Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
২ শ্রাবণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব হবে নগরীর উন্নয়ন : তালুকদার আব্দুল খালেক


০৫ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:০৭  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব হবে নগরীর উন্নয়ন : তালুকদার আব্দুল খালেক
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা : নির্বাচনের পূর্বে শুধুমাত্র জনসংযোগ করে বেড়াইনি। নগরীর অলিগলি, পাড়া মহল্লার সড়ক, ড্রেণের অবস্থাসহ সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করেছি। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি। তাদের নাগরিক জীবনে সুবিধা অসুবিধা, সুখ- দু:খের কথা শুনেছি। নগরবাসীর সাথে আলাপ করে পাড়া মহল্লা ঘুরে নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করেছি।

আর ভেবেছি নগরবাসী যদি আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র হিসেবে সেবা করার দায়িত্ব দেন তাহলে তাদের নাগরিক সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর করার পদক্ষেপ নেব। নগরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমার দায়িত্ব হবে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন আর নগরবাসীর শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে একান্ত আলাপচারিতার শুরুতে তিনি একথাগুলো বলেন। নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ড্রেণ, নর্দমা, খাল, জলাশয় অধিকাংম ভরাট হয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার হয় বলে আমার কাছে মওনে হয়নি। তাই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সর্ব প্রথম আমার কাজ হবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন করা। সাথে সাথে জরাজীর্ন সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন করার বিষয়েও কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন নির্বাচনের পূর্বে নগরবাসীর সামনে ৩১ দফা ইশতেহার ঘোষনা করেছিলাম। আমার কাছে সেগুলোর সবই গুরুত্বপূর্ণ তারপরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইশতেহারের কিছু দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী গড়ে তোলা। আমার আগের মেয়াদে বিভিন্ন ব্যক্তির দখল করা ২২টি খাল মুক্ত করে নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছিলাম; কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই খালগুলো আবারও দখলদারদের কবলে চলে গেছে।

বর্তমান দায়িত্ব পালনকারী মেয়র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান দখল ঠেকাতে পারেননি, নগরীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

খুলনা মহানগরে বসবাসকারী নাগরিকসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের কম খরচে চলাচলের অন্যতম বাহন এখন ইজিবাইক। আবার এই ইজি বাইক এবং মোটরচালিত রিক্সা নগরীতে যানজটের অন্যতম কারণ। নির্বাচনী প্রচারণায় নগরীতে ইজি বাইক (ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা) ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি, নাগরিকদের কারো কারো অভিমত যে ইজি বাইকের কারণে খুলনার মতো ছিমছাম শহরে যানজট দেখা দিয়েছে। লাইসেন্স পেলে ইজি বাইকের কারণে শহরে চলা যাবে না; আর ব্যাটারিচালিত রিকশা তো খুবই বিপজ্জনক। এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি যখন মেয়র ছিলাম তখন এক হাজার ৮০০ ইজি বাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তারপর গণপরিবহনের এই খাতটি খুবই বেড়েছে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে। বর্তমান মেয়রের আমলে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে পাঁচ হাজার লাইসেন্স দেওয়ার কথা হয়েছিল; কিছু রাস্তায় ইজি বাইক চলতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু কোনোটাই কার্যকর হয়নি।

গণপরিবহনের এই খাতটিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই লাইসেন্স দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ইজি বাইক ও ব্যাটারীচালিত রিক্সা যেমন বন্ধ করা যাবে না; তেমনি শৃঙ্খলার স্বার্থে লাইসেন্স ও বিধি-বিধান মেনে চলাটাও জরুরি। ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য। মানুষ সহজে, সাশ্রয়ী ভাড়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে বলে এসব যানবাহন ব্যবহার করে। আবার বিরাটসংখ্যক মানুষের এটাই আয়ের উৎস।

তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন ২০০৮ সালে সিটি মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সময়ের মহাজোট সরকারের আমলে কেসিসি সর্বাধিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছিল। অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা পেয়েছিল। ২০১৬ সালের মধ্যে সব উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু সংগত কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন সিটি নির্বাচনের পরে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সিটির উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। বর্জ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে নগরী থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ২০টি ট্রাক দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিশুত ২০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্বেই আমি সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাই। যাতে নগরীর উন্নয়নে অহেতুক সময়ক্ষেপন না হয়।

আওয়ামী লীগ খুলনা মহানগর শাখার তালুকদার আব্দুল খালেক ২০০৮-১৩ মেয়াদে কেসিসির মেয়র ছিলেন; বাগেরহাট-৩ আসন (রামপাল-মোংলা) থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

মুখোমুখি -এর সর্বশেষ

Hairtrade