Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৩ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৮ জুলাই ২০১৮, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

বছরজুড়ে বন্যা ও ফসলহানিতে কাবু সিলেটের কৃষকরা


০১ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার, ০৩:১০  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


বছরজুড়ে বন্যা ও ফসলহানিতে কাবু সিলেটের কৃষকরা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

সিলেট : বিদায় নেয়া ঘটনাবহুল ২০১৭ সালে বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সর্বাধিক আলোচিত ছিল নিন্মাঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ফসলহানি। অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় গত বছরে বোরো, আউশ ও আমন ফসলহানির কারনে বছর জুড়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন কৃষকরা। চলতি শুষ্ক মৌসুমেও নদী ছড়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ও অপরিকল্পিত ক্রসবাঁধ, স্লুইসগেট, মেশিনে বালু উত্তোলন, নদী শাসন ও নানা অত্যাচারে নদী, ছড়া, জলাশয় সংকোচন, ভরাট হচ্ছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

কৃষকরা বলেন, গত বছরের চৈত্র মাস থেকে শুরু করে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিন্মাঞ্চলে হাওর-বিল সমুহে বোরো ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জে বন্যায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গোটা হাওর জুড়ে তছনছ হয়ে পড়ে। দুষিত হয়ে পড়ে পানি। ফসলি ধান পঁচে মাছ, ব্যঙ, সাপ মরে পানিতে ভেসে উঠে। পরবর্তীতে হাওরের হাঁসের মড়ক শুরু হয়। হাওর পারের বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হয় হাহাকার। প্রকৃতির বিরূপ আচরনে একের পর এক ফসল বিনষ্ট হয়। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। এমনকি গো-খাদ্যেরও তীব্র সংকট দেখা দেয়। নৌকা বোঝাই করে শুরু হয় গবাদি পশু বিক্রির হিড়িক। অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটে কৃষক সাধারণের। টিভি, সংবাদ মাধ্যমে হাওরে ফসলহানির এসব শিরোনাম হয়ে উঠে। দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বোরো ফসল ছাড়াও অসময়ে পানি এসে আউশ, আমন ও আগাম সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়ে পড়ে। কৃষকের দিন কেটেছে অভাব, অনটন আর নানা বঞ্চনার মধ্য দিয়ে। সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু-ধলাই সহ সবকটি নদীর বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকদফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিলেটের নি¤œাঞ্চল এলাকার লোকজন। নদীর বাঁধ মেরামত না হওয়ায় ও নি¤œাঞ্চলে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় অসময়ে বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছর জুড়ে মার খেয়েছে বোরো, আউশ, আমন ও সবজি ক্ষেতের। আর্থিকভাবে দু’তিন দফা ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা।

এদিকে নানা অপতৎপরতার কারনে হাওর, নদী, বিল ও জলাশয় সংকোচন, ভরাট হতে চলেছে। বর্ষা মৌসুমে নদী, খালে বাঁশের খাঁটি, কারেন্ট জালের অবাদ ব্যবহার শুরু হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদী, খাল ও জলাশয় সমুহ সেচ দিয়ে মাছ শিকার, ক্রসবাঁধ, ড্রেজার ও মেশিন যোগে পলিবালি উত্তোলন এসব অবৈধ ও অপরিকল্পিত কারনে নদী শাসন, অথ্যাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষক ছাদ্দেক মিয়া, কনা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার যা ইচ্ছে মতো নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি সুবিধা নিয়ে চাষাবাদ করছে। অন্যের ক্ষতি হলো কিনা তা দেখার কেউ নেই। কোন পরিকল্পনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া ঘন ঘন বাঁধ দেয়ায় নদী ধ্বংস হয়ে পড়বে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক দুরুদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান চিনু, সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান ও যুগ্ম সচিব আনোয়ার খান বলেন, বিদায়ী বছর জুড়ে এই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত বোরো ফসল তলিয়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সংঘটিত হয়ে ধলাই, লাঘাটা নদীর বাঁধ মেরামত, খনন ও সংস্কার, কৃষকদের প্রণোদনা সহ কয়েকটি দাবিতে মে মাসে ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দু’দফা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, বিগত বছর জুড়ে বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আউশ, আমন ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ

Hairtrade