Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ পৌষ ১৪২৫, সোমবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

পেরুয়া-শ্যামারচরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদল


২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার, ০১:০১  এএম

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


পেরুয়া-শ্যামারচরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদল
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় বহুল আলোচিত পেরুয়া-শ্যামারচর গণহত্যার এলাকা ৩ দফা তদন্ত শেষে এবার পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মাসুম ও রিজিয়া সুলতানা।

গত রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা নুর হোসেনসহ সংস্থার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত দল ১৯৭১ সালে দিরাইয়ের শ্যামারচর গনহত্যাস্থল পরির্দশন করেন। এসময় উপজেলার পেরুয়া-শ্রামারচর এলাকায় সবার সাথে কথা বলেন।

পরে সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ চত্তত্বে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। আর্ন্তজাতিক যুদ্ধা অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মাসুম বলেন, খুব শিগগির সুনামগঞ্জের শ্রামারচর গনগত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এখন এসেছি কোন নিরাপরাধ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য।

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময় সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার পেরুয়া-শ্যামারচর গণহত্যার আর্ন্তজাতিক যুদ্ধাঅপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। তৃতীয় বার তদন্তকারী দল দিরাইয়ের শ্যামারচর এলাকা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে সঠিক অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আমরা দৌলতপুর, পেরুয়া, শর্মা, দাউদপুর, শ্যামারচর ও উজানীগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কথা বলে, প্রতক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যারা দেশের মুক্তিকামী মানুষ কে নির্বিচারে হত্যা করেছে তাদের কে আইনে আওতায় আনার জন্য প্রকৃত হত্যাকান্ড উদঘাটন করে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পাকহায়নারা ও তাদের সহযোগী বাঙ্গালি দালালরা যেসব বর্বরোচিত কয়েকটি হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটিয়েছিল এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিল দিরাই উপজেলার পেরুয়া-শ্যামারচর গণহত্যা। এখানে ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর শতাধিক নারীকে ধর্ষণ ও ৬০-৭০ জন নিরীহ বাঙ্গালি গণহত্যার শিকার হয়। কয়েক শত বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করা হয়।

দিরাই থানা ও হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানটি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রাজাকারদের ক্যাম্প। এখানেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এলাকার রাজাকারদের সহযোগীতায় নিরীহ মানুষদেরকে এনে অত্যাচার করত। শ্যামারচরের পাশে এলংজুড়ির টর্চারসেল হিসাবে পরিচিত জলদারপুতায় ও শাল্লা উপজেলা সদরের যেখানে ১৯৭১ সালে আর্মি ক্যাম্প ছিল (হিন্দু সম্প্রদায়ের আখড়া) এবং রাজাকার ক্যাম্প ছিল (বর্তমান শাল্লা থানা)।তদন্তকালে প্রতক্ষদর্শী ও এই এলাকার বিরাঙ্গনাদের সাথে আলাদা আলাদা সাক্ষাৎকার নেন দলের সদস্যরা। 

রাজাকারদের তালিকা তৈরী ও গ্রাম ভিত্তিক রাজাকারদের তালিকা তৈরী করার জন্য ইউনিয়ন কমান্ডাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর শ্যামারচর-পেরুয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান ও রজনী কান্ত রাজাকাদের বিরোদ্ধে ৭২ সালে দালাল আইনে মামলা করে। মামলা দেওয়ার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে গত বছরের প্রথম বার গত ১ ও ২জুন ২০১৬ তদন্তকারী দল ও দ্বিতীয় বারের মত গত ২০, ১০, ১৬ থেকে ২২, ১০, ১৬ পর্যন্ত ও তৃতীয় দফা মঙ্গলবার তদন্ত করেছেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাগন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, অনেকেই নিজেদের লজ্জায় সামনে আসেন নি। সেই বর্বরচিত হত্যা কান্ডের কথা স্বরন হলেও এখনো সেই হত্যা কান্ডের সাথে জরিতরা এখনো বেঁচে থাকায় ও প্রভাবশালী হওয়ায় এবং কেউ কেউ স্বাধীনতার পর বর্তমানে শক্ত অবস্থানে থাকার কারনে মুখ খুলতে সাহস পায় না অনেকেই।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।