Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

যশোরে ইয়াবা নিয়ে পুলিশ জনতার ফের ঝামেলা


২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার, ১২:৪২  এএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


যশোরে ইয়াবা নিয়ে পুলিশ জনতার ফের ঝামেলা

যশোর : যশোরে ইয়াবা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জনতার ফের ঝামেলা হয়েছে। এই বিষয়ে দুই পক্ষ দুই রকম বক্তব্য দিয়েছে। ঘটনাটি বুধবার বিকেলে যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়া ব্যাটারিপট্টি এলাকায় ঘটে।

স্থানীয় অনেকে বলছেন, এর আগে কয়েক দফা পুলিশ যেমন ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সাধারণ মানুষকে ধরার চেষ্টা করে জনতার হাতে ধরা খেয়েছে, এবারো তেমনটিই ঘটেছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকেই ধরেছিল। একজন শ্রমিকনেতার নেতৃত্বে কতিপয় লোক পুলিশকে মারপিট করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সাব্বির হোসেন যশোর সরকারি সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করার পর ভাইয়ের সঙ্গে মোটরপার্টসের ব্যবসা করেন। তিনি ভারত থেকে মোটর পার্টস আমদানি করেন। সেই সূত্রে বেশির ভাগ সময় তিনি ভারতেই অবস্থান করেন। একসময় তিনি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

ঘটনার শিকার সাব্বির বলেন, বিকেল চারটার দিকে তিনি বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাটারিপট্টি এলাকায় আসেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন সেট বের করে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছিলেন। তখন সাদা পোশাকের দুই ব্যক্তি তার কাছে এসে পায়ের কাছে একটি সাদা কাগজে মোড়া কিছু ফেলে বলেন, `তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। থানায় চল।`

ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দেখে এগিয়ে আসে। তারা সাদা পোশাকধারীদের বলেন, ‘আপনিই তো ওই কাগজে মোড়ানো জিনিস ফেললেন।’ এই নিয়ে তাদের সঙ্গে সাদা পোশাকধারীদের কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এই ফাঁকে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।

যশোর কোতয়ালী থানার এএসআই শফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, শহরের সিটি কলেজপাড়ার ইকবাল মিয়ার ছেলে ছক্কু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিকেলে তিনি ব্যাটারিপট্টি থেকে একজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইয়াবা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি ইয়াবাসহ ছক্কুকে আটক করা হয়। তখন ছক্কু চিৎকার দিলে মোটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নশুর নেতৃত্বে শাকিল, বুলবুল, খলিলসহ ২০-২৫ ব্যক্তি এসে তাকে মারপিট করে ছক্কুকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

তবে, তার এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন সাব্বিরের বড়ভাই শাকিল হোসেন। তিনি বলেন, `ব্যাটারিপট্টিতে জটলা দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি আমার ভাইকে সাদা পোশাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওইসময় স্থানীয় মুরুব্বিরা পুলিশকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ছক্কু একজন ব্যবসায়ী এবং ভারতে বেশিরভাগ সময় থাকে।`

তিনি জানান, তার ভাই বিড়ি সিগারেটও খায় না। ইয়াবার ব্যবসা তো দূরের কথা। সম্প্রতি এলসির মাধ্যমে তাদের মোটরপার্টসের একটি চালান এসেছে। ১২ এপ্রিল ছক্কু ভারত থেকে দেশে ফেরেন।`

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই সিটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিল; আমিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুধুমাত্র আমাদের হেনস্থা করতে পুলিশ এই নাটক সাজিয়েছে।’

যশোর টায়ার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে দেখি পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ১০-১২ জন দৌড়ে পালাচ্ছে। আর এক পুলিশ কর্মকর্তার নাকে সামান্য রক্ত।’

জানতে চাইলে মোটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই; খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (অপারেশন) শামছুদ্দোহা বলেন, ‘মাদকসহ আটক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে লোকজন। এসময় ধস্তাধস্তিতে এএসআই শফিকুজ্জামান সামান্য আহত হন। শোনা যাচ্ছে নশু নামে একজন শ্রমিকনেতা ওই আসামি ছিনতাইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, এর আগে যশোর শহর, চৌগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে ‘ইয়াবা নাটক’ করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে পুলিশ। আবার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবাসহ আসামি আটকের ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।