Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ পৌষ ১৪২৫, বুধবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

শৈত্যপ্রবাহে হত দরিদ্রদের দুর্ভোগ চরমে


১৫ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার, ০৪:৩০  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


শৈত্যপ্রবাহে হত দরিদ্রদের দুর্ভোগ চরমে

মৌলভীবাজার : দেশ জুড়ে শৈত্যপ্রবাহের কারণে গত বারো দিন যাবত তীব্র শীতে সিলেট ও মৌলভীবাজারের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

চা বাগান, বনাঞ্চল ও হাওর বেষ্টিত জেলায় শীতের প্রকোপও বেশি। ঘন কুয়াশা, কনকনে শীতে গরম কাপড়ের অভাবে চা শ্রমিক, শব্দকর পরিবার ও বস্তি এলাকার হত দরিদ্র লোকদের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। একদিকে গরম কাপড়ের অভাব, অন্যদিকে ঠান্ডা জনিত সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ঠ ও নিউমোনিয়া রোগের উপদ্রব বেড়েই চলেছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। কাজেকর্মে দেখা দিয়েছে ব্যাঘাত। বিশেষ করে বোরো আবাদের এই ভর মৌসুমে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। কোন কোন স্থানে দুপুরের পর ঠান্ডা উপেক্ষা করেও কেউ কেউ জমিতে নামতে শুরু করেন। শীতে সবচেয়ে বেশি আক্রমনের শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।

নিম্নবিত্ত পরিবার সদস্যরা আরো বেশি সমস্যা সঙ্কটে দিনাতিপাত করছেন। একদিকে গরম কাপড়ের অভাব আবার খাবারের যোগান দেয়া দুসাধ্য হয়ে উঠছে। কেউ কেউ ঠান্ডায় কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছেন। সকালে কূয়াশার কারনে যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। হেডলাইট ও সিগন্যাল বাতি জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা যায়।

কৃষক আব্দুল আলী, ফারুক মিয়া ও মখলিছ মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন যাবত ঠান্ডায় মোটেই জমিতে নামা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বোরো চাষাবাদ নিয়ে চিন্তার কারন হয়ে দেখা দিয়েছে। যেদিন দুপুরে সূর্যের একটু আলো দেখা যায় সেদিন শীত উপেক্ষা করেও জমিতে নামতে বাধ্য হন। তারা আরও বলেন, গত বছর বন্যা ও জলাবদ্ধতায় মার খেয়ে এখন সবাই মাতা বেঁধে বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত থাকলেও প্রচন্ড ঠান্ডায় অনেকেই কাজকর্মে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা আরও বলেন, শীতে গবাদি পশুরও সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে শীতে চা বাগান, শব্দকর পল্লী, বস্তি এলাকার শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ বেড়ে চলেছে। এসব রোগীদের নিয়ে তারা হাসপাতাল কিংবা স্থানীয় হাটবাজারে প্রাইভেট চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

চিকিৎসকরা জানান, সম্প্রতি সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সর্দি, জ্বর, কাশি, পাতলা পায়খানা, বমি, শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।