Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১০ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

বিচার কার্যে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি


০৪ জুন ২০১৬ শনিবার, ১০:২২  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


বিচার কার্যে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক শাখা হিসেবে উল্লেখ করে বিচারকগণ গণতন্ত্র, দেশ এবং জনগণের স্বার্থে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আন্তরিকতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র বিকাশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে শুধুমাত্র ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বিচার বিভাগের উপর জনগণ আস্থা হারাবে এবং আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্রপতি আজ এখানে অনুষ্ঠিত আইন কমিশনের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাহী বিভাগ, সংসদ এবং বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্তম্ভ। জনগণের মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ তিনটি স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে আমি মনে করি, জনগণ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ সবের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি স্তম্ভ একে অপরের উপর নির্ভরশীল।

রাষ্ট্রপতি সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে বিনা বিচারে অথবা ভুল রায় অথবা কারাভোগের মেয়াদ শেষের পরও কারাগারে আটক থাকা সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা তার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, আইনের শাসনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকেই সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আন্তরিক হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জনগণের কল্যাণে পুরানো আইনের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আইন কমিশন ১৮৭২ সালের সাক্ষী আইনের সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই আইনের খসড়া বাংলায় করা হয়েছে। আমি মনে করি এই কাজ সম্পন্ন হলে এবং বাস্তবায়িত হলে বিচার কার্য দ্রুত ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হবে একটি বিশাল অর্জন। তিনি বলেন, অধিকাংশ আইন সেকেলে। এই আইন দিয়ে বিচার কার্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। ফলে এ সকল আইন এখন সংস্কার করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, জনগণ এবং তাদের কল্যাণের জন্য আইন। আইন সংস্কারের প্রস্তাবে এবং পরামর্শে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে, এ বিষয়ে কমিশনকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক, জুডিসিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচার প্রতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অপর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামোসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলেন, বিচার বিভাগের কর্মকান্ডে গতি আনতে এ সকল সমস্যা দূর করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে ৪৪ বছর পর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করা হচ্ছে। সরকার সকল আর্ন্তজাতিক আইন অনুসরণ করে এই বিচার করছে। দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে।

সূত্র: বাসস

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

আইন -এর সর্বশেষ

Hairtrade