Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ২:২৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

বিলুপ্তির পথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্টির মাতৃভাষা


২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:১৯  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


বিলুপ্তির পথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্টির মাতৃভাষা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : চা বাগান আর পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত সিলেট বিভাগে বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠি ও ভাষাভাষির মানুষ রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি, প্রথা ও উৎসব বাঙালিদের মুগ্ধ করলেও নিজেদের নানা সমস্যার মধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব জাতিগোষ্ঠির নিজস্ব মাতৃভাষা।

প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকেন্দ্র ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ার কারণে তাদের মাতৃভাষা এবং নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রয়েছে হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজেদের মাতৃভাষা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন সংশ্লিষ্টরা দাবি তুলেছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেটে আদিবাসী তালিকায় খাসিয়া, গাঢ়ো, ত্রিপুরা, মুন্ডা, সাওতাল, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, মৈতৈ মণিপুরীসহ ১৩ টি সম্প্রদায় রয়েছে। এর বাইরে চা বাগানে তেলেগু, রবিদাস, কৈরী সহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির বসবাস। তাদের অধিকাংশরা পাহাড়, টিলার পাদদেশে, বনজঙ্গলে কিংবা সমতল ভ‚মিতে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবন যাপন করছেন।

দেশে অর্থনৈতিকভাবে তাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকার সহ জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার পাশাপাশি নিজেদের মাতৃভাষাকেও হারাতে বসেছেন। নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক মাতৃভাষা চর্চাকেন্দ্র না থাকা, সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাব, বাড়িঘর সহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার সব মিলিয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্টির মাতৃভাষার অধিকার হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

লাউয়াছড়া উদ্যানের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা একাডেমিক ব্যবস্থা না থাকার কারনে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা না পেলে এসব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অদূর ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ভাষা চর্চা রাখার জন্য অধিকাংশ পুঞ্জিতে নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল সমূহে খাসিয়া ভাষা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া প্রত্যেক সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে আসছি।

লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ও ক্ষুদ্র ভাষাভাষির মানুষ আছে। আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃতি বাড়ার সাথে সাথে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠি তাদের নিজস্ব ভাষার প্রতিও দায়িত্ববোধ বেড়ে গেছে। অনেকেই নিজস্ব ভাষা চর্চা করেন না। ফলে বাংলা ভাষা তাদের গ্রাস করছে।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী আদিবাসী ফিলা পত্মী বলেন, বৃহত্তর সিলেটের ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির মধ্যে হবিগঞ্জের আলীয়াছড়া ও জাফলং এর নকশিয়ার পুঞ্জিতে দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর সরকারি কোন বিদ্যালয় নেই। তবে খাসিয়াদের চাঁদায় পরিচালিত হচ্ছে কয়েকটি কমিউনিটি বিদ্যালয়ে নিজস্ব ভাষা চর্চার চেষ্টা চলছে। কমলগঞ্জের মহারাজ গম্বীর সিংহ মোমোরিয়াল এন্ড রিসার্চ সেন্টার এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফাল্গুনী সিংহ বলেন, স্কুল বা ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাতৃভাষা চর্চাকেন্দ্র এবং সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকার কারনে মণিপুরী সহ সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্টির ভাষা হারিয়ে যাওয়ার পথে।

ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগানের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অপূর্ব নারায়ন ও চা বাগান থেকে প্রকাশিক মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানে আমাদের অসংখ্য ভাষাভাষির লোকদের মধ্যে বাংলা ভাষায়ই অধিকাংশরা কথা বলেন। নিজস্ব মাতৃভাষা কেউ ব্যবহার না করার কারনে এবং বাড়িঘরেও চর্চা না করার কারনে আমাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সরকারি পৃষ্টপোষকতায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মাতৃভাষা চর্চা কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।