Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

মসজিদ প্রাঙ্গণে শহিদুল আলমের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী


০৭ মে ২০১৭ রবিবার, ০৩:০৯  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


মসজিদ প্রাঙ্গণে শহিদুল আলমের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ঢাকা : বাংলাদেশের বরেণ্য আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের তোলা ছবি নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোন মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরের খোলা মাঠে আয়োজিত হতে যাচ্ছে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বরাবরের মতোই এই আলোকচিত্রী আর একবার যুগান্তকারী কিছু করতে যাচ্ছেন, তার এবারের লক্ষ্য অতীতের সঙ্গে বর্তমানের মেলবন্ধন!

স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের নকশায় নির্মিত ২০১৬ সালে ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার’ পুরষ্কারে ভূষিত ঢাকায় অবস্থিত বাইতুর রউফ মসজিদের তোলা আলোকচিত্র নিয়ে সেই মসজিদ প্রাঙ্গণেই হতে যাচ্ছে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ইসলাম ধর্ম যে আতংক নয় বরং উদারতা ও হৃদ্যতার প্রতীক সেই বার্তা সকলের মাঝে তুলে ধরা। আগামী ৮ মে ২০১৭, সোমবার সকাল ১০টায় বাইতুর রউফ মসজিদ প্রাঙ্গণে শুরু হবে দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী। এদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ‘অন্যকে আলিঙ্গন’ শিরোনামে এই প্রদর্শনী। ভবিষ্যতে এই প্রদর্শনী বিশ্বের বিভিন্ন গ্যালারিতেও প্রদর্শিত হবে।

আগামী ৮ মে সকাল ১০টায় ‘অন্যকে আলিঙ্গন’ শিরোনামে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ ইব্রাহিম, দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ‘অন্যকে আলিঙ্গন’ প্রদর্শনীর আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং বাইতুর রউফ মসজিদের ইমাম দ্বীন ইসলাম বক্তব্য রাখবেন।

হজরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর আমলে তিনি মদিনায় শহুরে আবহ তৈরি করতে এবং সামাজিক সৌজন্য আদান প্রদানে যেই প্রথম স্থাপনাটি গড়ে তুলেছিলেন সেটি ছিল মসজিদ। সে সময়ে মসজিদ ছিল সকলের মধ্যে সম্প্রদায় ও সম্প্রীতি বর্ধিতকরণে সামাজিকতা রক্ষার একটি পবিত্র স্থান।

মসজিদ ব্যবহার করা হত ধর্মীয় কর্মকান্ডের জন্য, শিক্ষা প্রদানে, নবীজির সরকারের নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক কর্মকান্ডের জন্য, সামাজিক কল্যাণের কাজে, নিরাময় কেন্দ্র হিসাবে, শারীরিক চিকিৎসা এবং সেবা শুশ্রূষার স্থান, এমনকি অবকাশ যাপনের জায়গা হিসাবেও। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় যে, নবীজি মসজিদে নারীদের বিশ্রাম নেওয়ার এবং ঘুমানোর সু্যোগ দিতেন এবং অমুসলিমদেরও প্রার্থনা করার স্থান দিতেন।

শহিদুল আলম বলেন,‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং আজকের দিনের মসজিদ প্রাঙ্গণগুলোতে এই উদারতা এবং মানুষের কাছে পৌঁছানোর এমন মানুষ এবং মানসিকতার বড় অভাব বলে আমার মনে হয়। আমার এই প্রদর্শনী নারী-পুরুষ, অমুসলিম, তথা আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের জন্য উন্মুক্ত। এ শর্তেই আমি এই মসজিদপ্রাঙ্গণে প্রদর্শনী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া শিল্প ও সংস্কৃতি মাধ্যমে সর্বোচ্চ পুরষ্কার শিল্পকলা পদকে ভূষিত আলোকচিত্রী, লেখক, কিউরেটর এবং সামাজিককর্মী (অ্যাক্টিভিস্ট) শহিদুল আলম বিগত ৩০ বছর ধরে এদেশ ও মানুষের সংগ্রামের কথা তাঁর ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন বারবার।
দ্য মিউজিয়াম অফ মডার্ণ আর্ট (MoMA), সেন্টার জর্জেস পম্পিড্যু এবং টেট মডার্ণের আসরে তাঁর কাজের প্রদর্শনী হয়েছে; হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইউসিএলএ, অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তা শহিদুল আলম রয়েল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একজন সন্মানিত ফেলো এবং সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক। লাইফ ম্যাগাজিনের সাবেক আলোকচিত্র সম্পাদক জন মরিস শহিদুল আলমের ‘মাই জার্নি অ্যাজ আ উইটনেস’ বইটিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘একজন আলোকচিত্রশিল্পীর লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বই’ হিসাবে।

বাইতুর রউফ মসজিদটি একটি নান্দনিক শিল্পকর্মের থেকে কম নয়। নবীজির সময়কার মসজিদের ধারণার সঙ্গে এর মিল দৃশ্যমান। মসজিদের স্কয়ার এবং সিলিন্ডার আকারের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রার্থনা কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত আদি জ্যামিতিক ধারাকে বজায় রাখা হয়েছে; পরিবেশের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে প্রাকৃতিক আলোর যথাযথ ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি না রেখে; কোন আসবাবপত্রের ব্যবহার হয়নি মসজিদে, যেন ইসলামে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বের উদাহরণস্বরূপই; উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠতার প্রমাণ মিলেছে আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার লাভের মাধ্যমে; এ মসজিদের ইমামের জন্য কোন বিশেষ সুবিধাজনক পদমর্যাদার ব্যবস্থা নেই, যার ফলে তাঁর সঙ্গে যে কেউ সৌজন্য বিনিময় করতে পারে সাধারণভাবেই; পুরো স্থাপনা জুড়ে প্লাস্টার ছাড়া দেশি লাল ইটের ব্যবহার পশ্চিমা প্রভাবের সামনে স্বদেশী মনোভাব বজায় রাখে- সর্বোপরি এসবকিছুই এ মসজিদের অকৃত্রিমতা এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি সঠিক আনুগত্য প্রমাণ করে।

‘শহিদুল আলমের একের পর এক মন ও মননকে নাড়া দেওয়ার মত কাজগুলো প্রত্যেককেই অবাক করে এবং ভাবিয়ে তোলে। ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কল্পনা’স ওয়ারিয়র্স’-এর পর ‘অন্যকে আলিঙ্গন’ শিরোনামে এই প্রদর্শনী এমন একটি স্থাপনার পাশে আয়োজিত হতে যাচ্ছে যা নিঃসন্দেহে প্রথাগত গোঁড়া এই সমাজকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে সক্ষম। এ সময়কার সবচাইতে অনুসন্ধিৎসু এবং সাহসী আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ইসলামাতংক এবং চরম্পন্থা মোকাবেলায় যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা যুগান্তকারী বলে আমি মনে করি’, বলেন দৃকের কিউরেটর এ এস এম রেজাউর রহমান।

দৃক পিকচার লাইব্রেরি সম্প্রতি পান্থপথে স্থানান্তর হয়েছে। দৃকের এই নতুন ঠিকানায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি গ্যালারিও। পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে চলছে শহিদুল আলমেরই আর একটি প্রদর্শনী ‘দ্য বেস্ট ইয়ার্স অফ মাই লাইফঃ বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্টস ইন মালায়শিয়া’, কিউরেট করেছেন এ এস এম রেজাউর রহমান।

দৃক পিকচার লাইব্রেরি লিমিটেড একটি পুরষ্কারপ্রাপ্ত উদ্ভাবনী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান যা কিনা এর অভাবনীয় দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য সর্বজন স্বীকৃত। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দৃকের নানাবিধ কর্মকান্ডগুলোর মধ্যে সামাজিক সচেতনতা মূলক প্রচারণা, যোগাযোগ উপাদান তৈরি, গবেষণা, এবং সর্বাধুনিক মাল্টিমিডিয়া ও প্রশিক্ষণ সেবাদান অন্যতম। দৃশ্যমান মাধ্যমের শক্তি এবং দেশি এবং বিদেশি যোগাযোগের সাহায্যে দৃক সহজেই এর সাতটি বিভাগ দৃক ইমেজেস, আলোকচিত্র, প্রকাশনা, অডিও ভিজ্যুয়াল, গ্যালারি ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, দৃক নিউজ এবং গবেষণা ও পাবলিক ক্যাম্পেইন -এর মাধ্যমে কম খরচে ওয়ান-স্টপ সেবা প্রদানে সক্ষম।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

শিল্প-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ

Hairtrade