আওয়ামীলীগ একমাত্র দল যারা উন্নয়নের জন্য যথার্থ ভূমিকা রেখে আসছে। দলটির গৌরবোজ্জ্বল অতীত আমার মত তরুণ রাজনীতিকের কাছে প্রেরণার উৎস। তাই দলের একজন কর্মী হয়ে থাকতে পারলেও আনন্দিত। 

বহুমাত্রিক : দলের একজন নেতা হয়ে আওয়ামীলীগকে কেমন দেখতে চান-

কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমদ ফারুক : মনে করি সেন্ট্রাল বডিকে নীতি-আদর্শে সর্বোত্তম আদর্শ ধারণ করতে হবে। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দলের শীর্ষ নেতারা বাস্তবায়নে আন্তরিক ও নিবেদিত থাকবেন। দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও ভিশনসমূহর প্রতি নেতাদের সম্যক জ্ঞান থাকবে, একইসঙ্গে তারা দেশকে উন্নত করতে কাজ করে যাবেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

মুখোমুখি -এর সর্বশেষ

Hairtrade