Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ আশ্বিন ১৪২৫, শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ভোলার চরাঞ্চলে কাকড়া চাষ : সাবলম্বী হাজারো পরিবার


০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৯:০৩  পিএম

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন, ভোলা প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


ভোলার চরাঞ্চলে কাকড়া চাষ : সাবলম্বী হাজারো পরিবার
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

ভোলা : ভোলা জেলায় ধান, গম, মাছ, হাস-মুরগি ও গবাদি পশু পালনের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে কাকড়ার চাষ। ইতোমধ্যে সাদা সোনা গলদা চিংড়ির বাজার দখল করতে বাণিজ্যিকভাবে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চরফ্যাশন উপজেলায় শুরু হয়েছে কাকড়া চাষ।

কাকড়া চাষ করে সাবলম্বী হয়েছে সেখানকার অনেক চাষী। কাকড়া চাষ, শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে কয়েক হাজার মানুষ। এ সকল কাকড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হচ্ছে।

জেলার দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া, চর মন্তাজ, চর পাতিলা, চর দাতভাঙ্গ, কালকিনি, চর মানিকা, চর নিজাম, চর কুকরি-মুকরি, ঢালচরসহ মনপুরা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান রয়েছে। এসকল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে কয়েক শত ছোট-বড় খাল। এলাকাগুলো সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় লবণাক্ত পানিতে এখানে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে কাকড়া উৎপাদন হচ্ছে। এসকল খালে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ কাকড়া। বড় আকারের কাকড়া খাল থেকে ধরে বিক্রি করা হলেও ছোট কাকড়াগুলো পুকুর বা হ্যাচারিতে চাষ করছেন অনেক চাষী।

সরেজমিনে কাকড়া চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাগুলো সাগর ও নদীপ্রধান হওয়ায় খাল ও পুকুরে জাল দিয়ে হ্যাচারি তৈরি করে অনায়াসে কাকড়া চাষ করা হয়। লবণাক্ত পানির কারণে কাকড়া চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া রোগ বালাইও কম হয়। কাকড়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় কুইচ্চা কুচিলা, চেওয়া মাছ, চিংড়িগুড়া, শুটকি ও ওলুপা মাছ। খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় চাষীরাও সারাদিন কাকড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকেন পুকুর ও হ্যাচারিতে।

চর কুকরী-মুকরী এলাকার কাকড়া চাষী মো: জসিম জানান, তিনি ২০১৬ সালে এফডিবি সংস্থার সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে পুকুরে নেটজাল দিয়ে কাকড়া চাষ শুরু করেন। মাএ কয়েক মাস পর তিনি কাকড়া বিক্রি করে পুজির চেয়ে কয়েকগুণ টাকা আয় করেন। কখন থেকে তিনি কাকড়া চাষকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছেন। মো: জসিমের মতো একই এলাকার রফিক, কবির, নিরব, পলাশ, শরীফ, খোকন, শাহাবুদ্দিনসহ শতাধিক চাষী কাকড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকে এখন এ পেশায় ঝুকে পড়ছেন।

এদিকে, উপকূলে কাকড়া শিকার করেও অনেক বেকার যুবক অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়েছেন। এখানকার নদী ও খালগুলোতে কাকড়া শিকার করে অনেক পরিবার অর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। চর কচ্ছপিয়া এলাকার কাকড়া শিকারি মো: বশির উদ্দিন বলেন, তারা পরিবারের চারজন মিলেকাকড়া শিকার করেন। প্রতিদিন লোহার হাড়াস নিয়ে ভাটার শুরিয়ে যাওয়া নদী ও খালে কাকড়ার গর্ত অনুসন্ধান করে কাকড়া ধরেন। কাকড়াগুলো আড়তে বিক্রি করে তাদের সংসার ভালোভাবে চলছে।

একই এলাকার কাকড়া শিকারি মাতাহাব বলেন, আষাঢ, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন এ চার মাস অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি কাকড়া পাওয়া যায়। কখন দামও একটু কম থাকে। বর্তমানে কাকড়া কম পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। শিকারির সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। প্রতিদিন যে কাকড়া পাই তা বিক্রি করে সংসার খুব ভালো চলছে।

জানা গেছে, চাষ ও শিকার করা কাকড়া বিক্রি হয় স্থানীয় আড়তে। ১০০ গ্রাম ওজনের নিচে প্রতি পিস কাকড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা হারে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গ্রেড সাইজ হলো ২০০ গ্রাম (গর্দা) এর ওপরে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, ৩০০ গ্রামে ওজনের প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম (গর্দা) এর ওপরে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়। এসকল কাকড়া প্রতিদিন ঢাকায় চালাল করা হয়।

চর কচ্ছপিয়া ঘাটের কাকড়া ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, তার আড়তের অধীনে প্রায় শতাধিক কাকড়া শিকারি রয়েছে। চাষী ও শিকারিরা কাকড়া এনে তারা আড়তে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ঢাকা মোকামের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাকড়া কেনেন। এসকল কাকড়া প্রতিদিন লঞ্চযোগে ঢাকা পাঠান।

সেখান থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বেও ১৮ দেশে এ কাকড়া রফতানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এসকল চাষীদেও উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আথিক সহযোগিতা করা হলে কাকড়া চাষে অনেকে আরও আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলার মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কাকড়া চাষ করে অনেক চাষী সফল হয়েছেন। কাকড়া চাষের উপর সরকারিভাবে প্রকল্প করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে চাষীদেও উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।