Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ভোলার চরগুলোতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা


০১ জুন ২০১৮ শুক্রবার, ১২:৪৩  এএম

অাকতারুজ্জামান সুজন

বহুমাত্রিক.কম


ভোলার চরগুলোতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

বাংলার মোহনীয় দ্বীপ ভোলা, বিস্তৃর্ন জলরাশি, বালুকাময় সৈকত, যতদুর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, তারই সাথে হাতছানি দিতে থাকে টুকরো টুকরো নিবিড় বনভূমি, এছাড়া ও পাখির কল কাকলি এবং হরিনসহ বিভিন্ন বিরল প্রানীর এক সাথে দেখা মিলবে ভোলার তুলাতলী, চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও মনপুরাতে। চরগুলোতে যাতায়ত, থাকা, এমনকি সুপিয় পানির পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা নেই, তাই নিজ উদ্যেগেই এ সমস্ত ব্যাবস্থা করে এখানে আসতে হয়, তার পরেও প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে কষ্ট ও বিড়ম্বনা সহ্য করে বহু পর্যটক এসে ভিড় জমিয়েছেন ভোলার এ সমস্ত চরগুলিতে।

ভোলা শহরসংলগ্ন মেঘনা নদীর কুলঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত তুলাতলী বাঁধ এলাকা প্রতিদিনই ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে। বিকেলে এখানে অনেকেই দল বেঁধে, পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসছেন। তুলাতলীতে নদীর উত্তাল ঢেউ, নির্মল বাতাস আর বাহারি নৈসর্গিক প্রকৃতি, আগতদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়। দর্শনার্থীরা এখানে এসে নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ানো, নদীতে নৌকাভ্রমণ, বাঁধের ওপর সিসি ব্লকের ওপরে দাঁড়িয়ে নদীর বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পান। স্থানীয়দের উদ্যোগে এখানে শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তুলাতলী বেড়াতে আসা দর্শনার্থী সাবিনা ইয়াসমিন শিরিন বলেন, তুলাতলীর কথা অনেক শুনেছি। এবার বেড়াতে এলাম। এসে দেখলাম, সত্যি খুব সুন্দর মনোরম প্রকৃতি রয়েছে এখানে। যে কেউ এলে তার ভালো লাগবে।তবে এখানে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার স্থান নেই। কর্তৃপক্ষের এ দিকগুলোতে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

ভোলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের উপকন্ঠে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে উঠা চর কুকরি-মুকরিতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বন্যপ্রানীর অভায়ারন্য। মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস স্বপ্নের দ্বীপ কুকরি-মুকরিকে সাজিয়েছে সাজের সমারোহে। চিত্রা হরিন, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বন্য মহিষ-গরু বন বিড়াল, ইত্যাদি, আর পাখি ও সরিসৃপ হিসাবে বিভিন্ন প্রজাতির বক, বন মোড়গ, শঙ্খচিল, মথুরা, কাঠময়ুর , কোয়েল, গুইসাপ, বেজি, কচ্ছপ ইত্যাদি প্রানী চর কুকরি-মুকরির বনে দেখা যায়। কুকরি-মুকরির প্রধান আকর্ষন সাগর পাড়, এখানে উত্তাল ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখলেই মনে পড়ে যাবে কক্সবাজার কিংবা সমুদ্র সৈকতের কথা, এছাড়া ও এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত ও সূর্য ডোবার দৃশ্য ভ্রমন পিপাসুদের মুগ্ধ করবে।

ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, ক্যাম্পিং করার জন্য প্রশস্ত বিচ আর নিরব শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। পাশেই আছে মনপুরা। ঘন বন, লোকালয়ের কোলাহল থেকে দূরে, নানা বণ্যপ্রাণির অবাধ বিচরণের মাঝে প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য পেতে প্রায়ই এখনে ভ্রমণ করেন অসংখ্য মানুষ।

চর কুকরি-মুকরিতে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ডিজাইনার তানজির রনি বলেন, এই জায়গাটা খুবই সুন্দর, প্রশস্ত বিচ, পশু পাখি, বানর এসব দেখতে খুব ভালো লাগছে, তবে, এখানে আসা যাওয়ার রাস্তা খুবই খারাপ, একটি ভালো লঞ্চের ব্যাবস্থা থাকলে পর্যটকদের এখানে আসার আগ্রহ ও বিভিন্ন এলাকার সাথে যোগাযোগ বেড়ে যেতো।

ভোলা জেলার সর্বদক্ষিণের দ্বীপের নাম ঢালচর।এটি চরফ্যাশন উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন। দেশের বৃহত্তম দুটি সমুদ্র সৈকতের পরে ঢালচর দ্বীপের তারুয়া এলাকাটি তৃতীয় সমুদ্র সৈকত হিসেবে স্থান পেতে পারে বলে জানিয়েছেন ভ্রমণকারীরা। 

প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, তারুয়ার পুরো দ্বীপটি দেখার স্বাদ যেন অপূর্ণ-ই রয়ে যায় কারো কারো। যে প্রান্তেই চোখ যায় সেদিকেই যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম দৃশ্য। দ্বীপজেলায় এমন প্রকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি রয়েছে তা স্ব-চক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবেনা।

ভোলা থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা। এখানে সকাল বেলার সূর্য যেমন হাসতে হাসতে পুর্বদিকে ডিমের লাল কুসুমের মত উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকেল বেলাতেও আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায়। মনপুরাতে এসেই কেবল সুর্যোদয় ও সুর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করা যায়। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচেছ ম্যনগ্রোভ প্রজাতির সারিসারি বাগান।

স্থানীয় ব্যাবসায়ী মোঃ আবদুর রহিম বলেন, এখানকার অপার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষ তেমন ভাবছেননা। তাছাড়া শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে এ দ্বীপের সম্ভাবনা মূল স্রোত থেকে অনেক দুরে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, এই সমস্ত চরের পরিবেশগুলোকে আরো ভালো ও উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে পর্যটকরা এসে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে প্রাকৃতিক পরিবেশগুলো উপভোগ করতে পারে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।