Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ আষাঢ় ১৪২৫, শুক্রবার ২২ জুন ২০১৮, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

বাংলাদেশে নগরদরিদ্ররা কতটা সুযোগ পাচ্ছেন?


২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৩  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


বাংলাদেশে নগরদরিদ্ররা কতটা সুযোগ পাচ্ছেন?

ঢাকা : বাংলাদেশে দারিদ্র কিংবা দুর্যোগের কারণে যারা শহরমুখী হয়ে বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছেন, তারা তাদের জীবনমান উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছেন না।

বিশেষত: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সামাজিক সুরক্ষা না থাকায় দিনের পর দিন তাদের জীবনধারা একইরকম থাকছে।

ফলে দেশে সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নগরদারিদ্র বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এসব মানুষকে বিশেষ সহায়তা না দিলে তাদের পক্ষে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়।রাজধানীর কালশীতে বেগুনটিলা বস্তির ভেতরে ছোট্ট একটি ঘরে রান্নার জোগাড় করছিলেন মর্জিয়া বেগম।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, দশ বছর আগে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলায় নদীভাঙ্গনে সব হারানোর পর থেকে এই বস্তিতেই থাকছেন মার্জিয়া বেগম ও তার পরিবার।

ভোলায় তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি সবই ছিলো। এখন বস্তিতে অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের।

মার্জিয়া বেগম বলছিলেন, "আমাদের নিজের বাড়ি ছিলো, বড় বড় ঘর ছিলো, আবাদের জমি ছিলো। নদী ভাঙ্গার পর সব শেষ। এইখানে একরুমে আমরা এখন ৬ জন থাকি। আলাদা রুম নেয়ার টাকা নাই।"

এই বস্তিতেই ফরিদপুর থেকে এসে বিশবছর ধরে আছেন ভূমিহীন পরিবারের হোসেন আলী। ঢাকার রাস্তার সিএনজি চালান তিনি।

দীর্ঘ বিশ বছরে তিন সন্তান নিয়ে তার উন্নতি বা সফলতা বলতে খেয়ে পরে কোনমতে বেঁচে থাকতে পারা।

তিনি বলছিলেন, "আমার উন্নতি বলতে কিছুই নাই। খাইয়া-লইয়া সমান সমান। আমি যে কাজ করি, আমার ছেলেরা আরো নিচের কাজ করে। উন্নতি হইলো কই?"

২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বস্তিবাসীদের নিয়ে একটি জরিপ করে।

সেই জরিপে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোর বস্তি এলাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

১৯৯৭ সালে সংখ্যাটি ছিলো ১৩ লাখ ৯১ হাজার। ২০১৪ সালে তা প্রায় ৮ লাখ বেড়ে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৩২ হাজারে।

জরিপে দেখা যায়, বস্তিগুলোতে যারা থাকেন তাদের অর্ধেকই শহরে আসেন কাজের খোঁজে। বাকি ৩৫ শতাংশ আসেন দারিদ্র ও নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়ে।

কিন্তু শহরে আসার পর তাদের জীবনমানে খুব একটা উন্নতি হয় না।নগরদারিদ্র গবেষক ও পাওয়ার অ্যন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এর নির্বাহী সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, দারিদ্রের শিকার এসব মানুষের জন্য যে ধরণের সামাজিক সুরক্ষা দরকার ছিলো তা নেই।

তিনি বলছিলেন, "শহরগুলোতে একধরণের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। ফলে মানুষজন এখানে আসছে। কিন্তু ঐ কর্মসংস্থান থেকে তারা যে আয় করছে, সেই আয় থেকে তাদের মানসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ হচ্ছে না। পরিবেশ, নগরনীতি, আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, এলিট শ্রেণির ব্যবহার সবিকিছু মিলয়েই এটা হচ্ছে।"

নগরদরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয় মূলত: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে।

কিন্তু নগরদরিদ্রদের সেই সুযোগ কোথায়?

যেমন, মহাখালির কড়াইল বস্তিতে এসে দেখা গেলো সেখানে শিক্ষার সুযোগ বলতে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু ছোট ছোট স্কুল।

যেগুলোতে মূলত: পড়ানো হয় পঞ্চম শ্রেণি, কোন কোন ক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর আর পড়ানোর সুযোগ নেই।

বিবিসি বাংলা 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।