Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের জন্যই কাজ করতে চান নারায়ন চন্দ্র


০৩ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ১০:১৪  এএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের জন্যই কাজ করতে চান নারায়ন চন্দ্র
-নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ছবি : সংগৃহীত

খুলনা : খুলনায় দীর্ঘ বছর ১৮ পর ২০১৮ সালে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপালনকারী সফল প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দ মঙ্গলবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।

অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন ইউসুফ ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগের সরকার আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এরপর আর কেউ খুলনায় পূর্নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করার সুযোগ পাননি।

এর আগে খুলনায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন অ্যাডভোকেট এস এম আমজাদ হোসেন। তিনি প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। অ্যাডভোকেট এ এইচ এম দেলদার আহমেদ ছিলেন সাবেক কেন্দ্রিয় সরকারের খাদ্য মন্ত্রী। এরশাদ সরকার আমলে লে. ক. এইচ এম এ গাফফার ( বীর উত্তম) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

এইচ এম এ গাফ্ফার উপ-মন্ত্রী হিসেবেও এরশাদ সরকার আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

এছাড়া সাবেক সচিব ড. মশিউর রহমান মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এর আগেও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ আব্দুল আজিজ, অ্যাডভোকেট মোমিন উদ্দিন আহমেদ, আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান, মুনসুর আলী প্রমুখ।

মন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, জননেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী আমাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকার জনগনসহ দক্ষিণাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় আজকের এই অর্জন। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই। আমৃত্যু কাজ করতে চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। তিনি দণিাঞ্চলের চিংড়ি শিল্পসহ মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করারও অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। চাই সবার সহযোগিতা।

পরিচয়: নারায়ন চন্দ্র চন্দ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামের বিখ্যাত চন্দ বংশের স্বর্গীয় কালীপদ চন্দের মেঝ ছেলে। ১৯৪৫ সালের ১২ মার্চ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর মাতা ছিলেন স্বর্গীয়া রেণুকা বালা চন্দ। স্ত্রী ঊষা রানী চন্দ স্কুল শিক। নারায়ন চন্দ্র চন্দ তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে বিশ্বজিত চন্দ্র চন্দ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ও ডীন। মেঝ ছেলে সত্যজিত চন্দ্র চন্দ ব্যবসায়ী ও ছোট ছেলে অভিজিত চন্দ্র চন্দ জেলা পরিষদ সদস্য। একমাত্র জামাতা বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক। তাঁর বড় ভাই দীন বন্ধু চন্দ্র চন্দ শোভনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক ছিলেন।

শিক্ষাজীবন: উলা গ্রামের পাঠশালায় তাঁর শিাজীবন শুরু। বান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। ১৯৬১ সালে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক্যুলেশন পাশ করেন। ১৯৬৩ সালে দৌলতপুর বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীায় উত্তীর্ণ হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৭ সালে একই বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেন।

কর্মজীবন: মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পুর্বেই নারায়ন চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়ার সাহস নোয়াকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে এই স্কুল থেকে সর্বপ্রথম শিার্থীরা এসএসসি পরীা দেয়ার সুযোগ পায়। ১৯৭৩ সালের ৭ মে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭৪ সালে তাঁর অকান্ত প্রচেষ্টায় ডুমুরিয়ায় এসএসসি পরীা কেন্দ্র চালু হয়। এর আগে খুলনা শহরে শিার্থীদেরকে পরীা দিতে হত। চাকুরীকরাকালীন সময়ে ১৯৭২ সালে তিনি বিএড পাশ করেন। তিনি ২০০৫সালের ১১ মার্চ চাকরী থেকে অবসর নেন।

শিক্ষক নেতা ও সংগঠক: ১৯৬৮ সালে তিনি মাধ্যমিক শিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে প্রতিষ্ঠা করেন থানা মাধ্যমিক শিক সমিতি। তিনি প্রতিষ্ঠাকালিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে জেলা মাধ্যমিক শিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৭ সাল পর্যন্ত দুই দশক ধরে তিনি ওই পদ সামলেছেন।

রাজনীতি : শিাজীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮৪ সালে তিনি ডুমুরিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে গঠিত কমিটিতেও তিনি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই পদে এখনও তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ খুলনা জেলা শাখার সদস্য। এছাড়া আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতিও তিনি।

জনপ্রতিনিধিত্ব: বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ছয় বার তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তৎকালিন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও পরে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউসুফের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে নারায়ন চন্দ্র চন্দ ডুমুরিয়া-ফুলতলা আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে তিনি চারদলীয় জোট প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। দলের জন্য পরিশ্রমী, নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী-সংগঠক চন্দ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদকালে গত ৫ বছরে ডুমুরিয়া ফুলতলার শিা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময়ে তিনি দায়িত্ব পান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। দায়িত্ব পেলেন এবার দায়িত্ব পেলেন পূর্ন মন্ত্রী হিসেবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।