Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

বৃষ্টিতে খুলনায় আমন ও সবজির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা


২১ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার, ১০:০৯  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


বৃষ্টিতে খুলনায় আমন ও সবজির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

খুলনা : দু’দিনের অবিরাম বর্ষণে খুলনাসহ আশপাশের জেলা উপজেলার স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ছেদ পড়েছে। ভারি বর্ষণে নিচু এলাকার ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে আমন ধান ও সবজি ক্ষেতের। তাছাড়া অধিকাংশ ঘেরের বেড়িবাঁধ তলিয়ে গেছে। যদিও মৎস্য চাষীরা বেড়িবাঁধের উপর ঘন নেট দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত এ অঞ্চলে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খুলনা আবহাওয়া অফিস। তবে রোববার থেকে আবহাওয়ার স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে অবিরাম বর্ষণ। কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো ভারি বর্ষণ চলছে।

শুক্রবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। শুক্রবার রাতভর আরো ভারি বর্ষণ হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে ভারি বর্ষণ কমলেও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জনজীবনে ছন্দপতন হচ্ছে। দিনমজুর শ্রেণির মানুষেরা কাজে যেতে পারছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, জেলা চলতি মৌসূমে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান ও প্রায় সাড়ে তিন হাজার জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি রয়েছে। সবজি প্রধান জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন মরিচ, শীতকালীন আগাম বাধা কপি, ফুলকপি, মুলা, সিম ও পালং শাকসহ বিভিন্ন সবজি রয়েছে। অতি বর্ষণের ফলে বেশিরভাগ ক্ষেতের সবজি ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা।

এদিকে ভারি বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন মাঠঘাটের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমন ধান ক্ষেতের সাথে নুইয়ে পড়েছে। ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সবজি চাষিরা।

শোভনা গ্রামের কফি চাষি আব্দুল মালেক বলেন, আমার দুই বিঘা জমিতে বাধা কফি রয়েছে। ক্ষেতের কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে আছে। রোদ উঠলে কিছু কফি গাছ মারা যাবে। বিঘায় ৬০ হাজার টাকা লাভ আশা করেছিলাম। এখন সে লাভ ১৫-২০ হাজার টাকায় নেমে আসবে।

মির্জাপুর গ্রামের চাষি গোবিন্দ মন্ডল বলেন, চার বিঘা আমন ধান রয়েছে। কয়েক দিন আগে থেকে শিষ বের হওয়া শুরু হয়। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের ফলে প্রায় তিন বিঘা ধান পড়ে গেছে। এতে ধানের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। ধানের দানা কমে চিটার পরিমাণ বেশি হতে পারে।

জেলার গুটুদিয়া গ্রামের মাছ চাষী মাহপুজ শাহরিয়ার জানায়, ভেলকামারী বিলের তার মৎস্যঘেরের ভেড়িবাধের উপর পানি উঠে গেছে। তাতে বেড়িতে রোপনকৃত সবজির ক্ষতি হয়েছে। ঘেরের বেড়িতে নেট দিয়ে আটকানো হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আমিরুল আজাদ বলেন, গত দু’দিন যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তা এ মৌসুমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ঢাকার আবহাওয়া অফিসের হিসেবে রবিবার থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমন ধানের ক্ষেতে যে ধানগাছ পড়ে গেছে তাতে ক্ষতি হতে পারে। তবে পানি নেমে গেলে খুব সমস্যা হবে না। ক্ষেতের পানি নিষ্কাষনের জন্য চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবিরাম এই এ ওই বর্ষায় শীতকালিন আগাম সবজি , সবজির বীজতলা ও পেপে বাগান ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হবে। ডুমুরিয়াতে প্রায় ১০০ হেক্টর (১ হেক্টর= ২.৪৭ একর) জমি ক্ষতির মুখে।

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রী জানান, মৎস্যখাতে এখন পর্যন্ত তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে অধিকাংশ ঘেরের বেড়িবাঁধ জলমগ্ন হয়েছ্ চাষিরা বেড়িবাধে ঘন জাল দিয়ে মাছ ও চিংড়ি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

কৃষি -এর সর্বশেষ

Hairtrade