Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

‘বাংলাদেশের বিমানবন্দরের আধুনিকায়নে অংশীদার হতে পারে ভারত’


২৫ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ০২:১১  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


‘বাংলাদেশের বিমানবন্দরের আধুনিকায়নে অংশীদার হতে পারে ভারত’
ছবি : ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা : বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নে ভারতের বেসরকারি খাত অংশীদার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। 

মঙ্গলবার রাজধানীতে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে ইন্ডিগোর ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

হাই কমিশনার বলেন, ‘দু’দেশের মধ্যকার বর্ধিত বিমান চলাচলে প্রয়োজন আরও উন্নত অবকাঠামো। এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশই অংশীদার হতে পারে। ভারত ইতোমধ্যেই তৃতীয় ঋণরেখার আওতায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশের সাথে কাজ করছে। ভারতের বেসরকারী খাত বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নে অংশীদার হতে পারে এবং যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয়ে ভূমিকা পালন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ধরনের পরিবহণ সংযোগ সৃষ্টি ও সেজন্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সংযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা অসাধারণ উন্নতি সাধন করেছি। ইন্ডিগোর ফ্লাইট উদ্বোধন সংযোগ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে একটি মাইলফলক।’ 

‘আপনারা হয়তো জানেন যে, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী সপ্তাহে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট ভারতের নয়াদিল্লী, কোলকাতা, মুম্বাই এবং চেন্নাইসহ বিভিন্ন শহরকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে যুক্ত করছে। এটি একটি ভাল দিক যে, দুই দেশের এয়ারলাইন্সসমূহ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন ফ্লাইট চালু করছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী নতুন ফ্লাইটসমূহ দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে। নতুন এয়ারলাইন্সের সংযুক্তি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করছে যা গ্রাহকদের জন্যও অনেক সুবিধা বাড়াচ্ছে। ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা সেক্টরে চলাচলকারী চারটি করে এয়ারলাইন্স রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের’-বলেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

হাই কমিশনার বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন রুটে বিমান পরিচালনায় আমাদের এয়ারলাইন্সসমূহের বর্ধিত আগ্রহ দু’দেশের মধ্যকার ব্যবসা, বাণিজ্য ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগে যে উন্নতি হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায়। আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৬-১৭ সালে তা ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। গত দুই বছরে, বাংলাদেশ থেকে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ভারতে ভ্রমণ সুবিধা দিতে এবং ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ এখন ভারতের পর্যটক আগমণের সবচেয়ে বড় উৎস এবং ভারতের মোট পর্যটকের ১৬% আসে বাংলাদেশ থেকে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে, ভারতের গৃহমন্ত্রীর সফরের সময় আমরা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেছি। এটি ভবিষ্যতে ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সুবিধাজনক হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আরও উল্লেখ করতে চাই যে, উভয় দেশেরই বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দ্রুত উন্নয়ন ও পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল সম্বন্ধীয় বিভিন্ন বিষয়ে যেমন- ধারণক্ষমতা (বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৬১টি, প্রতি দেশের জন্য), বিমান চলাচলের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর হালনাগাদকরণ এবং মুক্ত আকাশনীতি বাস্তবায়ন সম্ভাবনা আলোচনা প্রয়োজন।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এ. কে. এম. শাহজাহান কামাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ ‘র চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান, ইন্ডিগো’র প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা উইলিয়াম বোল্টার প্রমূখ। 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।